অ্যাপেলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এখন বাস্তব। প্রায় ১৫ বছর CEO হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর টিম কুক সেই পদ ছেড়েছেন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে জন টার্নাস অ্যাপেলের নতুন CEO হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
তবে টিম কুক অ্যাপেল ছেড়ে যাচ্ছেন না। তিনি এখন প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন।
অ্যাপেলের অফিসিয়াল নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘোষণা অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই পরিবর্তন হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই জন টার্নাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে অ্যাপেলের পণ্য উন্মোচনের সময়সূচিতে পরিবর্তন নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, তা জানতে TechnicalBD এর জন টার্নাসের CEO পরিবর্তন ও আগাম ম্যাক উন্মোচন বিষয়ক প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।
টিম কুকের CEO অধ্যায় কতদিনের
টিম কুক ২০১১ সালের আগস্টে অ্যাপেলের CEO হন। তখন স্টিভ জবসের পর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু কুকের সময়ে অ্যাপেল শুধু আইফোনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আটকে থাকেনি।
অ্যাপেলের বর্তমান টিম কুক নেতৃত্ব পাতায় বলা হয়েছে, তিনি ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত CEO ছিলেন। তার সময়েই Apple Watch, AirPods এবং Vision Pro এর মতো নতুন পণ্য শ্রেণি এসেছে।
অ্যাপেলের সেবা ব্যবসাও তার সময়ে বড় হয়েছে। iCloud, Apple Pay, Apple TV এবং Apple Music এর মতো সেবা প্রতিষ্ঠানের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
টিম কুকের নেতৃত্বে অ্যাপেল নিজস্ব প্রসেসরের দিকেও বড় পরিবর্তন আনে। Mac এ Apple Silicon এবং আইফোনে নিজস্ব চিপ উন্নয়নের মাধ্যমে কোম্পানি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে।
এই পরিবর্তনের বর্তমান উদাহরণ জানতে TechnicalBD এর A20 Pro এবং অ্যাপেলের ২ ন্যানোমিটার আইফোন চিপ বিষয়ক প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।
অ্যাপেল ইন্টেলিজেন্স ও সিরির চ্যালেঞ্জ
টিম কুকের শেষ কয়েক বছরে অ্যাপেলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এআই। প্রতিদ্বন্দ্বীরা দ্রুত জেনারেটিভ এআই আনলেও অ্যাপেলের নতুন সিরি ও অ্যাপেল ইন্টেলিজেন্স পরিকল্পনা তুলনামূলক ধীরে এগিয়েছে।
২০২৬ সালে নতুন সিরি এআই চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ব্যক্তিগত তথ্যের প্রেক্ষাপট বোঝা, পর্দার তথ্য বিশ্লেষণ এবং অ্যাপের ভেতরে কাজ করার মতো নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে TechnicalBD এর নতুন সিরি এআই ও ব্যক্তিগত সহকারীর পরিবর্তন প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।
জন টার্নাস এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন যখন এআই, ভাঁজযোগ্য ডিভাইস, নতুন প্রসেসর এবং পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটিং নিয়ে অ্যাপেলকে একসঙ্গে অনেক জায়গায় প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
জন টার্নাস কে
অ্যাপেলের অফিসিয়াল জন টার্নাস নেতৃত্ব পাতায় তাকে বর্তমান CEO এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি ২০০১ সালে অ্যাপেলের পণ্য নকশা দলে যোগ দিয়েছিলেন।
২০১৩ সালে তিনি হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০২১ সালে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী দলে যোগ দেন। আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড, AirPods ও Apple Watch এর বিভিন্ন প্রজন্মের উন্নয়নে তিনি যুক্ত ছিলেন।
অ্যাপেল বলছে, পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা, স্থায়িত্ব, নতুন উপাদান এবং মেরামতের সুবিধা বাড়ানোর কাজেও টার্নাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এ কারণে তার CEO হওয়া অ্যাপেলের হার্ডওয়্যার পরিকল্পনার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের আইফোন কেমন হতে পারে তা জানতে আইফোন ১৮ ও Galaxy S26 Ultra তুলনা প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।
টিম কুক এখন কী করবেন
টিম কুক এখন এক্সিকিউটিভ চেয়ার হিসেবে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে থাকবেন। অ্যাপেল জানিয়েছে, তিনি কোম্পানির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহায়তা করবেন এবং বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগেও ভূমিকা রাখবেন।
এর অর্থ CEO পরিবর্তন হলেও টিম কুকের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি কোম্পানির বাইরে চলে যাচ্ছে না। বরং জন টার্নাসের নেতৃত্বের শুরুতে তিনি একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবেন।
এ ধরনের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ কারণ অ্যাপেলের পণ্য পরিকল্পনা কয়েক বছর আগে থেকেই তৈরি হয়। তাই নতুন CEO দায়িত্ব নিয়েই আইফোন বা ম্যাকের পুরো কৌশল বদলে দেবেন এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়।
টিম কুকের সময়ে অ্যাপেল কতটা বদলেছে
অ্যাপেলের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, টিম কুকের সময়ে সক্রিয় ডিভাইসের সংখ্যা ২৫০ কোটির বেশি হয়েছে এবং কোম্পানির সেবা ব্যবসা বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
Wearables অ্যাপেলের বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। Apple Watch এখন শুধু নোটিফিকেশন দেখার ঘড়ি নয়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর বর্তমান উদাহরণ জানতে TechnicalBD এর Apple Watch Series 12 এর হৃদস্পন্দন পরীক্ষার ফল সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।
গোপনীয়তা, নিজস্ব চিপ, সেবা ব্যবসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণও টিম কুকের সময়ের বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে পড়ে।
বাংলাদেশের অ্যাপেল ব্যবহারকারীদের জন্য এর মানে কী
CEO পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে আইফোনের দাম বা পণ্যের সহজলভ্যতা রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাপেলের পণ্যের দিকনির্দেশ বদলালে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরাও তার প্রভাব অনুভব করবেন।
বিশেষ করে নতুন আইফোন, ম্যাক, অ্যাপেল ওয়াচ এবং এআই সুবিধা কোন বাজারে কখন আসছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে অনেক অ্যাপেল পণ্য অনানুষ্ঠানিক বাজারের মাধ্যমে আগে পৌঁছায়।
অ্যাপেলের সফটওয়্যার ও ডিভাইসের নতুন সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে iOS 27, iPadOS 27 ও macOS 27 ইনস্টল করার নির্দেশিকা পোস্টটিও কাজে লাগতে পারে।
শেষ কথা
টিম কুকের CEO অধ্যায় শেষ হওয়া অ্যাপেলের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন। ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তার সময়ে কোম্পানি নতুন পণ্য শ্রেণি, সেবা ব্যবসা, নিজস্ব চিপ এবং বড় বৈশ্বিক ডিভাইস ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।
এখন জন টার্নাসের সামনে বড় পরীক্ষা হলো সেই ভিত্তি ধরে রেখে এআই, নতুন হার্ডওয়্যার এবং ভবিষ্যতের কম্পিউটিংয়ে অ্যাপেলকে কত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।
টিম কুক এক্সিকিউটিভ চেয়ার হিসেবে থাকায় পরিবর্তনটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়। বরং পুরোনো অভিজ্ঞতা রেখে নতুন CEO এর হাতে দৈনন্দিন নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন।
আপডেটেড: ১ অক্টোবর ২০২৬

