হোমমোবাইলHelio 150 বাংলাদেশে ২৭,৪৯৯ টাকা, সঙ্গে 7000mAh ব্যাটারি ও 120Hz AMOLED পর্দা
ক্যাটেগরি:

Helio 150 বাংলাদেশে ২৭,৪৯৯ টাকা, সঙ্গে 7000mAh ব্যাটারি ও 120Hz AMOLED পর্দা

বাংলাদেশের বাজারে Helio নতুন Helio 150 স্মার্টফোনটি নিয়ে এসেছে। বড় ব্যাটারি, AMOLED পর্দা আর MediaTek Helio G200 প্রসেসর সামনে রেখে ফোনটি মূলত মাঝারি বাজেটের ক্রেতাদের জন্য বানানো হয়েছে। বাংলাদেশে এর ঘোষিত দাম ২৭,৪৯৯ টাকা।

এই দামে ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক 7000mAh ব্যাটারি। সঙ্গে আছে 120Hz AMOLED পর্দা, 8GB RAM আর 128GB স্টোরেজ। একই বাজেটের অন্য ফোনের সঙ্গে তুলনা করতে চাইলে Symphony Innova 40 এর দাম ও স্পেসিফিকেশন দেখে নিতে পারেন।

বাংলাদেশে Helio 150 এর দাম

বাংলাদেশে Helio 150 এর ঘোষিত দাম ২৭,৪৯৯ টাকা। Helio-র আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় এই দাম জানানো হয়েছে, তাই ফোনটির মূল ঘোষিত মূল্য হিসেবে এটিই ধরা যায়।

তবে দোকান, অফার বা সময়ভেদে আসল বিক্রয়মূল্যে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। কেনার আগে স্যামসাংয়ের মতো বড় ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও যেমন করা হয়, তেমনি Helio-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বর্তমান দাম জেনে নেওয়াই ভালো।

Helio 150 এর প্রধান স্পেসিফিকেশন

Helio 150 এ আছে 6.83 ইঞ্চি AMOLED পর্দা, 120Hz Refresh Rate, MediaTek Helio G200 প্রসেসর, 8GB RAM আর 128GB স্টোরেজ। বড় 7000mAh ব্যাটারি আর 45W চার্জিংও ফোনটির প্রধান আকর্ষণ।

বিষয় তথ্য
পর্দা 6.83 ইঞ্চি AMOLED
Refresh Rate 120Hz
প্রসেসর MediaTek Helio G200
RAM 8GB
স্টোরেজ 128GB
প্রধান ক্যামেরা 64MP
সহায়ক ক্যামেরা 2MP
সামনের ক্যামেরা 32MP
ব্যাটারি 7000mAh
চার্জিং 45W
অপারেটিং সিস্টেম Android 16
নেটওয়ার্ক 4G
ফিঙ্গারপ্রিন্ট পর্দার নিচে
দাম ২৭,৪৯৯ টাকা

Helio এখনো নিজেদের মূল ওয়েবসাইটে ফোনটির পূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য আলাদা পণ্যের পাতায় দেয়নি। তাই বিভিন্ন উৎসে যেসব ছোটখাটো স্পেসিফিকেশন ভিন্নভাবে এসেছে, সেগুলো এখানে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে যোগ করা হয়নি।

বড় 6.83 ইঞ্চি AMOLED পর্দা

Helio 150 এ আছে 6.83 ইঞ্চি AMOLED পর্দা। এত বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ওয়েব ব্রাউজিং আর গেম খেলার সময় তুলনামূলক প্রশস্ত অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।

সঙ্গে আছে 120Hz Refresh Rate। ফলে সমর্থিত অ্যাপ, মেনু আর গেমে স্ক্রলিং ও চলমান দৃশ্য সাধারণ 60Hz পর্দার চেয়ে আরও মসৃণ দেখাতে পারে।

AMOLED প্রযুক্তির কারণে কালো অংশ তুলনামূলক গভীর দেখায়, রঙের পার্থক্যও পরিষ্কার বোঝা যায়। একই ধরনের পর্দার আরেকটি ফোন সম্পর্কে জানতে Samsung Galaxy A37 5G এর ফিচার পড়ে নিতে পারেন।

তবে ফোনটির নির্দিষ্ট পর্দা রেজোলিউশন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে অমিল আছে। তাই Helio নিজেরা পূর্ণ স্পেসিফিকেশন প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা কোনো নির্দিষ্ট রেজোলিউশনকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লিখছি না।

MediaTek Helio G200 প্রসেসর

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Helio G200 প্রসেসর। MediaTek-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এটি TSMC-র 6nm প্রক্রিয়ায় তৈরি একটি 4G প্রসেসর।

এতে দুটি Cortex A76 কোর সর্বোচ্চ 2.2GHz গতিতে এবং ছয়টি Cortex A55 কোর সর্বোচ্চ 2.0GHz গতিতে চলতে পারে। গ্রাফিক্সের জন্য আছে Arm Mali G57 MC2।

দৈনন্দিন ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা, ব্রাউজিং আর মাঝারি মানের গেমের জন্য এই প্রসেসর যথেষ্ট হওয়ার কথা। তবে আসল গেমিং পারফরম্যান্স নির্ভর করবে ফোনের তাপ নিয়ন্ত্রণ, সফটওয়্যার আর গেমের সেটিংসের ওপরও।

আরও শক্তিশালী গেমিং ফোনের সঙ্গে পার্থক্য দেখতে চাইলে TECNO POVA 8 Pro Lamborghini Edition দেখে নিতে পারেন।

8GB RAM ও 128GB স্টোরেজ

Helio 150 এ আছে 8GB RAM এবং 128GB স্টোরেজ। সাধারণ ব্যবহার, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো, ছবি রাখা আর দৈনন্দিন কাজের জন্য এই RAM ও স্টোরেজ বেশ ব্যবহারযোগ্য।

128GB স্টোরেজে অ্যাপ, ছবি, ভিডিও আর দরকারি ফাইল রাখার মতো ভালো জায়গা মেলে। তবে মেমোরি কার্ডে স্টোরেজ বাড়ানো যাবে কি না, সে বিষয়ে Helio-র পূর্ণ আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়।

64MP প্রধান ক্যামেরা

ফোনটির পেছনে আছে 64MP প্রধান ক্যামেরা আর একটি 2MP সহায়ক ক্যামেরা। সামনে ছবি ও ভিডিও কলের জন্য আছে 32MP ক্যামেরা।

কাগজে-কলমে 64MP প্রধান ক্যামেরা আর 32MP সামনের ক্যামেরা আকর্ষণীয় শোনালেও শুধু মেগাপিক্সেল দেখে ছবির মান বিচার করা যায় না। সেন্সর, লেন্স আর ছবি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার ওপর আসল ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে।

তাই হাতে নিয়ে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত ফোনটির ক্যামেরাকে একই দামের অন্য ফোনের চেয়ে ভালো বা খারাপ বলা ঠিক হবে না। স্মার্টফোন ক্যামেরার পার্থক্য বুঝতে Google Pixel 11 এর ক্যামেরা সম্পর্কিত পোস্ট পড়ে দেখতে পারেন।

7000mAh ব্যাটারি Helio 150 এর বড় শক্তি

ফোনটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য 7000mAh ব্যাটারি। এখন অনেক স্মার্টফোনে 5000mAh থেকে 6000mAh ব্যাটারি দেখা যায়, সেখানে 7000mAh নিঃসন্দেহে বড়।

যাঁরা সারাদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, ভিডিও দেখেন কিংবা বাইরে অনেকক্ষণ ফোন চালাতে হয়, তাঁদের কাছে বড় ব্যাটারি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে। তবে একবার চার্জে ঠিক কত ঘণ্টা চলবে, তা বাস্তব পরীক্ষার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বড় ব্যাটারির সঙ্গে আছে 45W চার্জিং। ফলে কম ক্ষমতার সাধারণ চার্জারের চেয়ে ব্যাটারিটি দ্রুত চার্জ করা যাবে।

Helio 150 এ 5G নেই

Helio 150 একটি 4G স্মার্টফোন। এতে ব্যবহৃত MediaTek Helio G200 প্রসেসর 4G ভিত্তিক হওয়ায় ফোনটিতে 5G সমর্থন নেই।

এটি ফোনটির বড় একটি সীমাবদ্ধতা। যাঁরা নতুন ফোন কিনে কয়েক বছর ব্যবহার করতে চান এবং ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই 5G চান, তাঁদের কেনার আগেই বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।

তবে এখন 4G-ই যদি আপনার মূল প্রয়োজন হয় এবং বড় ব্যাটারি, AMOLED পর্দা আর পর্যাপ্ত RAM আপনার কাছে বেশি জরুরি হয়, তাহলে ফোনটির অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো আকর্ষণীয় হতে পারে।

Android 16 ও পর্দার নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

Helio 150 এ Android 16 থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে পর্দার নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও আছে, যা ফোনের নিরাপত্তায় আধুনিক একটি সুবিধা যোগ করেছে।

তবে ফোনটি কত বছর Android ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চাইলে কেনার আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

Helio 150 এর ভালো দিক

ফোনটির সবচেয়ে বড় সুবিধা 7000mAh ব্যাটারি। এর সঙ্গে 120Hz AMOLED পর্দা, 8GB RAM, 128GB স্টোরেজ আর MediaTek Helio G200 প্রসেসর মিলিয়ে ফোনটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ ভারসাম্যপূর্ণ।

64MP প্রধান ক্যামেরা, 32MP সামনের ক্যামেরা আর পর্দার নিচের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও এই দামের ফোনে আকর্ষণীয় সংযোজন।

Helio 150 এর সীমাবদ্ধতা

ফোনটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা 5G না থাকা। একই বাজেটে এখন কিছু 5G ফোনও পাওয়া যাচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে 5G ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে অন্য মডেলের সঙ্গে তুলনা করা উচিত।

আরেকটি বিষয়, Helio এখনো নিজেদের ওয়েবসাইটে ফোনটির পূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য দেয়নি। ফলে NFC, মেমোরি কার্ড, নির্দিষ্ট রেজোলিউশন আর কয়েকটি বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত হতে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্য দরকার।

Helio 150 কাদের জন্য ভালো হতে পারে

যাঁদের কাছে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, বড় AMOLED পর্দা আর পর্যাপ্ত RAM ও স্টোরেজ বেশি জরুরি, তাঁদের জন্য ফোনটি বিবেচনার মতো।

বিশেষ করে যাঁরা 4G ব্যবহারেই সন্তুষ্ট এবং দৈনন্দিন কাজ, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঝারি মানের গেম খেলার জন্য ফোন খুঁজছেন, তাঁরা ফোনটি দেখতে পারেন।

অন্যদিকে 5G, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট কিংবা আরও শক্তিশালী গেমিং প্রসেসর চাইলে একই বাজেটের অন্য ফোনের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

কেনার আগে যা যাচাই করবেন

কেনার আগে বর্তমান দাম, 8GB RAM ও 128GB স্টোরেজ সংস্করণ আর অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করে নিন। নিকটবর্তী দোকানের খোঁজ পেতে Helio-র অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রের তালিকা দেখতে পারেন।

ওয়ারেন্টি বা বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে জানতে Helio-র অফিসিয়াল Customer Care তালিকা ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষ কথা

২৭,৪৯৯ টাকা দামের Helio 150 এর বড় আকর্ষণ 7000mAh ব্যাটারি, 120Hz AMOLED পর্দা, MediaTek Helio G200 প্রসেসর আর 8GB RAM।

তবে 5G না থাকা ফোনটির বড় সীমাবদ্ধতা। আবার Helio-র পূর্ণ আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশন পাতা এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় কিছু ছোট প্রযুক্তিগত তথ্য নিশ্চিত হওয়া বাকি।

সব মিলিয়ে বড় ব্যাটারি আর AMOLED পর্দাকে অগ্রাধিকার দিলে ফোনটি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে কেনার আগে 5G লাগবে কি না এবং Helio-র সফটওয়্যার সহায়তা কেমন, তা নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

সর্বশেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট