হোমমোবাইলঅ্যাপলSafari ব্যক্তিগত ব্রাউজিং কতটা নিরাপদ? Apple ব্যবহারকারীদের যা জানা দরকার
ক্যাটেগরি:

Safari ব্যক্তিগত ব্রাউজিং কতটা নিরাপদ? Apple ব্যবহারকারীদের যা জানা দরকার

Safari-তে ব্যক্তিগত ব্রাউজিং চালু করলেই কি আপনার অনলাইন কার্যক্রম পুরোপুরি গোপন হয়ে যায়? ওয়েবসাইট, বিজ্ঞাপনদাতা কিংবা ইন্টারনেট সেবাদাতা কি তখন আর আপনার কোনো তথ্য জানতে পারে না? Apple ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমন ধারণা থাকলেও বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।

Safari শুধু iPhone নয়, iPad ও Mac ব্যবহারকারীদের জন্যও Apple-এর নিজস্ব ওয়েব ব্রাউজার। এতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীকে অনুসরণ কমানো, পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থা আটকে দেওয়া, আইপি ঠিকানা আড়াল করা এবং ব্যক্তিগত ট্যাব লক করার মতো একাধিক গোপনীয়তা সুবিধা রয়েছে।

Apple-এর Safari গোপনীয়তা সম্পর্কিত অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, Safari বিভিন্ন ওয়েবসাইটজুড়ে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ সীমিত করতে যন্ত্রের মধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ করে। পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থার কাছ থেকে আইপি ঠিকানা আড়াল করার ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।

Apple-এর সফটওয়্যারে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার পরিবর্তন নিয়মিত আসছে। নতুন সংস্করণে কী কী বদল দেখা যাচ্ছে তা জানতে TechnicalBD-এর iOS 27 Beta 5-এর নতুন পরিবর্তনগুলো সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

Safari কীভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনুসরণ কমায়

অনেক ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বোতাম এবং বাইরের বিভিন্ন সেবা যুক্ত থাকে। এসব ব্যবস্থা একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম মিলিয়ে আগ্রহ, কেনাকাটার অভ্যাস এবং অনলাইন আচরণের একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

Safari-এর Intelligent Tracking Prevention এই ধরনের অনুসরণ সীমিত করতে যন্ত্রের মধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ করে। Apple জানিয়েছে, সুবিধাটি সাধারণভাবে চালু থাকে এবং পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থাকে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম মিলিয়ে দেখা কঠিন করে।

এর ফলে তৃতীয় পক্ষের কুকি এবং পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একজন ব্যবহারকারীকে দীর্ঘ সময় ধরে চিহ্নিত করা কঠিন হয়। তবে Safari কোনো ওয়েবসাইটের স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আদানপ্রদান বন্ধ করে দেয় না।

Apple কীভাবে ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তার আরেকটি উদাহরণ হলো ছবির সত্যতা যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা। বিস্তারিত জানতে TechnicalBD-এর iOS 27-এর সম্ভাব্য Reference Image সুবিধা নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত ব্রাউজিং আসলে কী করে

Safari-এর Private Browsing বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিং ব্যবহার করলে আপনার দেখা ওয়েবপেজ সাধারণ ব্রাউজিং ইতিহাসে যুক্ত হয় না। অনুসন্ধানের ইতিহাস এবং অনলাইন ফরমে দেওয়া কিছু তথ্যও স্বাভাবিক Safari ব্যবহারের মতো মনে রাখা হয় না।

Apple-এর ব্যক্তিগত ব্রাউজিং সম্পর্কিত অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, এই মোড পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থা পেজে লোড হওয়া কমাতে পারে এবং ওয়েব ঠিকানার মধ্যে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার জন্য যোগ করা কিছু অনুসরণ তথ্য সরিয়ে দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ব্যক্তিগত ট্যাব লক করা। সমর্থিত iPhone, iPad ও Mac-এ Safari ব্যবহার না করলে ব্যক্তিগত ট্যাব Face ID, Touch ID, পাসকোড কিংবা Mac-এর পাসওয়ার্ড দিয়ে লক হয়ে থাকতে পারে।

Apple ব্যবহারকারীদের জন্য সফটওয়্যার সেটিংস আরও সহজ করার কাজও চলছে। এ বিষয়ে TechnicalBD-এর iOS 27 Beta 5-এ Settings ও নতুন আইকনের পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত ব্রাউজিং কি আপনাকে পুরোপুরি অদৃশ্য করে

না। ব্যক্তিগত ব্রাউজিং চালু করলেই ইন্টারনেটে আপনি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যান না। এই সুবিধা মূলত আপনার যন্ত্রে কিছু ব্রাউজিং তথ্য সংরক্ষণ কমায় এবং পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থাকে সীমিত করার চেষ্টা করে।

আপনি কোনো ওয়েবসাইটে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে সেই ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারে আপনি সেখানে উপস্থিত আছেন। একইভাবে ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতিভেদে কিছু সংযোগসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারে।

তাই ব্যক্তিগত ব্রাউজিংকে VPN-এর বিকল্প ভাবা ঠিক নয়। এটি Safari-এর গোপনীয়তা বাড়ায়, কিন্তু আপনার পরিচয় এবং সব ধরনের অনলাইন কার্যক্রম সব পক্ষের কাছ থেকে পুরোপুরি আড়াল করে না।

অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। TechnicalBD-এর WhatsApp Parent Managed Account ও iPhone সেটআপ প্রতিবেদনটি এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরেকটি উদাহরণ।

আইপি ঠিকানা আড়াল করতে Safari কী করে

আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইট বা অনুসরণকারী ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর আনুমানিক অবস্থান এবং সংযোগসংক্রান্ত কিছু তথ্য অনুমান করতে পারে। Safari-এর Hide IP Address সুবিধা পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থার কাছ থেকে এই ঠিকানা আড়াল করার চেষ্টা করে।

iCloud+ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে iCloud Private Relay। Apple-এর Private Relay সম্পর্কিত অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, Safari-এর ইন্টারনেট যোগাযোগ দুটি আলাদা রিলে ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।

প্রথম অংশ ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা জানতে পারে, কিন্তু কোন ওয়েবসাইটে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে পারে না। দ্বিতীয় অংশ ওয়েবসাইটের ঠিকানা জানে, কিন্তু ব্যবহারকারীর আসল আইপি ঠিকানা পায় না।

এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি পক্ষের কাছে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর পরিচয় এবং তার দেখা ওয়েবসাইটের পূর্ণ তথ্য না রাখা। তবে Private Relay সব দেশ বা অঞ্চলে পাওয়া যায় না।

Private Relay কি VPN-এর মতো

Private Relay এবং VPN-এর মধ্যে কিছু মিল থাকলেও দুটিকে একই প্রযুক্তি বলা ঠিক নয়। Private Relay মূলত Safari-র মাধ্যমে ওয়েব ব্যবহারের গোপনীয়তা বাড়ানোর জন্য Apple-এর তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা।

সাধারণ VPN-এ ব্যবহারকারী অনেক সময় অন্য দেশের সার্ভার নির্বাচন করতে পারেন। Private Relay সেই উদ্দেশ্যে তৈরি নয় এবং ব্যবহারকারী ইচ্ছামতো অন্য দেশের অবস্থান দেখানোর জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন না।

Apple-এর গোপনীয়তা কৌশল শুধু Safari-তে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যৎ Apple যন্ত্রে যন্ত্রের মধ্যেই বেশি কাজ প্রক্রিয়াকরণের প্রবণতা বাড়ছে। এ বিষয়ে TechnicalBD-এর Base iPhone 18-এর সম্ভাব্য বড় উন্নতি প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

Privacy Report কী দেখায়

Safari-এর Privacy Report বা গোপনীয়তা প্রতিবেদন থেকে একটি ওয়েবপেজে কোন পরিচিত অনুসরণকারী ব্যবস্থা শনাক্ত হয়েছে এবং Safari কোনগুলো সীমিত করেছে, তার একটি সারসংক্ষেপ দেখা যায়।

এতে ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন একটি ওয়েবসাইটের পেছনে কত ধরনের অনুসরণ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবে কোনো অনুসরণকারী ব্যবস্থা শনাক্ত হয়েছে মানেই সেই ওয়েবসাইট অনিরাপদ, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

অনেক বৈধ ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অথবা বাইরের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করে। Safari এসবের কিছু অংশকে অনুসরণকারী ব্যবস্থা হিসেবে শনাক্ত করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত করার চেষ্টা করে।

Apple-এর App Store-এর বাইরের অর্থ প্রদানের লিংকও গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে TechnicalBD-এর App Store-এর বাইরের কেনাকাটায় Apple-এর প্রস্তাবিত ফি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন রয়েছে।

ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে Safari কীভাবে সতর্ক করে

Safari-তে Fraudulent Website Warning নামে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা সন্দেহজনক প্রতারণামূলক বা ক্ষতিকর ওয়েবসাইট শনাক্ত হলে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করতে পারে।

ব্যাংক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অথবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নকল ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে এ ধরনের সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে কোনো ব্রাউজারের সতর্কতা ব্যবস্থা শতভাগ নির্ভুল নয়।

অচেনা লিংক থেকে লগইন পেজ খুললে ওয়েব ঠিকানা ভালোভাবে পরীক্ষা করা, দুই ধাপের পরিচয় যাচাই চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা প্রয়োজন।

আইফোনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য উন্নত সুবিধা সম্পর্কে জানতে TechnicalBD-এর iPhone 18 Pro Max-এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।

Safari কি Apple ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ

Safari নিজে থেকেই বেশ কিছু শক্তিশালী গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখে। তবে নিরাপদ থাকার জন্য শুধু ব্রাউজারের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীর নিজের আচরণও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

ভুয়া ওয়েবসাইটে Apple Account-এর তথ্য দিলে, সন্দেহজনক ফাইল নামালে অথবা দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে Safari সব ঝুঁকি আটকাতে পারবে না। তাই সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখা জরুরি।

Apple কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে TechnicalBD-এর Apple-এর নিজস্ব AI মডেল তৈরির উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

Apple ব্যবহারকারীরা কোন সেটিংসগুলো পরীক্ষা করবেন

iPhone ও iPad ব্যবহারকারীরা Settings → Apps → Safari অংশে গিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনুসরণ ঠেকানো, আইপি ঠিকানা আড়াল এবং প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটের সতর্কতার মতো গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয়তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারেন।

Mac ব্যবহারকারীরা Safari-এর Settings থেকে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রণ দেখতে পারবেন। ব্যক্তিগত ব্রাউজিং নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত ট্যাব লক করার সুবিধাটি চালু আছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা ভালো।

iCloud+ ব্যবহারকারী হলে Private Relay চালু আছে কি না দেখাও উপকারী হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা না দেখলে সফটওয়্যারের সংস্করণ, অঞ্চল এবং Apple-এর সুবিধা প্রাপ্যতার শর্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

Safari শুধু iPhone-এর ব্রাউজার নয়, বরং iPhone, iPad ও Mac ব্যবহারকারীদের জন্য Apple-এর গোপনীয়তাকেন্দ্রিক ওয়েব ব্রাউজিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনুসরণ সীমিত করা, ব্যক্তিগত ব্রাউজিং এবং গোপনীয়তা প্রতিবেদন একসঙ্গে অনলাইন অনুসরণ কমাতে সাহায্য করে।

iCloud+ ব্যবহারকারীদের জন্য Private Relay আরও একটি গোপনীয়তার স্তর যোগ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ব্রাউজিং কিংবা Private Relay কোনোটিকেই ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ পরিচয়হীন হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো Safari-এর গোপনীয়তা সুবিধার পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, দুই ধাপের পরিচয় যাচাই, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সন্দেহজনক ওয়েবসাইট ও লিংক সম্পর্কে সতর্ক থাকা।

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট