একটা সময় Windows আর Linux-কে অনেকটা দুই বিপরীত দুনিয়া মনে করা হতো। Linux ব্যবহার করতে চাইলে আলাদা করে Install করা, Dual Boot বানানো কিংবা Virtual Machine চালানো ছিল পরিচিত উপায়।
Microsoft এখন সেই হিসাবটাই অনেক সহজ করে দিয়েছে। Windows Subsystem for Linux বা WSL ব্যবহার করে Windows না ছাড়িয়েই Linux-এর অনেক কাজ সরাসরি নিজের Computer-এ করা যায়।
How-To Geek-এর আলোচনাটির মজার দিকও এখানেই—Linux-কে Windows-এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দূরে না রেখে Microsoft ধীরে ধীরে Windows-এর ভেতরেই সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলেছে।
Computer, Operating System ও Software নিয়ে আরও লেখা পড়তে পারেন TechnicalBD-এর Computer বিভাগে।
WSL আসলে কী?
WSL-এর পুরো নাম Windows Subsystem for Linux। সহজ করে বললে, এটি Windows-এর এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে Windows Computer-এর ভেতর Linux environment চালানো যায়।
Microsoft-এর WSL documentation অনুযায়ী Ubuntu, Debian, Kali Linux, openSUSE এবং Arch Linux-এর মতো বিভিন্ন Linux distribution ব্যবহার করা যায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এজন্য সাধারণভাবে আলাদা Computer বা traditional Virtual Machine নিয়ে বসতে হয় না। Windows এবং Linux—দুই পরিবেশেই একই Computer থেকে কাজ করা যায়।
| বিষয় | WSL-এ কী পাওয়া যায় |
|---|---|
| Linux Distribution | Ubuntu, Debian, Kali, Archসহ বিভিন্ন Distro |
| Linux Terminal | হ্যাঁ |
| Bash Command | হ্যাঁ |
| Linux Software | হ্যাঁ |
| GUI App | WSL 2-তে Support করে |
| Windows File Access | হ্যাঁ |
| Windows-এর সঙ্গে ব্যবহার | পাশাপাশি করা যায় |
| মূল ব্যবহার | Development, Linux Tools, শেখা |
Linux এখন অনেকটা Windows App-এর মতো
WSL-এর বর্তমান অবস্থার সবচেয়ে মজার দিক সম্ভবত এটি। Linux ব্যবহার করতে সবসময় আলাদা Desktop Environment-এর মধ্যে ঢুকে থাকতে হয় না।
WSL 2 ব্যবহার করলে কিছু Linux GUI Application সরাসরি Windows Desktop-এ চালানো যায়। এমনকি Linux App Windows Start menu-তেও পাওয়া যেতে পারে।
Microsoft-এর Linux GUI App guide অনুযায়ী Linux App Taskbar-এ Pin করা যায়। Alt + Tab দিয়ে Windows ও Linux App-এর মধ্যে যাওয়া যায়, এমনকি দুই পাশের App-এর মধ্যে Copy-Paste-ও করা যায়।
উদাহরণ হিসেবে GIMP, GNOME Text Editor, Nautilus এবং VLC-এর মতো Linux GUI App WSL-এর মাধ্যমে চালানো সম্ভব।
তবে এটাকে পুরো Linux Desktop মনে করলে ভুল হবে। Microsoft নিজেই বলছে, WSL-এর GUI support একটি সম্পূর্ণ Linux Desktop Experience দেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি।
WSL সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে কার?
সাধারণ Facebook, YouTube বা Office ব্যবহার করার জন্য WSL দরকার নেই। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন Developer, Programmer, IT Professional এবং Linux শেখার আগ্রহ আছে এমন ব্যবহারকারী।
ধরুন আপনার মূল Computer Windows। কিন্তু কোনো Project-এর জন্য Linux command, Bash, Git বা Linux-based Development Tool দরকার হচ্ছে।
আগে হয়তো Virtual Machine বানাতেন অথবা আলাদা Linux System ব্যবহার করতেন। WSL থাকলে একই Windows Computer-এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় Linux Environment খুলে কাজ করা যায়।
Web Development-এর ক্ষেত্রেও এটি বেশ সুবিধাজনক। Linux Server-এর জন্য কাজ করছেন, অথচ নিজের দৈনন্দিন Computer Windows—WSL এই দুই পরিবেশের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
Linux শেখার জন্যও WSL বেশ কাজে লাগে
Linux নিয়ে আগ্রহ আছে, কিন্তু Computer-এর Windows মুছে Linux Install করতে ভয় লাগছে—এমন ব্যবহারকারীর জন্যও WSL ভালো শুরুর জায়গা হতে পারে।
Ubuntu Install করে Linux-এর সাধারণ Command শেখা, File ও Directory নিয়ে কাজ করা কিংবা Package Install করার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে শেখা যায়।
Microsoft-এর নিজের Linux ও Bash শেখার WSL guide-এও নতুন ব্যবহারকারীদের Package Install, Update এবং সাধারণ Bash Command দিয়ে শুরু করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ Linux শেখার জন্য শুরুতেই Windows বাদ দিতে হচ্ছে না।
Install করাও আগের তুলনায় অনেক সহজ
একসময় WSL Setup করার জন্য কয়েকটি আলাদা Windows Feature চালু করতে হতো। এখন নতুন Windows Version-এ প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ।
Administrator হিসেবে PowerShell খুলে মূলত এই Command দিয়েই শুরু করা যায়:
wsl --install
Microsoft-এর বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী Commandটি প্রয়োজনীয় WSL component চালু করে, Linux kernel Install করে, WSL 2-কে Default করে এবং সাধারণভাবে Ubuntu-ও Install করে দেয়।
Computer Restart করার প্রয়োজন হতে পারে। এরপর Linux-এর জন্য Username এবং Password তৈরি করে ব্যবহার শুরু করা যায়।
অন্য Linux Distribution চাইলে available Distro-এর তালিকা দেখে পছন্দেরটিও Install করা সম্ভব।
তাহলে Virtual Machine-এর আর দরকার নেই?
এখানে একটু পার্থক্য বোঝা জরুরি। WSL ভালো হয়েছে মানেই Virtual Machine বা Dual Boot-এর প্রয়োজন শেষ—এমন নয়।
আপনি যদি সম্পূর্ণ Linux Desktop Experience চান, Linux-এর Hardware Behavior পরীক্ষা করতে চান অথবা Windows থেকে পুরোপুরি আলাদা Test Environment প্রয়োজন হয়, Virtual Machine এখনও বেশি উপযোগী হতে পারে।
আর Computer পুরোপুরি Linux-এ চালাতে চাইলে Dual Boot বা সরাসরি Linux Install করার প্রয়োজনও থাকতে পারে।
WSL-এর আসল সুবিধা অন্য জায়গায়—Windows ব্যবহার করতে করতেই যখন Linux-এর Tool এবং Environment দরকার হয়।
Microsoft কেন Linux-কে Windows-এর এত কাছে আনল?
আজকের Software Development-এর বড় একটা অংশ Linux-এর সঙ্গে জড়িত। Web Server, Cloud, Container এবং Developer Tool-এর দুনিয়ায় Linux অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Windows ব্যবহারকারী Developer-কে Linux-এর কাজ করতে বারবার অন্য Operating System-এ যেতে হলে Windows Development Machine হিসেবে কিছুটা অসুবিধায় পড়ে।
WSL সেই সমস্যার সুন্দর একটা সমাধান। Windows-এর পরিচিত Software ব্যবহার করা যাচ্ছে, আবার প্রয়োজন হলে পাশেই Linux Terminal এবং Tool পাওয়া যাচ্ছে।
একসময় Microsoft আর Linux-এর সম্পর্ক যেখানে বেশ কঠিন ছিল, আজ সেখানে Windows-এর ভেতর Ubuntu চালানো স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় পরিবর্তনটা সত্যিই বেশ interesting।
সাধারণ ব্যবহারকারীর WSL ব্যবহার করা উচিত?
আপনি শুধু Browsing, Gaming, Office বা সাধারণ Computer-এর কাজ করলে WSL Install করার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে আপনার দৈনন্দিন Windows ব্যবহার হঠাৎ ভালো হয়ে যাবে না।
কিন্তু Programming শিখছেন, Web Development করেন, Server নিয়ে কাজ করেন অথবা Linux শেখার ইচ্ছা আছে—তাহলে WSL একবার ব্যবহার করে দেখা বেশ কাজে দিতে পারে।
বিশেষ করে Linux শেখার জন্য শুরুতেই আলাদা Computer বা Windows বাদ দেওয়ার দরকার না হওয়াটা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা।
শেষ কথা
WSL-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত কোনো একটি Feature নয়। বরং Linux ব্যবহার করার ঝামেলাটাই Windows ব্যবহারকারীর জন্য অনেক কমিয়ে দিয়েছে Microsoft।
এখন Windows Computer-এ বসেই Ubuntu চালানো, Bash Command ব্যবহার করা, Linux Development Tool নিয়ে কাজ করা, এমনকি কিছু Linux GUI App Windows App-এর পাশে চালানো সম্ভব।
আপনি Developer হলে এর সুবিধা আরও বেশি। আর Linux নিয়ে শুধু কৌতূহল থাকলেও WSL এমন একটি সহজ দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে Linux শেখার জন্য প্রথম দিনেই Windows ছাড়তে হচ্ছে না।

