AI যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন। শুধু ভালো AI মডেল তৈরি করলেই এখন আর হচ্ছে না, সেই মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানোর জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার GPU, শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ এবং উন্নত Data Center। এবার এই চাহিদা সামলাতে অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে NVIDIA।
NVIDIA এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার একাধিক প্রযুক্তি ও Data Center প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার AI অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও নতুন AI কোম্পানিগুলোকে দেশেই শক্তিশালী কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়া।
NVIDIA আসলে কী তৈরি করছে
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে NVIDIA DSX। সহজভাবে বললে, এটি শুধু অনেক GPU বসানো একটি Data Center নয়। বিদ্যুৎ, Cooling, GPU, Networking এবং প্রয়োজনীয় Software মিলিয়ে পুরো ব্যবস্থাটিকে AI এর ভারী কাজের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। NVIDIA একে বলছে AI Factory।
অস্ট্রেলিয়ার Firmus, Sharon AI, IREN, Megaport, ResetData, CDC, NEXTDC এবং AirTrunk এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো পরিচালনা করবে, আর NVIDIA দেবে DSX ব্যবস্থা, শক্তিশালী কম্পিউটিং প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার সহায়তা।
| বিষয় | পরিকল্পনা |
|---|---|
| লক্ষ্য | অস্ট্রেলিয়ায় AI কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়ানো |
| সম্ভাব্য ক্ষমতা | সর্বোচ্চ ২ গিগাওয়াট |
| সময়সীমা | ২০২৭ |
| মূল প্রযুক্তি | NVIDIA DSX |
| ব্যবহারকারী | গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা ও AI প্রতিষ্ঠান |
এত বড় AI অবকাঠামোয় Cooling কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে TechnicalBD এর Data Center এবং Processor Cooling নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন পড়তে পারেন। হাজার হাজার GPU একসঙ্গে চললে শুধু হিসাব করার জন্য নয়, সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
৬৮ হাজার NVIDIA GPU বসাচ্ছে Sharon AI
এই প্রকল্পের আকার বোঝার জন্য Sharon AI এর পরিকল্পনাই যথেষ্ট। প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার NVIDIA GPU বসানোর পরিকল্পনা করছে। এগুলো NVIDIA Quantum InfiniBand এবং Spectrum X Ethernet নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে।
IREN আবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তাদের ৮০০ মেগাওয়াট Bundey campus কাজে লাগাচ্ছে। অন্যদিকে CDC জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে তাদের ৫৫০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতা চালু রয়েছে এবং আরও ৮০০ মেগাওয়াট নির্মাণাধীন। উচ্চ ক্ষমতার AI যন্ত্র ঠান্ডা রাখতে সরাসরি চিপে তরল পৌঁছানোর উন্নত Cooling ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
NVIDIA প্রযুক্তি এখন শুধু বিশাল Data Center এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ছোট পরিসরে নিজের ডিভাইসে AI চালানোর প্রবণতাও বাড়ছে। এ বিষয়ে TechnicalBD এর NVIDIA প্রযুক্তিতে Local AI চালানোর নতুন ProArt কম্পিউটার নিয়ে প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।
এত বড় অবকাঠামো কেন প্রয়োজন
NVIDIA এর লক্ষ্য শুধু বিদেশি AI সেবা অস্ট্রেলিয়ায় চালানো নয়। দেশটির গবেষক ও প্রতিষ্ঠান যেন নিজেদের AI মডেল, অ্যাপ এবং Agent স্থানীয় অবকাঠামোতেই তৈরি ও চালাতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
Atlassian ইতিমধ্যে NVIDIA প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের Rovo সেবার বুদ্ধিমান Search উন্নত করছে। স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Heidi আবার NVIDIA Nemotron মডেল ব্যবহার করে চিকিৎসা খাতের AI উন্নয়নে কাজ করছে।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী
বাংলাদেশে এই NVIDIA প্রকল্পের সরাসরি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে না। তবে ঘটনাটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে AI সেবা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু Software নয়, স্থানীয় Data Center, বিদ্যুৎ, দ্রুত নেটওয়ার্ক এবং GPU অবকাঠামোর প্রয়োজনও দ্রুত বাড়বে।
বাংলাদেশে যদি স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী AI অবকাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় ব্যবসাগুলো বিদেশি Cloud এর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে নিজেদের AI সেবা তৈরি করার সুযোগ পেতে পারে।
শেষ কথা
NVIDIA এর অস্ট্রেলিয়া পরিকল্পনার মূল বিষয় আসলে ২ গিগাওয়াট সংখ্যাটি নয়। বড় বার্তা হলো, AI প্রতিযোগিতা এখন মডেলের পাশাপাশি অবকাঠামোর প্রতিযোগিতাতেও পরিণত হয়েছে। যে দেশ শক্তিশালী GPU, বিদ্যুৎ, Data Center এবং দ্রুত নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে পারবে, ভবিষ্যতের AI অর্থনীতিতে তাদের এগিয়ে থাকার সুযোগও তত বেশি হবে।

