বাড়িতে এমন পুরোনো Laptop বা Desktop অনেকেরই আছে, যেটি চালু হতে সময় নেয়, Browser খুললেই ধীর হয়ে যায় এবং কয়েকটি Tab খুললে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হয় কম্পিউটারটির বয়স শেষ, এবার নতুন একটি কিনতে হবে।
কিন্তু হার্ডওয়্যার ঠিক থাকলে এত দ্রুত সেটিকে বাতিল করার দরকার নেই। সঠিক Linux, হালকা Desktop Environment এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Software বেছে নিলে অনেক পুরোনো কম্পিউটার আবারও দৈনন্দিন কাজের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।
How To Geek এর আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শুধু Linux ইনস্টল করলেই পুরোনো PC দ্রুত হয়ে যায় না। আসল সুবিধা হলো Linux কে কম্পিউটারের ক্ষমতা অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যায়।
সব Linux পুরোনো PC এর জন্য হালকা নয়
Linux মানেই খুব কম RAM এবং Processor ব্যবহার করবে, এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। Ubuntu বা অন্য কোনো আধুনিক Linux distribution এর সঙ্গে ভারী Desktop Environment এবং অনেক Software ব্যবহার করলে পুরোনো কম্পিউটারে সেটিও ধীর লাগতে পারে।
Linux এর বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে আপনার হাতে অনেক বিকল্প থাকে। শক্তিশালী PC এর জন্য সুন্দর ও আধুনিক Desktop ব্যবহার করা যায়, আবার পুরোনো কম্পিউটারের জন্য Xfce বা LXQt এর মতো তুলনামূলক হালকা Desktop Environment বেছে নেওয়া যায়।
Debian এর অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, কম ক্ষমতার কম্পিউটারে কম Resource ব্যবহার করে এমন Desktop Environment বেছে নেওয়া যায়। অর্থাৎ পুরোনো PC এর ক্ষেত্রে শুধু Linux নির্বাচন করলেই হবে না, তার সঙ্গে কোন Desktop ব্যবহার করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কোন ধরনের Linux দিয়ে শুরু করা সহজ?
Linux আগে কখনো ব্যবহার না করলে খুব জটিল কোনো distribution দিয়ে শুরু করার প্রয়োজন নেই। Lubuntu এবং Xubuntu পুরোনো কম্পিউটারের জন্য পরিচিত দুটি বিকল্প। Lubuntu তে LXQt এবং Xubuntu তে Xfce ব্যবহার করা হয়।
আরও পুরোনো বা কম ক্ষমতার PC হলে Debian এর সঙ্গে Xfce ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নতুন ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে হালকা Linux খুঁজতে গিয়ে এমন কিছু বেছে নেওয়া ঠিক হবে না যেটি ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যায়।
| আপনার PC | কী চেষ্টা করতে পারেন |
|---|---|
| 2GB RAM | খুব হালকা Linux ও Desktop |
| 4GB RAM | Lubuntu বা Xubuntu |
| 8GB RAM | সাধারণ Linux distribution |
| পুরোনো HDD | সম্ভব হলে SSD |
| দুর্বল Processor | হালকা Desktop ও কম Software |
এগুলো কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। একই RAM থাকলেও Processor, Storage এবং আপনি কম্পিউটার দিয়ে কী কাজ করবেন তার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে।
Linux দিলেও Browser কিন্তু ভারী থাকবে
পুরোনো PC এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মনে রাখা দরকার। আপনি খুব হালকা Linux ইনস্টল করলেন, কিন্তু Chrome বা Firefox এ একসঙ্গে অনেক Tab খুললেন, YouTube চালালেন এবং কয়েকটি ভারী Web App ব্যবহার করলেন। তখন 4GB RAM এর কম্পিউটার আবারও ধীর হয়ে যেতে পারে।
কারণ আজকের Website এবং Browser আগের তুলনায় অনেক বেশি Resource ব্যবহার করে। তাই পুরোনো PC ভালোভাবে চালাতে হলে Operating System এর পাশাপাশি নিজের ব্যবহারের ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় Startup App বন্ধ রাখা, প্রয়োজনের বেশি Browser Tab না খোলা এবং খুব ভারী Software এর বদলে হালকা বিকল্প ব্যবহার করলে পুরোনো কম্পিউটার অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে চালানো সম্ভব।
HDD থাকলে SSD লাগানোর কথা ভাবুন
অনেক পুরোনো Laptop এবং Desktop ধীর হওয়ার বড় কারণ Processor নয়, বরং ভেতরে থাকা পুরোনো Mechanical HDD। এমন কম্পিউটারে Linux ইনস্টল করলেও System চালু হওয়া, Software খোলা এবং File ব্যবহারে ধীরগতি থাকতে পারে।
কম্পিউটার সমর্থন করলে একটি SATA SSD লাগানো বেশ কার্যকর Upgrade হতে পারে। বিশেষ করে Windows থেকে হালকা Linux এ যাওয়ার পাশাপাশি HDD বদলে SSD ব্যবহার করলে পুরোনো PC এর ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
তাই পুরোনো কম্পিউটার বাতিল করার আগে অন্তত তিনটি বিষয় দেখে নিন। RAM কত আছে, Storage HDD নাকি SSD এবং Processor দিয়ে এখনো আপনার প্রয়োজনীয় সাধারণ কাজ করা সম্ভব কি না।
Windows মুছে ফেলার আগে Linux পরীক্ষা করুন
Linux ইনস্টল করার আগে Hardware Compatibility পরীক্ষা করাও জরুরি। বিশেষ করে Laptop এর WiFi, Bluetooth, Sound, Touchpad, Graphics কিংবা Fingerprint Reader সবসময় প্রত্যাশামতো কাজ নাও করতে পারে।
এজন্য শুরুতেই Windows মুছে ফেলার দরকার নেই। USB Drive থেকে Live Linux চালিয়ে আগে পরীক্ষা করুন। WiFi কাজ করছে কি না, Sound ঠিক আছে কি না, Keyboard ও Touchpad ঠিকভাবে চলছে কি না, সবকিছু দেখে তারপর স্থায়ীভাবে Linux ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
পুরোনো PC দিয়ে আসলে কী করা যাবে?
সঠিক Linux ব্যবহার করলে পুরোনো কম্পিউটার দিয়ে Web Browsing, YouTube দেখা, ইমেইল, PDF পড়া, লেখালেখি, সাধারণ Office কাজ এবং হালকা Programming করা সম্ভব হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বাসার দ্বিতীয় কম্পিউটার কিংবা সাধারণ Office PC হিসেবেও এটি কাজে লাগতে পারে।
তবে Linux কোনো জাদু নয়। ১০ বছরের পুরোনো Processor কে এটি নতুন Processor এর মতো শক্তিশালী করে দেবে না। বরং কম্পিউটারে যে ক্ষমতা এখনো আছে, অপ্রয়োজনীয় Resource ব্যবহার কমিয়ে সেটুকু আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।
তাই পুরোনো Laptop ধীর হয়ে গেলেই নতুন কম্পিউটার কেনার আগে একবার হালকা Linux এবং সম্ভব হলে SSD দিয়ে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পড়ে থাকা পুরোনো PC টিই আবার কয়েক বছর কাজের সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।

