আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জনি আইভ এবার গাড়ির জগতেও বড় চমক দেখালেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান LoveFrom-এর সহযোগিতায় তৈরি Ferrari Luce-এর বিশেষ একটি সংস্করণ নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৪৮০ কোটি টাকার সমান—যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী অঙ্কটি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। গাড়িটি এত দাম পাওয়ার প্রধান কারণ শুধু জনি আইভের নকশা নয়; এটি Ferrari Luce-এর প্রথম তৈরি গাড়ি এবং এর পরিচয় Chassis 0। বৈদ্যুতিক গাড়ির আরও খবর TechnicalBD-এর অটো নিউজ বিভাগে পড়তে পারেন।
সাধারণ Ferrari Luce নয়
নিলামে বিক্রি হওয়া গাড়িটি Ferrari-এর Tailor Made বিভাগ বিশেষভাবে তৈরি করেছে। এর বাইরের অংশে রয়েছে আলাদা মুক্তার মতো আধা-চকচকে রং, আর ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ রঙের চামড়া ও অনন্য সাজসজ্জা। ফলে পরবর্তী সময়ে বাজারে আসা সাধারণ Luce-এর সঙ্গে এই গাড়ির বেশ কিছু পার্থক্য থাকবে।
Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার Monterey Car Week-এ RM Sotheby’s-এর মাধ্যমে গাড়িটি নিলামে তোলা হয়। সেটি কিনেছেন মার্কিন উদ্ভাবক, ব্যবসায়ী ও Ferrari সংগ্রাহক Herbert A. Wertheim।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গাড়ি | Ferrari Luce Tailor Made |
| পরিচয় | Chassis 0 |
| ধরন | Ferrari-এর প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি |
| নিলামের দাম | ৪ কোটি ডলার |
| নিলামকারী | RM Sotheby’s |
| ক্রেতা | Herbert A. Wertheim |
| অর্থের ব্যবহার | শিক্ষা কার্যক্রম |
বিশ্বরেকর্ড হলো কীভাবে?
Ferrari Luce-এর সাধারণ সংস্করণের দাম প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো থেকে শুরু। বিশেষ গাড়িটির নিলাম-পূর্ব ধারণা ছিল প্রায় ১১ লাখ ডলার। কিন্তু দরদাম দ্রুত বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত ৪ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।
এর মাধ্যমে Ferrari Luce নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি নতুন গাড়ির বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এর আগের রেকর্ড ছিল Ferrari Daytona SP3-এর দখলে, যেটি ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
তবে Luce বিশ্বের সব ধরনের নিলাম করা গাড়ির রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। ১৯৫৫ সালের Mercedes-Benz 300 SLR Uhlenhaut Coupé ২০২২ সালে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে বিক্রি হয়েছিল। সেটি এখনও সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে দামি নিলাম হওয়া গাড়ি।
নিলামের পুরো অর্থ কোথায় যাবে?
এটি সাধারণ লাভের উদ্দেশ্যে করা বিক্রি ছিল না। Ferrari জানিয়েছে, নিলামে পাওয়া পুরো অর্থ Ferrari Foundation-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
দাতব্য উদ্দেশ্য, Chassis 0 পরিচয়, একক নকশা এবং সংগ্রাহকদের আগ্রহ—সবকিছু মিলিয়েই গাড়িটির দাম সাধারণ Luce-এর তুলনায় এত বেশি উঠেছে। তাই ৪ কোটি ডলারকে Ferrari Luce-এর সাধারণ বাজারমূল্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
নকশায় জনি আইভের ভূমিকা
Apple ছেড়ে আসার পর জনি আইভ LoveFrom নামে নিজের নকশা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি ও বিখ্যাত নকশাবিদ মার্ক নিউসন Ferrari-এর সঙ্গে Luce-এর বাইরের অংশ, কেবিন এবং চালকের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছেন।
গাড়ির ভেতরে শুধু বিশাল পর্দার ওপর নির্ভর না করে বোতাম, ঘূর্ণমান নিয়ন্ত্রক ও হাতে ব্যবহারযোগ্য সুইচ রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে বাস্তবে গাড়ি চালানোর অনুভূতি ধরে রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
অন্য একটি বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির অভিজ্ঞতা ও দাম জানতে TechnicalBD-এর Lucid Air Touring পর্যালোচনা পড়তে পারেন। তুলনামূলক সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার কেমন হচ্ছে, তার ধারণা পাওয়া যাবে Kia EV3-এর দাম নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনে।
ভালো ও সীমাবদ্ধতার দিক
ভালো দিক
- Ferrari-এর প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি
- জনি আইভ ও মার্ক নিউসনের নকশা
- Chassis 0 এবং একক Tailor Made সংস্করণ
- বিক্রির পুরো অর্থ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় হবে
সীমাবদ্ধতা
- সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে
- নকশাটি Ferrari-এর প্রচলিত রূপ থেকে অনেকটাই আলাদা
- নিলামের দাম সাধারণ Luce-এর প্রকৃত বাজারমূল্য নয়
সাধারণ প্রশ্ন
Ferrari Luce কি সত্যিই ৪ কোটি ডলারের গাড়ি?
নিলামের বিশেষ Chassis 0 সংস্করণটি ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে। সাধারণ Ferrari Luce-এর প্রারম্ভিক দাম প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো।
Ferrari Luce কে নকশা করেছেন?
Ferrari-এর নিজস্ব নকশা দলের পাশাপাশি জনি আইভ ও মার্ক নিউসনের প্রতিষ্ঠান LoveFrom গাড়িটির বাইরের অংশ ও কেবিন তৈরিতে কাজ করেছে।
নিলামের অর্থ কে পাবে?
পুরো অর্থ Ferrari Foundation-এর শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
শেষ কথা
Ferrari Luce-এর ৪ কোটি ডলারের বিক্রি শুধু একটি গাড়ির অস্বাভাবিক দাম ওঠার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে Ferrari-এর প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি, Chassis 0-এর বিরল পরিচয়, জনি আইভের নকশা এবং দাতব্য উদ্দেশ্য।
প্রচলিত Ferrari থেকে আলাদা চেহারার কারণে Luce নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। তারপরও রেকর্ড নিলাম দেখিয়ে দিয়েছে—গাড়িটির প্রযুক্তি ও নকশা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সংগ্রাহকদের আগ্রহের কোনো ঘাটতি নেই।

