ফোনে এত Tap আর Swipe—Google মনে করছে এগুলো কমানোর সময় এসেছে
একটা খাবার order করতে হবে। App খুললাম, restaurant খুঁজলাম, খাবার বাছাই করলাম, cart-এ দিলাম, তারপর checkout।
Smartphone ব্যবহার করতে করতে এসব আমাদের কাছে এত স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে বিষয়টা নিয়ে আলাদা করে ভাবিই না। কিন্তু Google এখন প্রশ্ন তুলছে—ফোন যদি বুঝতেই পারে আমি কী করতে চাই, তাহলে প্রতিটি কাজ আমাকে নিজে হাতে করতে হবে কেন?
Google-এর Android Ecosystem-এর President Sameer Samat সম্প্রতি Mark Ellis Reviews-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Android-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন।
তার ভাষায়, Google Android-কে শুধু একটি operating system হিসেবে রাখতে চায় না। এটিকে ধীরে ধীরে “intelligent system”-এ বদলে দেওয়াই লক্ষ্য।
Android, Gemini ও Google-এর AI নিয়ে আরও খবর পাওয়া যাবে TechnicalBD-এর AI News বিভাগে।
“কাজটা করে দাও”—ভবিষ্যতের Android হয়তো এতটুকুই চাইবে
আজকের ফোনে কোনো কাজ করতে হলে আমরা নিজেরাই সেটাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করি।
App খুলুন। Menu চাপুন। Search করুন। একটা option বাছুন। আবার আরেকটা button চাপুন।
Google-এর ধারণা, AI থাকলে এই পুরো পদ্ধতিটাই বদলে যেতে পারে।
Sameer Samat একটি barbecue আয়োজনের উদাহরণ দিয়েছেন। তার কাছে অতিথিদের তালিকা ছিল। কে কী খাবে, পরিবারে কতজন, বাচ্চা কতজন—সব তথ্যও ছিল।
তিনি Gemini-কে প্রয়োজনীয় grocery item delivery app-এর cart-এ যোগ করতে বলেন।
AI তখন Instacart নিজে খুলে প্রয়োজনীয় পণ্য খুঁজে cart-এ যোগ করতে শুরু করে।
এটাই Google-এর App Automation ধারণা।
আপনি শুধু বলবেন কী করতে চান। ফোন নিজে বুঝে App-এর ভেতরে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শেষ করার চেষ্টা করবে।
তবে AI নিজের ইচ্ছায় টাকা খরচ করতে পারবে না
এখানে একটু ভয় লাগতেই পারে।
AI যদি নিজে App খুলতে, button চাপতে এবং cart-এ জিনিস যোগ করতে পারে, তাহলে ভুল করে order দিয়ে দিলে কী হবে?
Google আপাতত সেই ক্ষমতা দিচ্ছে না।
App Automation কাজ করার সময় ব্যবহারকারী চাইলে AI কী করছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন। মাঝপথে কাজ থামিয়ে নিজেও নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।
Shopping-এর ক্ষেত্রে AI cart পর্যন্ত প্রস্তুত করতে পারবে। কিন্তু final checkout ব্যবহারকারীকেই করতে হবে।
Banking app-এর মতো sensitive জায়গাতেও এই automation ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
অর্থাৎ Google আগে AI-কে কাজ করার ক্ষমতা দিচ্ছে, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তটা মানুষের হাতেই রাখছে।
Android-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এখানেই
Sameer Samat-এর কথার মধ্যে একটা বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক দশক ধরে computer বা smartphone ব্যবহারের নিয়ম প্রায় একই। আমরা মেশিনকে প্রতিটি ছোট কাজ বলে দিই।
Google সেই সম্পর্কটা উল্টে দিতে চায়।
| এখনকার Smartphone | ভবিষ্যতের Intelligent Android |
|---|---|
| নিজে App খুলতে হয় | AI প্রয়োজনীয় App খুলবে |
| প্রতিটি step নিজে করতে হয় | শুধু লক্ষ্য বললেই হবে |
| Search করে option বাছতে হয় | AI তথ্য বুঝে কাজ এগিয়ে নেবে |
| App অনুযায়ী আলাদা workflow | একাধিক App মিলিয়ে কাজ হতে পারে |
| মানুষ device-কে পরিচালনা করে | AI মানুষের উদ্দেশ্য বুঝে সাহায্য করবে |
সহজভাবে বললে, ভবিষ্যতের Android-এ “কোন button চাপব?”—এর চেয়ে “আমি কী করতে চাই?” বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
AI নিয়ে মানুষ বিরক্ত হচ্ছে—Google সেটাও বুঝছে
এখন প্রায় প্রতিটি নতুন phone বা software-এর presentation খুললেই AI।
AI camera, AI writing, AI search, AI assistant—কখনও কখনও মনে হয় feature-এর নামের সামনে AI বসানোই যেন সবচেয়ে জরুরি।
Sameer Samat নিজেও এই AI fatigue নিয়ে কথা বলেছেন।
তার মতে, সাধারণ মানুষ technology কীভাবে কাজ করে সেটা নিয়ে সারাক্ষণ ভাবতে চায় না। তারা জানতে চায়—এটা আমার কী কাজে লাগবে?
Circle to Search-এর উদাহরণটাও এ কারণেই দিয়েছেন তিনি।
Google featureটির নাম “Circle to AI” রাখেনি। কারণ ব্যবহারকারী আসলে AI ব্যবহার করতে আসেননি। তিনি screen-এ দেখা কোনো জিনিস সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
পেছনে AI যত জটিল কাজই করুক, সামনে কাজটা সহজ হওয়াই Google-এর লক্ষ্য।
বেশি AI মানেই ফোনে আরও বেশি সময় কাটানো নয়
এখানে আরেকটা মজার ব্যাপার আছে।
Technology company সাধারণত চায় আমরা তাদের product বেশি ব্যবহার করি। অথচ Google-এর নতুন AI vision সফল হলে অনেক কাজ ফোন নিজেই করে দেবে।
তাহলে screen time বরং কমেও যেতে পারে।
Google সেই দিকটাও ভাবছে। Android-এ Pause Points নামে নতুন একটি ধারণা আনা হচ্ছে।
ধরুন, অভ্যাসবশত বারবার একটা social media app খুলছেন। চাইলে App খোলার আগে নিজের জন্য ছোট একটা বাধা বসাতে পারবেন।
যেমন crossword puzzle solve করতে হবে। কিংবা নিজের পছন্দের কয়েকটি ছবি দেখতে হবে।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার—App খোলার আগে কয়েক সেকেন্ড থামিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া, সত্যিই কি এখন Appটা খুলতে চাই?
এমনকি Pause Points বন্ধ করতে ফোন reboot করার শর্তও নিজের জন্য চালু রাখা যাবে।
গাড়িতে Gemini আরও স্বাভাবিকভাবে কথা বুঝবে
গাড়িতে voice assistant ব্যবহার করেছেন এমন অনেকেই সমস্যাটা জানেন।
একটা নির্দিষ্ট command একটু অন্যভাবে বললেই assistant বুঝতে পারে না। আবার বলতে হয়।
Gemini দিয়ে Google এই অভিজ্ঞতাও বদলাতে চায়।
ধরুন, airport যাচ্ছেন কিন্তু terminal number মনে নেই। শুধু airline-এর নাম বললেন। Gemini কথার context বুঝে সঠিক terminal খুঁজে navigation শুরু করতে পারবে।
Sameer Samat আরও interesting একটা ভবিষ্যৎ feature-এর কথা জানিয়েছেন।
Google এমন ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে, যেখানে গাড়ি চালানোর সময় কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে Gemini সেই মুহূর্তেই আপনার জন্য podcast-এর মতো audio তৈরি করতে পারবে।
দীর্ঘ commute হলে বিষয়টা সত্যিই কাজে লাগতে পারে।
তাহলে App কি একদিন গুরুত্ব হারাবে?
এখনই তা বলা যাবে না।
বরং Google-এর বর্তমান পরিকল্পনায় App থাকছেই। পার্থক্য হলো—ভবিষ্যতে সবসময় App-এর interface আপনাকে নিজে চালাতে নাও হতে পারে।
Gemini আপনার হয়ে App-এর সঙ্গে কাজ করবে।
এটা সফল হলে smartphone ব্যবহারের সবচেয়ে পরিচিত অভ্যাসগুলোর একটি বদলে যেতে পারে। আমরা হয়তো ধীরে ধীরে “App কোথায়?” জিজ্ঞেস করা কমিয়ে “এই কাজটা করে দাও” বলা শুরু করব।
তবে এখানে privacy ও security বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
AI যত বেশি App এবং ব্যক্তিগত তথ্য access করবে, ভুল কাজ বা অনাকাঙ্ক্ষিত access ঠেকানোও তত গুরুত্বপূর্ণ হবে। Google যে final payment এবং banking-এর মতো জায়গায় এখনই সীমা রাখছে, সেটাই দেখায় বিষয়টা কতটা সংবেদনশীল।
শেষ কথা
গত ১৫–২০ বছরে smartphone অনেক শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু ব্যবহার করার মূল নিয়মটা খুব একটা বদলায়নি—App খুলি, button চাপি, কাজ শেষ করি।
Gemini দিয়ে Google এবার সেই নিয়মটাই বদলাতে চাইছে।
ফোনকে প্রতিটি step দেখিয়ে দেওয়ার বদলে যদি শুধু বলা যায়, “আগামীকালের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় বাজারটা cart-এ দিয়ে রাখো”—আর কয়েক মিনিট পর ফোন কাজটা শেষ করে দেয়, সেটা শুধু নতুন AI feature হবে না।
Smartphone ব্যবহারের ধরনটাই বদলে যাবে।
তবে Google-এর সামনে কঠিন কাজটাও এখানেই। AI-কে এতটা ক্ষমতা দিতে হবে যেন সত্যিই সময় বাঁচে, আবার এতটা নয় যে ব্যবহারকারী নিজের ফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় পান।
সেই ভারসাম্যটা ঠিক করতে পারলে ভবিষ্যতের Android-এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হয়তো নতুন কোনো App নয়—আপনি ফোনকে কী করতে বলছেন, সেটাই।

