রাস্তায় ট্রাক নয়, পণ্য যাবে আকাশে
ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের যানজটে জরুরি ওষুধ বা ছোট কোনো পণ্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। ভারতের Airbound এমন সমস্যার সমাধান খুঁজছে একেবারে অন্যভাবে—রাস্তা বাদ দিয়ে আকাশ ব্যবহার করে।
ভারতের এই startup নতুন করে ৩৭ মিলিয়ন ডলার Series A বিনিয়োগ পেয়েছে। Airbound-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে Greenoaks; সঙ্গে DoorDash, Lachy Groom, Lightspeed ও Humba Ventures-ও অংশ নিয়েছে। এর আগে পাওয়া বিনিয়োগসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট funding এখন প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার।
Drone, automation ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে আরও খবর পাওয়া যাবে TechnicalBD-এর Tech News বিভাগে।
দেখতে Rocket-এর মতো, কিন্তু আসলে Delivery Drone
Airbound-এর drone সাধারণ quadcopter-এর মতো নয়।
এটি tail-sitter design ব্যবহার করে। অর্থাৎ rocket-এর মতো সোজা অবস্থায় মাটি থেকে উড়ে ওঠে, এরপর সামনের দিকে ঝুঁকে fixed-wing aircraft-এর মতো উড়ে যায়। গন্তব্যে গিয়ে আবার খাড়া হয়ে অবতরণ করতে পারে।
Airbound-এর official technology page অনুযায়ী, তাদের aircraft-এ blended-wing-body design ও carbon-fiber structure ব্যবহার করা হয়েছে। কোম্পানির দাবি, এর ফলে প্রচলিত craft-এর তুলনায় frame অনেক হালকা রাখা সম্ভব।
বর্তমান TRT drone-এর specification:
| বিষয় | Airbound TRT |
|---|---|
| Drone-এর ওজন | প্রায় ১.৫ কেজি |
| বহন করতে পারে | প্রায় ১ কেজি |
| Range | প্রায় ৪০ কিলোমিটার |
| গতি | প্রায় ৬০ কিমি/ঘণ্টা |
| উড্ডয়ন | Vertical takeoff ও landing |
| পরিচালনা | Autonomous |
এই তথ্যগুলো Airbound-এর official TRT specification-এ প্রকাশ করা হয়েছে।
Drone-এর চেয়েও মাল ভারী—এটাই আসল লক্ষ্য
Airbound-এর চিন্তাটা বেশ সহজ।
একটি aircraft যদি নিজের ওজন বহন করতেই বেশিরভাগ শক্তি খরচ করে, তাহলে ছোট পণ্য আকাশপথে পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে যায়।
তাই Airbound এমন aircraft বানাতে চায় যার নিজের ওজনের চেয়ে বহন করা পণ্যের ওজন বেশি হবে।
TechCrunch-কে প্রতিষ্ঠাতা Naman Pushp জানিয়েছেন, তাদের পরবর্তী drone-এর ওজন প্রায় ৩ কেজি হলেও ৫ কেজি পর্যন্ত পণ্য বহনের লক্ষ্য রয়েছে। TechCrunch-এর মূল প্রতিবেদন
দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য আরও বড়—নির্দিষ্ট ধরনের পণ্য পরিবহনে drone-এর খরচকে road trucking-এর কাছাকাছি নিয়ে আসা।
হাসপাতালের কাজে ইতিমধ্যেই ব্যবহার হচ্ছে
এটি শুধু পরীক্ষাগারের project নয়।
Airbound জানিয়েছে, তাদের aircraft ইতিমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি autonomous flight সম্পন্ন করেছে। Bengaluru ও Guntur-এ এসব flight পরিচালিত হয়েছে।
এর মধ্যে ভারতের Narayana Health-এর জন্য এক হাজারের বেশি flight হয়েছে। Drone ব্যবহার করে বিভিন্ন healthcare facility-এর মধ্যে diagnostic sample পরিবহন করা হচ্ছে।
একটি নির্দিষ্ট route-এ প্রায় ২.৫ মাইল পথ drone অতিক্রম করছে প্রায় ৭ মিনিটে। একই sample road transport-এ পাঠাতে batching ও অপেক্ষার সময়সহ ৩–৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে বলে Airbound-এর CEO জানিয়েছেন।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় কয়েক ঘণ্টা আর কয়েক মিনিটের পার্থক্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটাই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।
এবার দিনে ১০ হাজার Flight-এর পরিকল্পনা
নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি Airbound ভারতের Andhra Pradesh সরকারের সঙ্গে একটি deployment agreement করেছে।
লক্ষ্য হলো তিনটি শহরকে যুক্ত করে এমন একটি drone network তৈরি করা, যেখানে ভবিষ্যতে প্রতিদিন ১০ হাজার flight পরিচালনা করা যাবে। Healthcare-এর পাশাপাশি retail ও e-commerce delivery-তেও এটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি বাস্তবায়ন করতে প্রায় ২৫০ থেকে ১,০০০ aircraft প্রয়োজন হতে পারে—route কতটা দীর্ঘ হবে তার ওপর সংখ্যাটি নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু খাবার বা online shopping delivery-তে সীমাবদ্ধ নয়।
দুর্গম চরাঞ্চল, বন্যাকবলিত এলাকা কিংবা যানজটপূর্ণ শহরে ওষুধ, রক্তের sample, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী এবং ছোট parcel দ্রুত পৌঁছে দিতে এ ধরনের drone ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
বিশেষ করে যেখানে ১ কেজি ওজনের একটি জরুরি package পাঠাতে পুরো গাড়ি বা motorcycle ব্যবহার করতে হয়, সেখানে ছোট autonomous aircraft কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে এখনই “বাংলাদেশে truck-এর জায়গা drone নিয়ে নেবে” বলা বাস্তবসম্মত নয়।
সবচেয়ে বড় বাধা প্রযুক্তি নয়
Airbound-এর সামনেও সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন।
বড় পরিসরে delivery network চালাতে drone-কে operator-এর সরাসরি চোখের বাইরে বা BVLOS (Beyond Visual Line of Sight) উড়তে হয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর regulatory approval। Airbound-এর CEO-ও এটিকে scale করার বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া খারাপ আবহাওয়া, নিরাপত্তা, battery, বেশি ওজনের পণ্য এবং শহরের ঘনবসতিও বাস্তব চ্যালেঞ্জ।
তাই truck পুরোপুরি বাদ যাবে না। বরং ছোট ও জরুরি delivery-তে drone এবং বড় পণ্য পরিবহনে truck—দুটো পাশাপাশি কাজ করাই বেশি বাস্তবসম্মত।
ভালো দিক ও সীমাবদ্ধতা
ভালো দিক: যানজট এড়িয়ে দ্রুত delivery, runway প্রয়োজন নেই, autonomous operation এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি কাজে ইতিমধ্যেই বাস্তব ব্যবহার শুরু হয়েছে।
সীমাবদ্ধতা: বর্তমান TRT মাত্র প্রায় ১ কেজি পণ্য বহন করতে পারে, বড় network-এর জন্য regulatory approval প্রয়োজন এবং trucking-এর সমান scale এখনো অনেক দূরের লক্ষ্য।
শেষ কথা
Airbound-এর সবচেয়ে interesting দিক rocket-এর মতো দেখতে drone নয়—তারা delivery-এর economics বদলাতে চাইছে।
আজ একটি ১ কেজির medical sample পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তী aircraft-এর লক্ষ্য নিজের ওজনের চেয়েও বেশি পণ্য বহন করা। এরপর লক্ষ্য দিনে হাজার হাজার autonomous flight।
সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ছোট ও জরুরি পণ্য পরিবহনে road delivery-এর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ দেশে এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্গম এলাকায় জরুরি delivery-তে সত্যিই অর্থবহ হতে পারে।
তবে সেই ভবিষ্যৎ এখনো কিছুটা দূরে—প্রযুক্তির পাশাপাশি আইন, নিরাপত্তা এবং খরচের পরীক্ষাতেও Airbound-কে সফল হতে হবে।

