বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার যত বাড়ছে, শুধু নতুন গাড়ি এনে দিলেই আর চলবে না। এসব গাড়ি নিরাপদে ও সঠিকভাবে চালাতে চালকদেরও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। এবার ঠিক সেই জায়গায় জোর দিচ্ছে BYD Bangladesh।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের Build Your Dreams: NEV Drivers Training কার্যক্রমের দ্বিতীয় বছর চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জায়গার চালকদের New Energy Vehicle বা NEV প্রযুক্তি নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সনদও পাচ্ছেন।
BYD Bangladesh বলছে, তাদের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশে আধুনিক গাড়ি আনা নয়। দক্ষ চালক তৈরি করা, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়ানো আর টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অংশ।
NEV আসলে কী
NEV বা New Energy Vehicle বলতে সাধারণত সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং নানা ধরনের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বোঝানো হয়। প্রচলিত পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির তুলনায় এগুলোর চালানো আর শক্তি ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিতে বেশ পার্থক্য আছে।
BYD এখন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি DM-i প্রযুক্তির প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িও বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে ATTO 3, SEAL, SEAL 6, SEAL 5 এবং SEALION সিরিজের একাধিক মডেল তালিকাভুক্ত আছে।
গাড়িতে নতুন প্রযুক্তি কত দ্রুত ঢুকে পড়ছে, তার একটি বাস্তব উদাহরণ Android Auto। সংযোগ বা সেটিং ঠিক না থাকলে অনেক ব্যবহারকারী ভাবেন, গাড়ি বা ফোনে বড় কোনো সমস্যা হয়েছে। এ বিষয়ে TechnicalBD এর Android Auto কাজ না করলে আগে যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করবেন গাইডটি কাজে আসতে পারে।
চালকদের আলাদা প্রশিক্ষণ কেন দরকার
বৈদ্যুতিক গাড়িতে অ্যাক্সিলারেটরে সাড়া দেওয়ার ধরন, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং, চার্জিং ব্যবস্থা আর নানা স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সুবিধা প্রচলিত গাড়ির চেয়ে আলাদা হতে পারে। গাড়ির প্রযুক্তি সম্পর্কে ঠিকমতো ধারণা থাকলে চালকের পক্ষে সেটি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা সহজ হয়।
আজকের গাড়িতে নেভিগেশন, ইনফোটেইনমেন্ট আর ফোনের সংযোগও জরুরি অংশ হয়ে উঠেছে। একই অ্যাপ ফোনে আর গাড়ির ডিসপ্লেতে আলাদাভাবে চলতে পারে। TechnicalBD এর Android Auto তে Waze এর কিছু সুবিধা কেন পাওয়া যায় না পোস্টে এই পার্থক্যগুলো বিস্তারিত দেখানো হয়েছে।
এ ধরনের প্রযুক্তি বুঝতে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই চলে না। নতুন ইন্টারফেস, চালক-সহায়ক ব্যবস্থা আর শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও মৌলিক ধারণা থাকা দরকার।
শুধু গাড়ি বিক্রি নয়, পুরো ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা
BYD Bangladesh তাদের এই প্রশিক্ষণকে বড় পরিসরে NEV ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ভাবনী গাড়ি বাজারে আনার পাশাপাশি মানুষকে নতুন দক্ষতা দেওয়া আর টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার ভিত শক্ত করাও তাদের লক্ষ্য।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার বড় হলে শুধু গাড়ির সংখ্যাই বাড়বে না। সঙ্গে দরকার হবে প্রশিক্ষিত চালক, চার্জিং সুবিধা, দক্ষ টেকনিশিয়ান আর উপযুক্ত সার্ভিস অবকাঠামো।
BYD Bangladesh এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখন ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, বগুড়া, মাওয়া ও সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গার ইভি চার্জিং স্টেশনের তথ্য দেওয়া আছে।
বাংলাদেশে EV প্রযুক্তি কেন এখন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার এখনো জ্বালানিচালিত গাড়ির তুলনায় সীমিত। তবে নতুন EV ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেল বাজারে আসায় ব্যবহারকারী, চালক আর সেবাদাতাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন বাড়ছে।
বিশ্বের নানা জায়গায় বৈদ্যুতিক ও বিকল্প শক্তিনির্ভর যানবাহনের ব্যবহারও দ্রুত বদলাচ্ছে। TechnicalBD এর ৮০০ কিলোমিটারের বেশি পরীক্ষা সম্পন্ন করা Stella Juva সৌরশক্তিচালিত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাটারি আর সৌরপ্রযুক্তি শুধু ব্যক্তিগত গাড়িতেই নয়, চিকিৎসাসেবার মতো ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বাংলাদেশে এই পরিবর্তন কত দ্রুত আসবে, তা নির্ভর করবে গাড়ির দাম, চার্জিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, বিক্রয়োত্তর সেবা আর ব্যবহারকারীর আস্থার ওপর। এর পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির বিষয়টিও জরুরি হয়ে উঠছে।
BYD বাংলাদেশে কবে যাত্রা শুরু করে
BYD Bangladesh এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের মার্চে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর দেশে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির একাধিক মডেল এনেছে, আর চার্জিং নেটওয়ার্ক বাড়াতেও কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কার্যক্রম চালাচ্ছে CG Runner BD Limited। ঢাকার তেজগাঁওয়ে BYD এর প্রধান শোরুম ও সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।
প্রশিক্ষণে কারা অংশ নিতে পারবেন
BYD Bangladesh এর বর্তমান প্রকাশনায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চালকদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই কার্যক্রমে নিবন্ধনের পদ্ধতি, পরবর্তী দলের তারিখ, অংশ নেওয়ার খরচ কিংবা কারা আবেদন করতে পারবেন, এসব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তাই কেউ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চাইলে সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া কোনো অনানুষ্ঠানিক নিবন্ধন লিঙ্কে না গিয়ে সরাসরি BYD Bangladesh এর অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
এই প্রশিক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
প্রচলিত গাড়ি অনেক দিন চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও বৈদ্যুতিক গাড়ির শক্তি পুনরুদ্ধার, ব্যাটারির ব্যবহার আর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস নিয়ে আলাদা ধারণা লাগে। সঠিক প্রশিক্ষণ চালককে শুধু গাড়ি চালাতে নয়, গাড়ির প্রযুক্তি ভালোভাবে বুঝতেও সাহায্য করতে পারে।
বিশেষ করে বাণিজ্যিক চালক কিংবা যাঁরা নিয়মিত দূরের পথে গাড়ি চালান, তাঁদের জন্য শক্তির ব্যবহার, চার্জের বিরতি আর নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে আরও জরুরি হয়ে উঠতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার গড়ে তুলতে শুধু নতুন মডেল আর চার্জিং স্টেশন যথেষ্ট নয়। গাড়ি চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ আর নতুন প্রযুক্তি বোঝার মতো দক্ষ জনবলও দরকার।
BYD Bangladesh এর NEV Drivers Training ঠিক সেই জায়গায় জোর দিচ্ছে। উদ্যোগটি দ্বিতীয় বছরেও চলছে, যা দেখায় প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি চালকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার কাজও চালিয়ে যেতে চাইছে।
বাংলাদেশে EV ব্যবহার বাড়লে এ ধরনের বাস্তব প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা বড় হবে, তা বোঝার জন্য ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, প্রশিক্ষণের পরিধি আর নিয়মিত আয়োজনের তথ্য জানা দরকার।
সর্বশেষ আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬

