প্রতিদিন ল্যাপটপ ব্যাগে নিয়ে অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা বাইরে কাজ করতে হলে ওজন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। Infinix এবার XBOOK 14 Neo দিয়ে এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করেছে, যারা হালকা কিন্তু কাজের উপযোগী ল্যাপটপ চান।
Infinix ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইন্দোনেশিয়ায় XBOOK 14 Neo আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। নতুন ল্যাপটপটির ওজন মাত্র ১.২ কেজি, তাই নিয়মিত বহন করার জন্য এটিকে হালকা নকশার মডেল হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
হালকা ল্যাপটপের গুরুত্ব বোঝার জন্য TechnicalBD এর ASUS ProArt P16 ও P14 প্রতিবেদন পড়তে পারেন। সেখানে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও পাতলা ও হালকা নকশা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা দেখানো হয়েছে।
১৪ ইঞ্চির পর্দা, নকশায় বহনযোগ্যতার ওপর জোর
XBOOK 14 Neo এ রয়েছে ১৪ ইঞ্চির 16:10 অনুপাতের পর্দা। ল্যাপটপটির মাপ 314.2 × 219.7 × 17.4 মিলিমিটার এবং ওজন মাত্র ১.২ কেজি, যা প্রতিদিন বহনের জন্য সুবিধাজনক।
Infinix জানিয়েছে, মডেলটি শিক্ষার্থী, অফিসকর্মী এবং বেশি চলাফেরা করেন এমন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি। পর্দার অনুপাতও সাধারণ 16:9 এর তুলনায় উল্লম্বভাবে কিছুটা বেশি জায়গা দেয়।
Core i3 থেকে Core 5 পর্যন্ত প্রসেসর
XBOOK 14 Neo বিভিন্ন প্রসেসর বিকল্পে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে Intel Core i3 1315U, Core i5 1335U, Core 3 304 এবং সর্বোচ্চ Core 5 320 সংস্করণ রয়েছে।
এর সঙ্গে 8GB RAM এবং 256GB বা 512GB SSD বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, RAM ও SSD পরবর্তীতে বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী মেমোরি বাড়ানো সম্ভব।
ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার আপগ্রেড কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা TechnicalBD এর Alienware 16X Aurora প্রতিবেদন থেকেও বোঝা যায়। সেখানে RAM এবং SSD পরিবর্তনের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কীভাবে কাজে আসে, তা আলোচনা করা হয়েছে।
ব্যাটারি 55Wh, চার্জিং 65W
ল্যাপটপটিতে 55Wh ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে এবং USB C দিয়ে 65W চার্জিং সমর্থন করে। ফলে একই ধরনের USB C চার্জার সঙ্গে নিয়ে একাধিক যন্ত্র চার্জ করার সুবিধাও অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ব্যবহারিক হতে পারে।
কিছু প্রতিবেদনে একবার চার্জে ১৩ ঘণ্টার বেশি ব্যবহারের দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ধরনের ব্যাটারি সময় বাস্তবে কাজের ধরন, পর্দার উজ্জ্বলতা এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
সংযোগ সুবিধায় কী আছে
XBOOK 14 Neo এ একটি পূর্ণ সুবিধার USB C, তিনটি USB A, HDMI 1.4 এবং অডিও জ্যাক রয়েছে। বেতার সংযোগের জন্য Wi Fi 6 এবং Bluetooth 5.2 সমর্থনও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া 720p ওয়েবক্যাম, গোপনীয়তার জন্য ক্যামেরা বন্ধ করার ব্যবস্থা এবং আলোযুক্ত কিবোর্ড রয়েছে। ল্যাপটপে কাজের সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ভিডিও কলের সুবিধা বাড়ানোর দিকেও তাই কিছুটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Folax AI দিয়ে কী করা যাবে
Infinix XBOOK 14 Neo এ Folax AI নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী দেওয়া হয়েছে। এটি নথির সারাংশ তৈরি, তথ্য খোঁজা, প্রশ্নের উত্তর এবং কিছু লেখালেখির কাজে সহায়তা করার জন্য তৈরি।
নিজের কম্পিউটারে AI ব্যবহার এখন দ্রুত বাড়ছে। TechnicalBD এর Perplexity Portable Computer প্রতিবেদন দেখায়, স্থানীয় কম্পিউটারে AI ব্যবহারের দিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কেন আগ্রহী হচ্ছে।
টেকসই নকশার দাবিও করেছে Infinix
Infinix বলছে, XBOOK 14 Neo US Military Grade মান অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা পেরিয়েছে। এর মধ্যে চরম তাপমাত্রা, কম বায়ুচাপ, তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং যান্ত্রিক ধাক্কার মতো পরীক্ষা রয়েছে।
তবে Military Grade লেখা থাকলেই ল্যাপটপ ভাঙবে না এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার মান বোঝায়, তাই বাস্তব ব্যবহারে যত্নসহকারে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
চারটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে
XBOOK 14 Neo চারটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো Twilight Purple, Sonic Yellow, Shadow Blue এবং Volcano Grey। Infinix তরুণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ল্যাপটপটির রঙ ও নকশায় তুলনামূলক সাহসী ধরন ব্যবহার করেছে।
হালকা ও রঙিন ল্যাপটপের ধারণাটি এখন বাজারে বাড়ছে। TechnicalBD এর Lenovo ThinkBook AeroBlade প্রতিবেদন পড়লে পাতলা ও বহনযোগ্য কম্পিউটারের দিকে নির্মাতাদের আগ্রহ সম্পর্কে আরও ধারণা পাওয়া যায়।
ইন্দোনেশিয়ায় দাম কত
ইন্দোনেশিয়ায় XBOOK 14 Neo এর দাম শুরু হয়েছে Rp 7,999,000 থেকে। এই দামে Core i3 1315U, 8GB RAM এবং 256GB SSD সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে।
Core i5 1335U সংস্করণের দাম Rp 10,490,000 এবং Core 5 320 সংস্করণের দাম Rp 10,599,000 পর্যন্ত গেছে। বিভিন্ন স্টোরেজ ও প্রসেসর সংস্করণ অনুযায়ী মাঝামাঝি আরও কয়েকটি দাম রয়েছে।
বাংলাদেশে পাওয়া যাবে কি
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে XBOOK 14 Neo এর অফিসিয়াল দাম বা বিক্রির তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। তাই ইন্দোনেশিয়ার দামকে সরাসরি বাংলাদেশের বাজারদর ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এলে স্থানীয় কর, পরিবহন খরচ, ওয়ারেন্টি এবং সংস্করণ অনুযায়ী দাম আলাদা হতে পারে। কেনার আগে Infinix Bangladesh অথবা অনুমোদিত বিক্রেতার তথ্য যাচাই করাই ভালো।
শেষ কথা
Infinix XBOOK 14 Neo মূলত হালকা ও বহনযোগ্য ল্যাপটপ খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি। ১.২ কেজি ওজন, বিভিন্ন Intel প্রসেসর এবং আপগ্রেড সুবিধা এটিকে ব্যবহারিক করে তুলেছে।
55Wh ব্যাটারি, 65W USB C চার্জিং, Wi Fi 6 এবং Folax AI যোগ হওয়ায় এটি শুধু হালকা নয়, দৈনন্দিন পড়াশোনা ও অফিসের কাজের জন্যও যথেষ্ট আধুনিক একটি প্যাকেজ হয়ে উঠেছে।

