হোমওয়েবসাইট এসইওনতুন WordPress Website তৈরির পর যে ৯টি SEO Setup অবশ্যই করবেন
ক্যাটেগরি:

নতুন WordPress Website তৈরির পর যে ৯টি SEO Setup অবশ্যই করবেন

নতুন WordPress ওয়েবসাইটের SEO সেটআপ ঠিকভাবে না করলে Google-এর পক্ষে সাইটটি খুঁজে পাওয়া, ক্রল করা এবং ইনডেক্স করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই সাইট চালুর শুরুতেই কিছু জরুরি সেটআপ সেরে ফেলা দরকার।

শুধু সুন্দর ডিজাইন আর ভালো কনটেন্ট যথেষ্ট নয়। Search Console, সাইটম্যাপ, HTTPS, ইন্টারনাল লিংক, robots.txt, ক্যানোনিক্যাল, Schema এবং সাইটের গতি ঠিক থাকলে SEO-র ভিত্তি অনেক মজবুত করা যায়। হোস্টিং, থিম, ছবি আর স্ক্রিপ্ট সামলাতে WordPress Website এর গতি বাড়ানোর কার্যকর উপায় আগে থেকে জানা থাকলে পরের কাজ সহজ হয়।

১. সার্চ ইঞ্জিন ভিজিবিলিটি এবং noindex পরীক্ষা করুন

WordPress ড্যাশবোর্ড থেকে Settings-এর Reading অংশে যান। সেখানে “Discourage search engines from indexing this site” অপশনটি চালু থাকলে বন্ধ করে দিন। এটি চালু থাকলে WordPress সার্চ ইঞ্জিনকে সাইট ইনডেক্স না করার নির্দেশ দিতে পারে।

তবে শুধু এই অপশন বন্ধ করলেই কাজ শেষ হয় না। জরুরি কোনো পেজে ভুল করে noindex দেওয়া আছে কি না, সাইট মেইনটেন্যান্স মোড বা পাসওয়ার্ড প্রটেকশনের ভেতরে আছে কি না এবং সার্ভার এরর হচ্ছে কি না, সেটিও দেখে নিন।

Google-এর Crawling ও Indexing নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো পেজ সার্চ রেজাল্টে আসার আগে Googlebot-এর পক্ষে সেটিতে সহজে ঢুকতে পারা দরকার। তাই নতুন সাইট চালুর সময় ক্রল ও ইনডেক্সিংয়ের বাধাগুলো আগেই যাচাই করে নেওয়া নিরাপদ।

২. Google Search Console এবং সাইটম্যাপ যুক্ত করুন

প্রথমে Google Search Console-এ সাইটের প্রপার্টি যোগ করে মালিকানা ভেরিফাই করুন। এরপর WordPress-এর তৈরি সাইটম্যাপ, অথবা আপনার SEO প্লাগইনের সাইটম্যাপ Search Console-এ জমা দিন। এতে Google সহজে আপনার দরকারি URL-গুলো খুঁজে পায়।

সাধারণ WordPress সাইটে সাইটম্যাপের ঠিকানা হতে পারে:

https://example.com/wp-sitemap.xml

SEO প্লাগইন ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে ঠিকানাটি এমন হয়:

https://example.com/sitemap_index.xml

সাইটম্যাপ জমা দিলেই যে সব পেজ ইনডেক্স হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কোনো URL-এর বর্তমান অবস্থা জানতে Search Console-এর URL Inspection ব্যবহার করুন। সেখানে দেখতে পাবেন Google সর্বশেষ কবে পেজটি ক্রল করেছে এবং ইনডেক্সিংয়ে কোনো সমস্যা আছে কি না।

WordPress কোর, থিম এবং দরকারি প্লাগইন নিয়মিত আপডেট রাখাও সাইট পরিচালনার একটি বড় অংশ। নতুন সংস্করণে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, তা বুঝতে WordPress 7.1 এর নতুন সুবিধা ও পরিবর্তন নিয়ে লেখাটিও কাজে লাগতে পারে।

৩. HTTPS, মোবাইল ভিউ এবং নেভিগেশন ঠিক করুন

সাইটে বৈধ SSL সার্টিফিকেট থাকা উচিত এবং সব দরকারি পেজ HTTPS দিয়ে খোলা দরকার। HTTP ও HTTPS দুটি সংস্করণ আলাদাভাবে চালু থাকলে ডুপ্লিকেট URL, রিডাইরেক্ট এবং ক্যানোনিক্যাল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

মোবাইল থেকে মেনু, লেখা, বাটন ও ফর্ম সহজে ব্যবহার করা যাচ্ছে কি না দেখে নিন। জরুরি কনটেন্ট যেন হোমপেজ, ক্যাটাগরি বা অন্য প্রাসঙ্গিক পেজ থেকে কয়েক ধাপের মধ্যেই পাওয়া যায়, সেটিও নিশ্চিত করুন।

বাংলাদেশের পাঠকদের বড় একটি অংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ডেস্কটপে ডিজাইন সুন্দর হলেও মোবাইলে ফন্ট ছোট হলে, বাটন চাপতে সমস্যা হলে কিংবা বড় ছবি পুরো লেআউট নষ্ট করে দিলে পাঠকের অভিজ্ঞতা দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে।

৪. পরিষ্কার URL, SEO টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন লিখুন

WordPress সেটিংসের Permalinks অংশে গিয়ে সহজ ও অর্থবহ URL কাঠামো বেছে নিন। অকারণ সংখ্যা, তারিখ বা অস্পষ্ট শব্দের বদলে পেজের বিষয় সহজে বোঝায়, এমন ছোট স্লাগ ব্যবহার করা ভালো।

প্রতিটি দরকারি পেজের জন্য আলাদা SEO টাইটেল ও মেটা ডেসক্রিপশন লিখুন। টাইটেলে মূল বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে রাখুন। একই কিওয়ার্ড বারবার বসিয়ে শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্য টাইটেল বানাবেন না।

মেটা ডেসক্রিপশন সরাসরি র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত করে না, আর Google প্রয়োজনে সার্চ রেজাল্টে অন্য লেখাও দেখাতে পারে। তবু পরিষ্কার ডেসক্রিপশন পাঠককে পেজের বিষয় দ্রুত বুঝতে এবং সঠিক রেজাল্টটি বেছে নিতে সাহায্য করে।

৫. পাঠকের প্রয়োজন অনুযায়ী মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করুন

শুধু কিওয়ার্ড বসানোর উদ্দেশ্যে আর্টিকেল লেখা উচিত নয়। পাঠকের প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর, বাস্তব নির্দেশনা, দরকারি উদাহরণ, যাচাই করা যায় এমন তথ্য এবং নিজের ব্যাখ্যা যোগ করলে কনটেন্টের আলাদা মূল্য অনেক বেড়ে যায়।

অন্য ওয়েবসাইটের তথ্য নিয়ে শুধু বাক্য বদলে প্রকাশ করলে পাঠক নতুন কিছু পান না। Google-এর People First Content নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভালো কনটেন্টের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো শব্দসংখ্যা নেই।

তাই ৫০০ বা ১০০০ শব্দ পূরণ করতে অকারণে কথা বাড়ানোর দরকার নেই। বিষয়টি বুঝতে পাঠকের যা জানা প্রয়োজন, তা পুরোপুরি দেওয়াই আসল কথা। আর তথ্য বদলে গেলে ইনডেক্স হয়ে থাকা পুরোনো পোস্ট আপডেট করা আরও জরুরি।

৬. ইন্টারনাল লিংক এবং ইমেজ SEO ঠিক করুন

আর্টিকেলের প্রাসঙ্গিক বাক্যের মধ্যে সম্পর্কিত পোস্টের লিংক যোগ করুন। অ্যাংকর টেক্সট দেখেই পাঠক যেন বুঝতে পারেন, লিংকে গেলে কী তথ্য পাবেন। শুধু লিংকের সংখ্যা বাড়াতে অপ্রাসঙ্গিক পেজ জুড়ে দেওয়া ভালো পদ্ধতি নয়।

নতুন পোস্ট প্রকাশের পর পুরোনো প্রাসঙ্গিক পোস্ট থেকেও নতুন URL-এ লিংক দিন। এতে Google নতুন পোস্টটি খুঁজে পাওয়ার বাড়তি পথ পায়, অরফান পেজ কমে এবং একই বিষয়ের কনটেন্টগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও পরিষ্কার হয়।

ছবি আপলোডের আগে ফাইল সাইজ ও রেজোলিউশন দরকার মতো ঠিক করে নিন। খুব ছোট ছবি অকারণে অনেক বড় করলে মান নষ্ট হতে পারে। এ বিষয়ে কোয়ালিটি ঠিক রেখে ছবি Resize করার সঠিক উপায় বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যায়।

তথ্যবহুল ছবিতে ছোট ও অর্থপূর্ণ Alt Text দিন। শুধু সাজসজ্জার ছবি হলে Alt অ্যাট্রিবিউট ফাঁকা রাখা যায়। ছবি খুঁজে পাওয়া, ফাইলের নাম ও Alt Text নিয়ে বিস্তারিত জানতে Google-এর Official Image SEO নির্দেশিকা দেখতে পারেন।

৭. Core Web Vitals এবং ওয়েবসাইটের গতি পরীক্ষা করুন

Google PageSpeed Insights দিয়ে হোমপেজের সঙ্গে জরুরি আর্টিকেল ও ক্যাটাগরি পেজও পরীক্ষা করুন। ভালো ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতার সাধারণ লক্ষ্যমাত্রা হলো LCP সর্বোচ্চ ২.৫ সেকেন্ড, INP সর্বোচ্চ ২০০ মিলিসেকেন্ড এবং CLS সর্বোচ্চ ০.১।

PageSpeed Insights-এর ল্যাব ডেটা নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফল দেখায়, আর ফিল্ড ডেটা দেখায় বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা। তাই শুধু একটি পারফরম্যান্স স্কোর দেখে সাইট দ্রুত না ধীর, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

বড় ছবি, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট, ধীর হোস্টিং, অতিরিক্ত প্লাগইন আর ভারী থিম পেজের গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই সমস্যা হলে এলোমেলো পরিবর্তন না করে আগে খুঁজে বের করুন কোন রিসোর্স সবচেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে।

সাইট চালুর পর অ্যানালিটিকস ও SEO সমস্যা নিয়মিত নজরে রাখাও কাজে লাগে। এ ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে আরও জানতে WordPress Form Analytics ও SEO Monitoring সুবিধা নিয়ে লেখাটি দেখতে পারেন।

৮. robots.txt, ক্যানোনিক্যাল এবং রিডাইরেক্ট পরীক্ষা করুন

আপনার সাইটের robots.txt ফাইল ভুল করে কোনো জরুরি পেজ বা দরকারি রিসোর্স ক্রল করা আটকে দিচ্ছে কি না, দেখে নিন। Google বলছে, robots.txt মূলত ক্রলারের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো পেজকে সার্চ রেজাল্ট থেকে সরিয়ে রাখার নির্ভরযোগ্য উপায় এটি নয়।

কোনো পেজ সার্চ রেজাল্টে রাখতে না চাইলে পরিস্থিতি অনুযায়ী noindex বা অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ব্যবহার করতে হয়। Google-এর robots.txt নির্দেশিকা অনুযায়ী robots.txt ও ইনডেক্সিং কন্ট্রোলের কাজ আলাদা, তাই দুটিকে এক ভাবা উচিত নয়।

একই বা প্রায় একই কনটেন্ট একাধিক URL দিয়ে খোলা গেলে সঠিক ক্যানোনিক্যাল URL ঠিক করে দেওয়া দরকার। HTTPS, সাইটম্যাপ, রিডাইরেক্ট এবং rel=”canonical”-এর মতো সংকেত দেখে Google ঠিক করে কোন URL-টি প্রধান সংস্করণ হিসেবে ধরবে।

ক্যানোনিক্যাল নিয়ে বিস্তারিত জানতে Google-এর Canonical URL নির্দেশিকা অনুসরণ করা যায়। SEO প্লাগইন ক্যানোনিক্যাল তৈরি করলেও জরুরি পেজে সেটি সঠিক URL-এর দিকে ইঙ্গিত করছে কি না, মাঝেমধ্যে যাচাই করা ভালো।

কোনো পুরোনো URL স্থায়ীভাবে বদলালে এবং তার সত্যিকারের বিকল্প পেজ থাকলে 301 রিডাইরেক্ট ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মুছে যাওয়া সব URL হোমপেজে পাঠানো ঠিক নয়। অপ্রাসঙ্গিক রিডাইরেক্ট ব্যবহারকারী ও সার্চ ইঞ্জিন, দুজনকেই বিভ্রান্ত করতে পারে।

Google-এর Redirect নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থায়ী রিডাইরেক্ট নতুন URL-টিকে প্রধান সংস্করণ হিসেবে বোঝানোর একটি শক্তিশালী সংকেত হতে পারে। তাই স্লাগ বদলানোর সময় পুরোনো URL-এর রিডাইরেক্ট আগে থেকে ভেবে রাখা নিরাপদ।

৯. Schema এবং Search Console মনিটরিং চালু রাখুন

অনেক SEO প্লাগইন আর্টিকেল, ব্রেডক্রাম্ব বা ওয়েবসাইট-সংক্রান্ত স্ট্রাকচার্ড ডেটা নিজে থেকেই তৈরি করে। Schema ঠিকভাবে তৈরি হচ্ছে কি না, Google Rich Results Test দিয়ে তা যাচাই করা যায়। বিশেষ করে থিম বা প্লাগইন বদলানোর পর এটি দেখে নেওয়া ভালো।

স্ট্রাকচার্ড ডেটা যোগ করলেই সার্চ রেজাল্টে রিচ রেজাল্ট দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। Google-এর Structured Data নির্দেশিকা অনুযায়ী, মার্কআপ অবশ্যই পেজের দৃশ্যমান মূল কনটেন্টের সঙ্গে মিলতে হবে এবং সঠিক হতে হবে।

সাইট প্রকাশের পর Search Console একবার সেটআপ করেই ফেলে রাখা ঠিক নয়। Page Indexing, Performance, Sitemap ও URL Inspection নিয়মিত দেখলে ক্রল সমস্যা, ভুল ক্যানোনিক্যাল বা ইনডেক্সিংয়ের পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত ধরা যায়।

নতুন আর্টিকেল প্রকাশ বা জরুরি পুরোনো পোস্ট আপডেটের পর সময় নিয়ে তার ইনডেক্সিং অবস্থা লক্ষ করুন। প্রতিটি URL বারবার Request Indexing না করে বরং শক্ত ইন্টারনাল লিংকিং এবং পরিষ্কার সাইট কাঠামো তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

দ্রুত SEO চেকলিস্ট

বিষয় কী পরীক্ষা করবেন
ইনডেক্সিং সার্চ ভিজিবিলিটি, noindex এবং সার্ভার অ্যাক্সেস
Search Console প্রপার্টি ভেরিফিকেশন এবং সাইটম্যাপ
সাইটের কাঠামো HTTPS, মোবাইল ভিউ এবং নেভিগেশন
পেজ SEO পরিষ্কার URL, টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন
কনটেন্ট মৌলিকতা, নির্ভুলতা এবং পাঠকের বাস্তব উপকার
লিংকিং প্রাসঙ্গিক ইন্টারনাল লিংক এবং অরফান পেজ
ছবি ফাইল সাইজ, রেজোলিউশন, ফাইলের নাম এবং Alt Text
পারফরম্যান্স LCP, INP, CLS এবং পেজ লোড
ক্রল কন্ট্রোল robots.txt এবং জরুরি রিসোর্সে প্রবেশাধিকার
ডুপ্লিকেট URL ক্যানোনিক্যাল এবং সঠিক পছন্দের URL
রিডাইরেক্ট বদলে যাওয়া URL-এর জন্য দরকারি 301 রিডাইরেক্ট
Schema স্ট্রাকচার্ড ডেটা এবং Rich Results Test
মনিটরিং Page Indexing, Performance এবং URL Inspection

এই সেটআপের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধা

সাইট চালুর শুরুতেই ক্রলিং, ইনডেক্সিং ও ডুপ্লিকেট URL-সংক্রান্ত সমস্যা ধরা সহজ হয়। সাইটের কাঠামো পরিষ্কার থাকলে পরে নতুন কনটেন্ট প্রকাশ, ইন্টারনাল লিংকিং, সাইটম্যাপ এবং টেকনিক্যাল সমস্যা সামলানোও তুলনামূলক সহজ হয়।

সঠিক ভিত্তি শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্য নয়, পাঠকের জন্যও সাইট ব্যবহার সহজ করে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যবহারকারী বেশি হলে গতি, নেভিগেশন, পরিষ্কার লেআউট আর ছবির অপটিমাইজেশন সরাসরি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলে।

সীমাবদ্ধতা

SEO প্লাগইন ইনস্টল করা, সাইটম্যাপ জমা দেওয়া বা Search Console যুক্ত করলেই ভালো র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত হয় না। প্রতিযোগিতা, কনটেন্টের মান, ওয়েবসাইটের অথরিটি, সার্চ ইনটেন্ট এবং পাঠকের সন্তুষ্টিসহ নানা বিষয় সার্চ পারফরম্যান্সে ভূমিকা রাখে।

তাই SEO-কে একবারের সেটআপ না ভেবে নিয়মিত সাইট রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। নতুন তথ্য যোগ করা, ভুল তথ্য শোধরানো এবং দরকার মতো পুরোনো জরুরি পোস্ট আপডেট করাও এই প্রক্রিয়ার অংশ।

সাধারণ প্রশ্ন

SEO প্লাগইন ইনস্টল করলেই কি ওয়েবসাইটের SEO সম্পূর্ণ হয়?

না। SEO প্লাগইন টাইটেল, মেটা, সাইটম্যাপ, ক্যানোনিক্যাল ও কিছু টেকনিক্যাল সেটিং সামলাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ভালো কনটেন্ট, সাইটের গতি, ইন্টারনাল লিংকিং, নেভিগেশন এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আলাদাভাবে ঠিক রাখতে হয়।

নতুন ওয়েবসাইট কত দিনে Google-এ ইনডেক্স হয়?

এর নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। সাইট সহজে ক্রল করা গেলে, সাইটম্যাপ জমা থাকলে এবং পেজগুলো কাজের হলে Google দ্রুত URL খুঁজে পেতে পারে। তবে সাইটম্যাপ বা ইনডেক্সিং রিকোয়েস্ট কোনো পেজ ইনডেক্স হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

সাইটম্যাপ জমা দিলে কি সব পোস্ট ইনডেক্স হবে?

না। সাইটম্যাপ Google-কে URL খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কোনো পেজ ইনডেক্স হবে কি না, তা ঠিক করার সময় Google কনটেন্টের মান, ক্যানোনিক্যাল, ক্রল করার সুযোগসহ আরও নানা সংকেত বিবেচনা করতে পারে।

প্রতিটি ছবিতে কি Alt Text দেওয়া বাধ্যতামূলক?

না। তথ্যবহুল ছবিতে অর্থপূর্ণ Alt Text দেওয়া উচিত। শুধু সাজসজ্জার ছবি হলে Alt অ্যাট্রিবিউট ফাঁকা রাখা যায়, যাতে স্ক্রিন রিডার ব্যবহারকারীকে অপ্রয়োজনীয় ছবির বর্ণনা শুনতে না হয়।

ইন্টারনাল লিংক কতটি দেওয়া উচিত?

এর কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই। বিষয়ের সঙ্গে সত্যিই মেলে, এমন পেজ থাকলে স্বাভাবিকভাবে লিংক দিন। অপ্রাসঙ্গিক লিংক দিয়ে সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে কম হলেও দরকারি এবং প্রসঙ্গের সঙ্গে মানানসই লিংক রাখা বেশি উপকারী।

robots.txt দিয়ে কি কোনো পেজ Google থেকে সরানো যায়?

robots.txt মূলত ক্রলারকে নির্দিষ্ট URL অনুরোধ করা থেকে আটকায়। কোনো HTML পেজ সার্চ রেজাল্ট থেকে সরিয়ে রাখতে সাধারণত noindex বা উপযুক্ত অ্যাক্সেস কন্ট্রোল লাগে।

ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ কি বাধ্যতামূলক?

প্রতিটি ওয়েবসাইটে হাতে ক্যানোনিক্যাল ট্যাগ বানানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে একই বা প্রায় একই কনটেন্ট একাধিক URL দিয়ে পাওয়া গেলে সঠিক ক্যানোনিক্যাল সংকেত Google-কে পছন্দের URL বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

Schema যোগ করলে কি র‍্যাঙ্কিং বাড়ে?

Schema সরাসরি ভালো র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত করে না। সঠিক স্ট্রাকচার্ড ডেটা Google-কে পেজের কিছু তথ্য বুঝতে এবং যোগ্য হলে বিশেষ সার্চ ফিচার দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তবে রিচ রেজাল্ট দেখানোর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

শেষ কথা

নতুন WordPress ওয়েবসাইটের SEO শুরু হওয়া উচিত শক্ত টেকনিক্যাল ভিত্তি দিয়ে। ইনডেক্সিং, Search Console, সাইটম্যাপ, HTTPS, URL কাঠামো, কনটেন্ট, ইন্টারনাল লিংক, ছবি আর পারফরম্যান্স ঠিক থাকলে সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষে সাইট বোঝা অনেক সহজ হয়।

এর সঙ্গে robots.txt, ক্যানোনিক্যাল, রিডাইরেক্ট ও স্ট্রাকচার্ড ডেটা ঠিক রাখলে টেকনিক্যাল সমস্যা আরও কমে। এরপর Search Console এবং বাস্তব ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা দেখে নিয়মিত উন্নতি করাই দীর্ঘমেয়াদে সার্চ পারফরম্যান্স গড়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সর্বশেষ আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট