বাংলাদেশে একটু শক্তিশালী ইঞ্জিন, স্পোর্টি নকশা এবং ভালো ব্রেকিং সুবিধার মোটরসাইকেল খুঁজছেন যারা, তাদের কাছে হোন্ডা হর্নেট 2.0 বেশ পরিচিত একটি নাম। এবার Honda Ride Festival উপলক্ষে বাইকটি আরও আকর্ষণীয় দামে কেনার সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ হোন্ডা। কোম্পানির সাম্প্রতিক Facebook ঘোষণায় ৮,০০০ টাকা ক্যাশব্যাকের পর হর্নেট 2.0 এর মূল্য ২,৮১,০০০ টাকা দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হোন্ডার অফিসিয়াল মূল্য তালিকায় বাইকটির নিয়মিত মূল্য এখন ২,৮৯,০০০ টাকা। অর্থাৎ পুরো ক্যাশব্যাক পাওয়া গেলে ক্রেতার সাশ্রয় হচ্ছে ৮ হাজার টাকা। বাংলাদেশে নতুন বাইকের দাম, অফার ও ফিচারের আরও খবর TechnicalBD এর মোটরসাইকেল বিভাগে পাওয়া যাবে।
184.4cc ইঞ্জিনে কেমন শক্তিশালী হর্নেট 2.0
হর্নেট 2.0 এর অন্যতম আকর্ষণ এর 184.4cc চার স্ট্রোক PGM FI ইঞ্জিন। হোন্ডার অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ইঞ্জিনটি 8500 RPM এ সর্বোচ্চ 16.6 PS শক্তি এবং 6000 RPM এ 15.5 Nm টর্ক তৈরি করতে পারে। সঙ্গে রয়েছে ৫ গতির গিয়ারবক্স এবং সেলফ স্টার্ট।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো Assist & Slipper Clutch। হোন্ডার অফিসিয়াল ফিচার তালিকা অনুযায়ী এটি গিয়ার পরিবর্তন সহজ করে এবং দ্রুত নিচের গিয়ারে নামানোর সময় পেছনের চাকা লক হওয়ার ঝুঁকি সামলাতে সাহায্য করে।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
| বিষয় | স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| ইঞ্জিন | 184.4cc, চার স্ট্রোক PGM FI |
| সর্বোচ্চ শক্তি | 16.6 PS @ 8500 RPM |
| সর্বোচ্চ টর্ক | 15.5 Nm @ 6000 RPM |
| গিয়ার | ৫ গতি |
| ক্লাচ | Assist & Slipper Clutch |
| স্টার্ট | সেলফ |
ব্রেক ও সাসপেনশনে ভালো আয়োজন
হর্নেট 2.0 এর সামনে রয়েছে 276mm ডিস্ক ব্রেকের সঙ্গে ABS, আর পেছনে রয়েছে 220mm ডিস্ক ব্রেক। সামনের দিকে আপসাইড ডাউন টেলিস্কোপিক সাসপেনশন এবং পেছনে মনোশক দেওয়া হয়েছে। সামনে 110/70 এবং পেছনে 140/70 আকারের টিউবলেস টায়ার রয়েছে।
ব্রেক, সাসপেনশন ও গঠন
| বিষয় | স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| সামনের ব্রেক | 276mm ডিস্ক, ABS |
| পেছনের ব্রেক | 220mm ডিস্ক |
| সামনের সাসপেনশন | আপসাইড ডাউন টেলিস্কোপিক |
| পেছনের সাসপেনশন | মনোশক |
| সামনের টায়ার | 110/70, 17 ইঞ্চি |
| পেছনের টায়ার | 140/70, 17 ইঞ্চি |
| ওজন | 142 কেজি |
| গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স | 167mm |
বাইকটির ফুয়েল ট্যাংকের ধারণক্ষমতা 12 লিটার, হুইলবেস 1355mm এবং ওজন 142 কেজি। 167mm গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সও রয়েছে। ফলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে দীর্ঘ পথ চালাতে চান এমন ক্রেতাদের কাছেও বাইকটি বিবেচনায় আসতে পারে।
ফিচারেও বেশ সমৃদ্ধ
শুধু ইঞ্জিন নয়, ফিচারের দিক থেকেও হর্নেট 2.0 বেশ ভালোভাবে সাজানো। এতে LED হেডলাইট, X আকৃতির LED টেইল ল্যাম্প, সম্পূর্ণ ডিজিটাল মিটার, Engine Stop Switch, Hazard Switch এবং Side Stand Engine Cut Off রয়েছে। পেশিবহুল ফুয়েল ট্যাংক, Split Seat এবং Sporty Muffler বাইকটির স্পোর্টি চেহারাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
হোন্ডার বর্তমান তালিকায় বাইকটি Matte Sangria Red Metallic, Matte Marvel Blue Metallic, Matte Axis Grey Metallic এবং Pearl Igneous Black এই চার রঙে দেখানো হচ্ছে।
দাম ও বর্তমান ক্যাশব্যাক
| বিষয় | মূল্য |
|---|---|
| নিয়মিত মূল্য | ২,৮৯,০০০ টাকা |
| Ride Festival ক্যাশব্যাক | ৮,০০০ টাকা |
| ক্যাশব্যাকের পর মূল্য | ২,৮১,০০০ টাকা |
Honda Ride Festival এর Facebook ঘোষণায় অফারটিকে সীমিত সময়ের বলা হয়েছে এবং শর্ত প্রযোজ্য থাকার কথাও জানানো হয়েছে। তাই বাইক কেনার আগে নিকটস্থ অনুমোদিত হোন্ডা ডিলারের কাছে ২,৮১,০০০ টাকার অফারটি তখনও কার্যকর আছে কি না নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
কিস্তিতে কেনার সুবিধা আছে কি
বর্তমান Ride Festival ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক, ঋণের মেয়াদ, ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তির শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। তাই কোনো পুরোনো ব্যাংক অফারকে বর্তমান সুবিধা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কিস্তিতে হর্নেট 2.0 কিনতে চাইলে নিকটস্থ অনুমোদিত হোন্ডা ডিলারের কাছে বর্তমানে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুবিধা রয়েছে, কত টাকা অগ্রিম দিতে হবে এবং মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা জেনে নেওয়া উচিত। নগদে কিনলেও ক্যাশব্যাকের শর্ত আগে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
ভালো দিক
184.4cc শক্তিশালী ইঞ্জিন: শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি দীর্ঘ পথেও পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ABS ও দুই চাকায় ডিস্ক ব্রেক: সামনের চাকায় ABS এবং সামনে ও পেছনে ডিস্ক ব্রেক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
উন্নত সাসপেনশন: আপসাইড ডাউন সামনের সাসপেনশন এবং পেছনের মনোশক বাইকটির অন্যতম আকর্ষণ।
Assist & Slipper Clutch: গিয়ার পরিবর্তন এবং দ্রুত নিচের গিয়ারে নামার সময় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
যেসব বিষয় মাথায় রাখা ভালো
হর্নেট 2.0 এ সিঙ্গেল চ্যানেল ABS, অর্থাৎ ABS শুধু সামনের চাকায় কাজ করে। এছাড়া 142 কেজি ওজনের কারণে নতুন চালকের জন্য কেনার আগে টেস্ট রাইড করে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য যাচাই করা ভালো। Honda নিজেও তাদের প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন পরিবর্তনের অধিকার রাখে।
শেষ কথা
হোন্ডা হর্নেট 2.0 শুধু দেখতে স্পোর্টি নয়। 184.4cc ইঞ্জিন, 16.6 PS শক্তি, সামনের ABS, দুই চাকায় ডিস্ক ব্রেক, আপসাইড ডাউন সাসপেনশন এবং Assist & Slipper Clutch মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের বাজারে বেশ পূর্ণাঙ্গ একটি মোটরসাইকেল।
এর সঙ্গে যদি বর্তমান ৮ হাজার টাকার ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তাহলে ২ লাখ ৮১ হাজার টাকার মূল্যটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে অফার সীমিত সময়ের হওয়ায় টাকা দেওয়ার আগে অনুমোদিত হোন্ডা ডিলারের কাছ থেকে চূড়ান্ত মূল্য ও শর্ত নিশ্চিত করাই ভালো।

