হোমস্মার্ট ওয়াচGalaxy Watch বারবার নিজে থেকে জ্বলে উঠছে? এই ২টা Setting বদলালেই হবে
ক্যাটেগরি:

Galaxy Watch বারবার নিজে থেকে জ্বলে উঠছে? এই ২টা Setting বদলালেই হবে

হাত নড়লেই Galaxy Watch জ্বলে উঠছে? বিরক্তিটা এখানেই

কথা বলার সময় হাত একটু নাড়লেন, গাড়ি চালাতে গিয়ে steering ঘোরালেন কিংবা সিনেমা হলে হাতের অবস্থান বদলালেন—হঠাৎ Galaxy Watch-এর display জ্বলে উঠল। সময় দেখার কোনো ইচ্ছাই ছিল না, কিন্তু Raise wrist to wake ধরে নিয়েছে আপনি ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন।

Android Police-এর লেখক Ben Khalesi-র Galaxy Watch ব্যবহারের সবচেয়ে বড় বিরক্তিও ছিল এটি। শেষ পর্যন্ত তিনি এমন দুটি setting বদলেছেন, যা battery বাঁচানোর প্রচলিত পরামর্শের ঠিক উল্টো মনে হতে পারে।

তিনি Always On Display (AOD) চালু করেছেন এবং Raise wrist to wake বন্ধ করেছেন। তার অভিজ্ঞতায় ছোট এই পরিবর্তনের পর Galaxy Watch অনেক কম distracting এবং সাধারণ ঘড়ির মতো বেশি স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

Smartwatch নিয়ে আরও খবর ও দরকারি guide পাওয়া যাবে TechnicalBD-এর Smart Watch বিভাগে

কোন দুটি Setting বদলাতে হবে?

পুরো বিষয়টা খুবই সহজ। Galaxy Watch-এর display setting থেকে AOD চালু রেখে wrist gesture দিয়ে screen wake হওয়ার optionটি বন্ধ করে কয়েকদিন ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

Setting কী করবেন কী পরিবর্তন হবে
Always On Display ON সময় সবসময় হালকা করে দেখা যাবে
Raise wrist to wake OFF হাত নড়লেই full display জ্বলে উঠবে না
Touch screen to wake প্রয়োজনমতো Touch করে screen চালু করা যাবে
Power Saving দরকারে ব্যবহার Battery কম থাকলে runtime বাড়াতে সাহায্য করবে

Galaxy Watch model ও One UI Watch version অনুযায়ী menu-এর নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই নিজের Watch-এর Display বা gesture-related settings-এর মধ্যে option দুটি খুঁজে নিন।

কিন্তু AOD চালু করলে তো Battery বেশি খরচ হওয়ার কথা!

ঠিক এখানেই ব্যাপারটা interesting। Smartwatch-এর battery বাঁচানোর সাধারণ পরামর্শগুলোর মধ্যে Always On Display বন্ধ রাখা অন্যতম, আর Samsung-এর নিজের power-saving ব্যবস্থাও AOD বন্ধ করে battery consumption কমায়।

তাই AOD চালু করলে battery consumption একেবারেই বাড়বে না—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। কতটা পার্থক্য হবে, সেটা Galaxy Watch model, watch face, brightness, notification, GPS, workout tracking এবং আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে।

Android Police-এর লেখকও শুরুতে ভেবেছিলেন AOD চালু করলে হয়তো দিনে দুইবার charge করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তার ব্যবহারে battery hit প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল, আর ব্যবহার সহজ হওয়ার কারণে সেই trade-off তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

তাহলে AOD চালু রেখে লাভটা কোথায়?

Raise wrist to wake চালু থাকলে Galaxy Watch আপনার wrist movement শনাক্ত করে বোঝার চেষ্টা করে আপনি screen দেখতে চাইছেন কি না। সমস্যা হলো, মানুষের হাত শুধু সময় দেখার সময়ই নড়ে না।

কথা বলার সময় হাত নাড়ানো, জুতা বাঁধা, গাড়ি চালানো কিংবা দৈনন্দিন অন্য কাজেও gesture ভুলভাবে trigger হতে পারে। ফলে প্রয়োজন না থাকলেও full display জ্বলে উঠে attention কেড়ে নিতে পারে।

AOD চালু থাকলে screen পুরো কালো হয়ে যাওয়ার বদলে low-power অবস্থায় watch face দেখাতে থাকে। তাই শুধু সময় দেখতে wrist ঘুরিয়ে full display চালু করার প্রয়োজনও অনেক কমে যায়।

ফলে smartwatch-টা বারবার “জেগে ওঠা ছোট screen” মনে না হয়ে সাধারণ হাতঘড়ির মতো অনুভব হতে পারে—সময় দেখতে তাকালেন, সময় দেখলেন, কাজ শেষ।

Battery নিয়ে আসল হিসাবটা একটু আলাদা

AOD চালু রাখলে battery খরচ হয়, তাই এটাকে battery-saving trick বলা ঠিক হবে না। বরং এটি battery life আর ব্যবহার করার আরামের মধ্যে একটা trade-off

ধরুন AOD বন্ধ রেখে আপনার Watch কিছুটা বেশি সময় চলে, কিন্তু দিনে অসংখ্যবার ভুল gesture-এ screen জ্বলে ওঠে। সেই বাড়তি battery আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নির্ভর করবে প্রতিদিন Watch charge করার সুযোগ আছে কি না তার ওপর।

অন্যদিকে AOD চালু করার পর যদি আপনার Watch সহজেই পুরো দিন পার করে দেয়, তাহলে কিছু battery sacrifice করে আরও স্বাভাবিক ব্যবহার পাওয়াটা অনেকের কাছেই বেশি মূল্যবান হতে পারে।

Samsung-ও বলছে Galaxy Watch-এর battery life শুধু display-এর ওপর নির্ভর করে না। Wi-Fi connection, apps, call, message এবং অন্যান্য feature কতবার ব্যবহার করছেন, সেগুলোও runtime-এ প্রভাব ফেলে।

সবার জন্য কি এই Setting ভালো হবে?

না। আপনি যদি hiking, travelling বা দীর্ঘ সময় charger থেকে দূরে থাকেন, তাহলে যতটা সম্ভব battery বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে AOD বন্ধ রাখাই ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আবার আপনার Galaxy Watch যদি প্রতিদিন রাতে charge করেন এবং ঘুমানোর আগে যথেষ্ট battery থেকে যায়, তাহলে AOD চালিয়ে Raise wrist to wake বন্ধ করে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা পরীক্ষা করতে পারেন।

Android Police-এর লেখকের পরামর্শও মূলত এটাই—নিজের Watch-এ দুদিন ব্যবহার করে দেখুন। Battery আপনার প্রয়োজন মেটাচ্ছে এবং accidental wake কমে গেলে settingটি রেখে দিতে পারেন।

কোন User-এর জন্য কোন Setting ভালো?

আপনার ব্যবহার ভালো Starting Point
Battery সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ AOD OFF
হাত নড়লেই screen জ্বলে ওঠে AOD ON + Raise wrist OFF
প্রতিদিন Watch charge করেন AOD ON পরীক্ষা করতে পারেন
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন AOD OFF / Power Saving
সাধারণ ঘড়ির মতো সময় দেখতে চান AOD ON
Battery দ্রুত শেষ হয় আগে Battery usage পরীক্ষা করুন

Battery হঠাৎ কমে গেলে AOD-কেই দোষ দেবেন না

Galaxy Watch-এর battery অস্বাভাবিক দ্রুত কমতে শুরু করলে শুধু AOD বন্ধ করেই সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। Background app, software update, Wi-Fi, GPS কিংবা কোনো service বেশি power ব্যবহার করছে কি না, সেটাও পরীক্ষা করা দরকার।

তাই আগে Watch-এর battery usage দেখে কোন app বা service বেশি charge খাচ্ছে সেটা খুঁজে বের করুন। Battery সমস্যা যদি হঠাৎ শুরু হয়ে থাকে, software update এবং restart-এর মতো সাধারণ troubleshooting-ও কাজে লাগতে পারে।

Galaxy Watch ব্যবহারটা শেষ পর্যন্ত আপনার জন্য আরামদায়ক হওয়া দরকার

Smartwatch কিনে যদি সারাক্ষণ শুধু battery percentage নিয়ে চিন্তা করতে হয়, তাহলে অনেক useful feature ব্যবহারই করা হবে না। আবার সব feature চালিয়ে দুপুরের মধ্যেই battery শেষ করে ফেলাও কোনো ভালো সমাধান নয়।

তাই AOD ON + Raise wrist to wake OFF কোনো জাদুকরী battery trick নয়। এটি এমন একটি setting combination, যা accidental screen wake-এ বিরক্ত Galaxy Watch user-দের জন্য ব্যবহারটা অনেক শান্ত ও স্বাভাবিক করে দিতে পারে।

আপনার Watch যদি এই setting চালিয়েও পুরো দিনের battery দিতে পারে, তাহলে কয়েক শতাংশ বাড়তি battery বাঁচানোর চেয়ে আরামদায়ক ব্যবহারটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো—এটা পরীক্ষা করতে কোনো app install বা টাকা খরচ করতে হবে না। দুটি setting বদলে দুদিন ব্যবহার করুন; ভালো না লাগলে আগের অবস্থায় ফিরে যান।

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট