হোমকম্পিউটারম্যাকM5 MacBook Air কেনার আগে যা জানা দরকার
ক্যাটেগরি:

M5 MacBook Air কেনার আগে যা জানা দরকার

পাতলা ও হালকা ল্যাপটপের মধ্যে MacBook Air অনেক দিন ধরেই জনপ্রিয়। M5 MacBook Air দেখতে আগের প্রজন্মের কাছাকাছি হলেও ভেতরে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে কর্মক্ষমতা, স্টোরেজ ও তারহীন সংযোগে।

অ্যাপেল ২০২৬ সালের মার্চে M5 চিপসহ নতুন MacBook Air ঘোষণা করে। শুরুর এসএসডি 512GB, সঙ্গে আছে Wi-Fi 7 ও Bluetooth 6। 13 ও 15 ইঞ্চি, দুই আকারেই পাওয়া যাচ্ছে।

যারা অনেক দিন একটি ম্যাক ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য Air ও Pro মডেলের পার্থক্য বোঝা জরুরি। বেশি শক্তিশালী মডেল সত্যিই দরকার কি না, তা বুঝতে চাইলে TechnicalBD-র M5 Pro MacBook Pro এর দাম ও কেনার বিশ্লেষণ দেখে নিতে পারেন।

M5 চিপে কতটা গতি বেড়েছে

M5 MacBook Air-এ আছে 10 core CPU। মডেলভেদে সর্বোচ্চ 10 core GPU পাওয়া যায়, আর নতুন জিপিইউর প্রতিটি কোরে যুক্ত হয়েছে Neural Accelerator।

অ্যাপেলের অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এআই কাজে নতুন ল্যাপটপটি আগের M4 সংস্করণের চেয়ে সর্বোচ্চ চার গুণ দ্রুত হতে পারে। M1 MacBook Air-এর সঙ্গে তুলনায় এই ব্যবধান সর্বোচ্চ 9.5 গুণ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে এই সংখ্যা সব কাজে মিলবে না। অ্যাপেলের ফলাফল নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ও পরীক্ষার পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। তাই সাধারণ ব্যবহারে বা অন্য অ্যাপে একই পার্থক্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ওয়েব ব্রাউজিং, WordPress সামলানো, অফিসের কাজ, অনলাইন মিটিং, ছবি সম্পাদনা কিংবা একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালানোর মতো দৈনন্দিন কাজে ল্যাপটপটি যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার কথা।

ম্যাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ করতে চাইলে TechnicalBD-র Mac ব্যবহারকারীদের কাজে সহায়তা করা AI টুল বিষয়ক লেখাটিও কাজে লাগতে পারে।

512GB স্টোরেজ এখন বড় সুবিধা

M5 MacBook Air-এর অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো শুরুর স্টোরেজ দ্বিগুণ হওয়া। সাধারণ সংস্করণ এখন 512GB SSD দিয়ে শুরু হয়, যেখানে আগের প্রজন্মে শুরুর ধারণক্ষমতা ছিল কম।

অ্যাপেলের দাবি, নতুন এসএসডি আগের প্রজন্মের চেয়ে read এবং write কাজে সর্বোচ্চ দুই গুণ দ্রুত হতে পারে। বড় ছবি, ভিডিও, সফটওয়্যার বা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করলে ফাইল দ্রুত পড়া ও লেখা বাস্তবে সময় বাঁচাতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ সর্বোচ্চ 4TB পর্যন্ত নেওয়া যায়। তবে কেনার পর সাধারণ ল্যাপটপের মতো এসএসডি বদলানো যায় না। তাই কেনার সময়ই ভবিষ্যতের চাহিদা হিসাব করে ধারণক্ষমতা বেছে নেওয়া ভালো।

বাংলাদেশে বেশি স্টোরেজের সংস্করণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পড়াশোনা, অফিস ও ওয়েবভিত্তিক কাজে 512GB অনেকের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে নিয়মিত বড় ভিডিও বা RAW ছবি নিয়ে কাজ করলে আরও বেশি জায়গা লাগতে পারে।

ব্যাটারি কতক্ষণ চলতে পারে

অ্যাপেলের প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, M5 MacBook Air-এ ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা এবং তারহীন ওয়েব ব্যবহারে সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা ব্যাটারি চলার কথা বলা হয়েছে।

এগুলো অ্যাপেলের নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল। বাস্তবে ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে, তা নির্ভর করে পর্দার উজ্জ্বলতা, ব্যবহৃত অ্যাপ, ভিডিও কল, ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা এবং সংযুক্ত বাহ্যিক যন্ত্রের ওপর। ফলে সময় কম বা বেশি হতে পারে।

এই ল্যাপটপের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে কুলিং ফ্যান নেই। তাই সাধারণ ব্যবহারে এটি পুরোপুরি নীরব থাকে। তবে অনেকক্ষণ ভারী 3D rendering বা ভিডিও এক্সপোর্ট করলে তাপ বাড়ার কারণে কর্মক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে।

যাঁদের নিয়মিত অনেকক্ষণ ভারী পেশাগত কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য MacBook Pro বেশি উপযোগী হতে পারে। ভবিষ্যতের Pro মডেল নিয়ে আগ্রহ থাকলে TechnicalBD-র M6 MacBook Pro নিয়ে বর্তমান তথ্য পড়ে দেখতে পারেন।

পর্দা ও নকশা কেমন

M5 MacBook Air-এ 13.6 ও 15.3 ইঞ্চির Liquid Retina ডিসপ্লে আছে। পর্দায় সর্বোচ্চ 500 nits উজ্জ্বলতা, P3 wide color, True Tone এবং এক বিলিয়ন রঙ দেখানোর সুবিধা রয়েছে।

নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন নেই। পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের কাঠামো আর তুলনামূলক কম ওজন বহন করা সহজ করে। যাঁরা নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস বা ভ্রমণে ল্যাপটপ সঙ্গে নেন, তাঁদের জন্য এটি বড় সুবিধা।

13 ইঞ্চি সংস্করণ বহন করা সহজ, আর 15 ইঞ্চি সংস্করণে কাজের জায়গা বেশি। কোনটি ভালো হবে, তা মূলত নির্ভর করে আপনি বহনের সুবিধা চান, নাকি বড় পর্দা।

ম্যাকের ডেস্কটপ আরও কাজের উপযোগী করতে চাইলে TechnicalBD-র BetterMacWidgets দিয়ে Mac ডেস্কটপ সাজানোর পদ্ধতি দেখে নিতে পারেন।

দুটি বাহ্যিক পর্দা ব্যবহার করা যাবে

M5 MacBook Air-এ দুটি Thunderbolt 4 পোর্ট আছে। অ্যাপেলের তথ্য অনুযায়ী, ল্যাপটপের নিজস্ব ডিসপ্লে চালু রেখেই একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুটি বাহ্যিক ডিসপ্লে ব্যবহার করা যায়।

দুটি ডিসপ্লে ব্যবহার করলে প্রতিটিতে সর্বোচ্চ 6K 60Hz অথবা 4K 144Hz পর্যন্ত সমর্থন পাওয়া যায়। একটি বাহ্যিক ডিসপ্লে হলে সর্বোচ্চ 8K 60Hz, 5K 120Hz অথবা 4K 240Hz পর্যন্ত সমর্থন আছে।

অ্যাপেলের external display নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি Thunderbolt পোর্ট দিয়েও দুটি ডিসপ্লে চালানো সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য সমর্থিত হাব বা উপযুক্ত সংযোগব্যবস্থা লাগতে পারে।

যাঁরা ডেস্কে একে প্রধান কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এই সুবিধা বেশ কার্যকর। আলাদা বড় পর্দায় ব্রাউজার, WordPress, এডিটিং সফটওয়্যার বা অন্য কাজ একসঙ্গে খুলে রাখা সহজ হয়।

একাধিক ডিসপ্লের সেটআপ কেন কাজে লাগে, সে সম্পর্কে ধারণা পেতে TechnicalBD-র কম্পিউটারে দ্বিতীয় মনিটর ব্যবহারের সুবিধা গাইডটিও পড়তে পারেন।

Wi-Fi 7 ও Bluetooth 6

M5 MacBook Air-এ অ্যাপেলের নতুন N1 তারহীন চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে Wi-Fi 7 ও Bluetooth 6 সমর্থন।

Wi-Fi 7-এর পুরো সুবিধা পেতে সমর্থিত রাউটার ও নেটওয়ার্ক লাগবে। পুরোনো Wi-Fi রাউটার থাকলেও ল্যাপটপ কাজ করবে, তবে Wi-Fi 7-এর বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না।

Bluetooth 6 ভবিষ্যতের নানা আনুষঙ্গিক যন্ত্রের সঙ্গে আরও ভালো সংযোগের ভিত্তি তৈরি করে। আজকের মাউস, কিবোর্ড, AirPods বা অন্যান্য Bluetooth যন্ত্রও আগের মতোই ব্যবহার করা যাবে।

ক্যামেরা ও সংযোগ

M5 MacBook Air-এ আছে 12MP Center Stage ক্যামেরা। ভিডিও কলে আপনার অবস্থান অনুযায়ী ফ্রেম ঠিক করে নিতে এটি সাহায্য করতে পারে। Desk View সুবিধাও এতে সমর্থিত।

দুটি Thunderbolt 4 পোর্টের পাশাপাশি আছে MagSafe 3 চার্জিং পোর্ট ও 3.5mm হেডফোন জ্যাক। MagSafe দিয়ে চার্জ দিলে দুটি USB-C পোর্টই অন্য যন্ত্রের জন্য খালি থাকে।

যাঁদের নিয়মিত SD card, HDMI বা আরও বেশি Thunderbolt পোর্ট লাগে, তাঁদের জন্য MacBook Pro-র বাড়তি পোর্ট বেশি কাজের হতে পারে।

নিরাপত্তা ও সফটওয়্যারও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু শক্তিশালী হার্ডওয়্যার থাকলেই দীর্ঘদিন ভালো অভিজ্ঞতা মেলে না। macOS নিয়মিত হালনাগাদ রাখাও জরুরি, বিশেষ করে নিরাপত্তা ত্রুটি আর সিস্টেমের বড় সমস্যা সারানোর জন্য।

অ্যাপেল সময় সময় macOS-এর নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে TechnicalBD-র iOS ও macOS নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

নিয়মিত হালনাগাদের পাশাপাশি দরকারি তথ্যের ব্যাকআপ রাখাও ভালো অভ্যাস। কাজ বা পড়াশোনার প্রধান কম্পিউটার যদি আপনার MacBook হয়, তবে ব্যাকআপ আরও জরুরি।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য কেমন

বাংলাদেশে MacBook Air কেনার সময় শুধু দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বিক্রেতার ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা, কনফিগারেশন এবং সেটটি কোন বাজারের জন্য তৈরি, এসবও দেখে নিন।

পড়াশোনা, WordPress, অফিসের কাজ, ওয়েব ব্রাউজিং, হালকা ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা এবং দৈনন্দিন পেশাগত ব্যবহারের জন্য M5 MacBook Air একটি শক্তিশালী বিকল্প।

তবে নিয়মিত 4K বা 8K ভিডিও সম্পাদনা, বড় 3D প্রজেক্ট, দীর্ঘ রেন্ডারিং কিংবা অন্য কোনো ভারী পেশাগত কাজ করলে MacBook Pro-র সক্রিয় কুলিং ও বেশি শক্তিশালী হার্ডওয়্যার অনেকক্ষণ কাজের সময় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

অন্যদিকে কম খরচে পুরোনো MacBook নেওয়ার কথা ভাবলে TechnicalBD-র রিফার্বিশড প্রযুক্তিপণ্য কেনার নির্দেশিকা দেখে ঝুঁকি ও সুবিধাগুলো বুঝে নিতে পারেন।

M4 MacBook Air ব্যবহারকারীদের কি পরিবর্তন করা উচিত

শুধু নতুন M5 চিপ এসেছে বলে M4 MacBook Air থেকে বদলাতে হবে, এমন নয়। সাধারণ ব্যবহারে M4 এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী, আর দুই প্রজন্মের মধ্যে সব কাজে নাটকীয় ফারাক টের পাওয়া যাবে না।

তবে M5-এ যোগ হয়েছে 512GB শুরুর স্টোরেজ, দ্রুত এসএসডি, Wi-Fi 7, Bluetooth 6 এবং জিপিইউতে Neural Accelerator। এসব সুবিধা যদি আপনার কাজে সত্যিই কাজে আসে, তখন বদলানোর যুক্তি তৈরি হতে পারে।

পুরোনো Intel Mac বা M1 MacBook Air ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবধান অনেক বড়। নতুন চিপ, বেশি শুরুর স্টোরেজ, উন্নত সংযোগ আর দীর্ঘদিনের সফটওয়্যার সাপোর্ট বিবেচনায় M5-এ বদলানো তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থবহ হতে পারে।

শেষ কথা

M5 MacBook Air-এর সবচেয়ে বড় উন্নতি বাইরের নকশায় নয়। আসল পরিবর্তন এসেছে M5 চিপ, 512GB শুরুর স্টোরেজ, দ্রুত এসএসডি, Wi-Fi 7, Bluetooth 6 এবং উন্নত এআই কর্মক্ষমতায়।

পড়াশোনা, অফিস, WordPress, সাধারণ কনটেন্ট তৈরি ও দৈনন্দিন পেশাগত কাজের জন্য যাঁরা পাতলা ও দীর্ঘ ব্যাটারির ম্যাক চান, তাঁদের জন্য এটি শক্তিশালী একটি বিকল্প।

তবে শুধু নতুন প্রজন্ম বলে বদলানোর দরকার নেই। এখনকার ম্যাকের কর্মক্ষমতা, কতটা স্টোরেজ লাগে, কাজের ধরন ও বাজেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

সর্বশেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট