একটি স্মার্টফোনে একই সময়ে পাঁচটি অ্যাপ চালিয়ে কাজ করা গেলে কেমন হবে? vivo নতুন OriginOS 7 এ ঠিক এমন মাল্টিটাস্কিং সুবিধার পাশাপাশি ফোন দীর্ঘদিন দ্রুত রাখার জন্য সিস্টেমের ভেতরেও বড় পরিবর্তন এনেছে।
vivo ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিশ্ববাজারের জন্য OriginOS 7 আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। নতুন সংস্করণে Origin Smooth Engine, Origin Workbench, Origin Animation এবং Jovi সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনগুলোর মধ্যে রয়েছে। vivo এর OriginOS 7 অফিসিয়াল ঘোষণা
এর আগে vivo এর নতুন ফোন ও সফটওয়্যার পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে TechnicalBD এর vivo X500 এর নতুন ডিজাইন ও ফিচার সম্পর্কিত প্রতিবেদন পড়তে পারেন।
ফোন দ্রুত রাখতে নতুন Origin Smooth Engine
OriginOS 7 এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুধু দেখতে সুন্দর ইন্টারফেস নয়। vivo নতুন প্রজন্মের Origin Smooth Engine এ গ্রাফিক্স প্রসেসিং, মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং সিস্টেমের কাজ ভাগ করে দেওয়ার পদ্ধতি নতুনভাবে সাজিয়েছে।
vivo এর হিসাবে Ultra Core Computing প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসেসরের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পাঠাতে পারে। কোম্পানির পরীক্ষায় অ্যাপ প্রথমবার চালু হওয়ার সময় প্রায় ১০ শতাংশ এবং অ্যাপের বিভিন্ন পেজে যাওয়ার গতি প্রায় ১১ শতাংশ উন্নত হয়েছে।
এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, এসব শতাংশ vivo এর নিজস্ব পরীক্ষাগারের ফলাফল। বাস্তবে ফোনের মডেল, ব্যবহারের ধরন, অ্যাপ এবং তাপমাত্রার মতো বিষয়ের কারণে ব্যবহারকারীর পাওয়া ফল আলাদা হতে পারে।
মেমোরি ও স্টোরেজেও বড় পরিবর্তন
নতুন Memory Fusion ব্যবস্থায় vivo মেমোরি বরাদ্দ এবং অব্যবহৃত মেমোরি পুনরুদ্ধারের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। কোম্পানির দাবি, এতে মেমোরি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
vivo আরও বলছে, ২৫৬GB স্টোরেজের একটি ডিভাইসে নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫GB পর্যন্ত অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। তবে এটিও vivo এর পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং সব ডিভাইসে একই পরিমাণ জায়গা পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
Android এর সিস্টেম ও পারফরম্যান্স পরিবর্তন নিয়েও আগ্রহ থাকলে TechnicalBD এর Android 17 ভিত্তিক Nothing OS 5.0 আপডেটের প্রতিবেদন দেখে নিতে পারেন।
একসঙ্গে পাঁচ অ্যাপ নিয়ে কাজ করবে Origin Workbench
OriginOS 7 এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় নতুন সুবিধাগুলোর একটি Origin Workbench। এটি একই কাজের জায়গায় সর্বোচ্চ পাঁচটি সক্রিয় অ্যাপ সমন্বয় করে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে একটি ভিডিও রপ্তানি করার সময় পাশে Notes থেকে তথ্য দেখা, অন্য অ্যাপে কিছু খোঁজা এবং একই সঙ্গে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ বড় স্ক্রিন ছাড়া সাধারণ স্মার্টফোনেও মাল্টিটাস্কিং আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে vivo।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। vivo জানিয়েছে, Origin Workbench বর্তমানে নির্দিষ্ট মডেলের ১২GB বা তার বেশি RAM থাকা ডিভাইসে পাওয়া যাবে। অ্যাপের সামঞ্জস্য এবং অঞ্চল অনুযায়ী কিছু সুবিধা আলাদাও হতে পারে।
ছয় বছর পরও ফোন মসৃণ রাখার দাবি
OriginOS 7 নিয়ে vivo এর আরেকটি বড় দাবি হলো দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স। কোম্পানি সিস্টেমটিকে ৭২ মাসের একটি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ছয় বছর ব্যবহারের পরেও সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া মসৃণ রাখা।
তবে এটিকে সব vivo ফোন ছয় বছর একই গতিতে চলবে এমন নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। vivo নিজেই জানিয়েছে, এই ফলাফল নির্বাচিত মডেলের পরীক্ষাগারের তথ্য এবং বাস্তব ব্যবহার অনুযায়ী পারফরম্যান্স পরিবর্তিত হতে পারে।
নতুন Origin Animation কী পরিবর্তন করবে
ফোন ব্যবহারের সময় শুধু অ্যাপ কত দ্রুত খুলছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্ক্রল, ট্যাপ এবং একটি পেজ থেকে অন্য পেজে যাওয়ার সময় অ্যানিমেশন কতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে সেটিও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখে।
OriginOS 7 এর Fluid Motion এবং Spring Animation আঙুলের গতি অনুযায়ী ইন্টারফেসের বিভিন্ন অংশকে নড়াচড়া, প্রসারিত এবং স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসার অনুভূতি দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে।
vivo এর বর্তমান OriginOS ব্যবস্থায় Smooth Engine কীভাবে কাজ করে তার উদাহরণ কোম্পানির vivo X300 Pro এর অফিসিয়াল বাংলাদেশ পেজে দেখা যায়। সেখানে Ultra Core Computing, Memory Fusion এবং Dual Rendering সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
Jovi এখন ব্যক্তিগত AI Agent
OriginOS 7 এ Jovi কে সাধারণ ভয়েস সহকারীর চেয়ে বড় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। vivo এটিকে বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম ব্যক্তিগত AI Agent হিসেবে উপস্থাপন করছে।
vivo Office Kit এর সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় ব্যবহারকারী Jovi কে কম্পিউটার থেকে একটি ফাইল খুঁজে আনা, তথ্যের সারাংশ তৈরি করা এবং সেটি ফোনে পাঠানোর মতো একাধিক ধাপের কাজ দিতে পারবেন।
নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন তৈরি বা ফাইল সাজানোর মতো কাজও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা যাবে। vivo এর ডেভেলপার প্ল্যাটফর্মেও Jovi এবং vivo AI প্রযুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
Google নিজেও Android কে আরও বুদ্ধিমান সিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে TechnicalBD এর Android ও Gemini AI এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে পারেন।
Apple Watch, AirPods এবং কম্পিউটারের সঙ্গেও সংযোগ
OriginOS 7 শুধু vivo এর নিজস্ব ডিভাইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছে না। নির্বাচিত ফোনে Apple Watch এর নোটিফিকেশন দেখা এবং কিছু স্বাস্থ্য ও ব্যায়ামের তথ্য Origin Health অ্যাপে সমন্বয়ের সুবিধা রয়েছে।
AirPods এর ব্যাটারির তথ্য দেখানো এবং Spatial Audio সমর্থনের কথাও vivo জানিয়েছে। vivo Office Kit ব্যবহার করে Windows, Mac এবং iPad এর সঙ্গে ফাইল সরানো ও কিছু কাজ এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে চালিয়ে নেওয়ার সুবিধাও থাকবে।
Android 17 সম্পর্কে Google এর অফিসিয়াল তথ্য জানতে Android Developers এর Android 17 পেজ দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে OriginOS 7 কবে পাওয়া যাবে
বাংলাদেশি vivo ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো আপডেটটি ঠিক কবে আসবে। vivo এর ২১ সেপ্টেম্বরের বিশ্বব্যাপী ঘোষণায় বাংলাদেশকে নিয়ে আলাদা কোনো আপডেট সময়সূচি দেওয়া হয়নি।
Preview Program প্রথমে vivo X300 Pro এবং নির্বাচিত iQOO ডিভাইসে ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় শুরু হয়েছে। এরপর X500 সিরিজ এবং নতুন X Fold ও V সিরিজে OriginOS 7 দেওয়ার কথা জানিয়েছে vivo।
ফলে বাংলাদেশে কোন মডেল কবে OriginOS 7 পাবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য vivo Bangladesh এর অফিসিয়াল ঘোষণা বা সংশ্লিষ্ট ফোনের Software Update অংশ অনুসরণ করাই নিরাপদ।
এ ধরনের ফোন আপডেটে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। Android এর নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে TechnicalBD এর PIN ভুলে গেলে তথ্য না মুছে ফোন খোলার সম্ভাব্য নতুন সুবিধার প্রতিবেদন পড়তে পারেন।
শেষ কথা
OriginOS 7 দেখে বোঝা যাচ্ছে vivo এবার শুধু নতুন থিম বা অ্যানিমেশনের ওপর নির্ভর করছে না। দ্রুত অ্যাপ চালু, উন্নত মেমোরি ব্যবস্থাপনা, পাঁচ অ্যাপের Origin Workbench এবং Jovi AI Agent সফটওয়্যারটির বড় পরিবর্তন।
তবে কোম্পানির অনেক পারফরম্যান্স দাবি নিজস্ব পরীক্ষাগারের ফল এবং সব ফিচার সব ফোন বা সব দেশে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট আপডেট তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনানুষ্ঠানিক তালিকাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না।

