কনটেন্ট নির্মাতা ও ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য পকেট গিম্বল ক্যামেরা এবং ছোট স্বয়ংক্রিয় ড্রোন দুটিই বেশ কাজে লাগে। কিন্তু আলাদা দুটি যন্ত্র সঙ্গে বহন করা, চার্জ দেওয়া এবং প্রয়োজনমতো বদলানো অনেক সময় ঝামেলার হয়ে ওঠে।
এই সমস্যার ভিন্ন ধরনের সমাধান নিয়ে এসেছে HOVERAir VERSA। হাতে থাকলে এটি একটি 4K পকেট গিম্বল ক্যামেরা, আর ডানাযুক্ত Flight Kit যুক্ত করলে একই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে সক্ষম একটি ক্যামেরায় রূপ নেয়।
HOVERAir এর অফিসিয়াল VERSA পেজ অনুযায়ী, ডিভাইসটি হাতে ভিডিও ধারণ এবং আকাশ থেকে স্বয়ংক্রিয় অনুসরণ দুটো কাজের জন্যই তৈরি। অর্থাৎ একই ক্যামেরা দিয়ে মাটির দৃশ্য ও আকাশের দৃশ্য ধারণ করা সম্ভব।
হাতে ক্যামেরা, প্রয়োজন হলে উড়ন্ত ক্যামেরা
VERSA এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর মডিউলার নকশা। মূল ক্যামেরা অংশটি আলাদাভাবে হাতে ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজন হলে ডানাযুক্ত অংশের সঙ্গে যুক্ত করে উড়ন্ত ক্যামেরায় রূপ দেওয়া যায়।
হাতে ব্যবহার করার সময় তিন অক্ষের গিম্বল ভিডিওকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। ভ্লগিং, হাঁটার সময় ভিডিও, পরিবার বা ভ্রমণের দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে বড় ক্যামেরা বা আলাদা গিম্বল বহনের প্রয়োজন কমতে পারে।
একই ধরনের চলমান ক্যামেরা প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ থাকলে TechnicalBD এর HONOR Robot Phone এর নড়াচড়া করা 200MP ক্যামেরা সম্পর্কেও পড়তে পারেন। সেখানেও গিম্বল ও স্বয়ংক্রিয় অনুসরণ প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যায়।
4K ভিডিও ও তিন অক্ষের গিম্বল
HOVERAir জানিয়েছে, VERSA 4K ভিডিও ধারণ করতে পারে এবং হাতে ব্যবহারের সময় তিন অক্ষের গিম্বল স্থিতিশীল ছবি দিতে সাহায্য করে। ফলে হাঁটা বা চলাচলের সময় ভিডিও তুললেও কাঁপুনি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা।
অফিসিয়াল তথ্যে 1/1.3 ইঞ্চি সেন্সর, 4K পর্যন্ত উল্লম্ব ভিডিও এবং সর্বোচ্চ দুই গুণ ক্ষতিহীন জুমের কথাও বলা হয়েছে। ক্যামেরাটির লক্ষ্য মূলত সহজে বহনযোগ্য কনটেন্ট তৈরির ব্যবস্থা দেওয়া।
HOVERAir এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, VERSA ভ্রমণ, দৈনন্দিন ভিডিও, একা কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের জন্য এমনভাবে তৈরি হয়েছে, যাতে আলাদা ক্যামেরা ও ড্রোনের প্রয়োজন কমে।
ডানা লাগালেই স্বয়ংক্রিয় উড়ন্ত ক্যামেরা
Flight Kit যুক্ত করার পর VERSA আকাশে উড়ে ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করতে পারে। সাধারণ ড্রোন চালানোর মতো সব সময় আলাদা নিয়ন্ত্রক হাতে নিয়ে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ক্যামেরাটি ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করে এবং চলাচল অনুসরণ করে বিভিন্ন দিক থেকে ভিডিও ধারণ করতে পারে। HOVERAir এটিকে প্রচলিত ড্রোনের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা হিসেবে বেশি তুলে ধরছে।
ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ থাকলে TechnicalBD এর DJI কে চীনা সামরিক কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা নিয়ে আইনি লড়াই বিষয়ক প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।
AI অনুসরণ ও স্বয়ংক্রিয় ফ্রেম নির্বাচন
VERSA তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনুসরণ ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহারকারী হাঁটলে, দৌড়ালে বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে থাকলে ক্যামেরা তাকে দৃশ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত অবস্থান নির্বাচন করতে পারে।
এর AI Auto Framing ব্যবস্থা আশপাশের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে ক্যামেরা কোথায় রাখলে ভালো ফ্রেম পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৃশ্য কাটছাঁট করে ভারসাম্যপূর্ণ ফ্রেম তৈরি করা হয়।
এই ধরনের বুদ্ধিমান ক্যামেরা ধারণার আরেক উদাহরণ দেখতে TechnicalBD এর Xiaomi এর 4K ভিডিও কল সমর্থিত নতুন Smart Camera সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন।
রয়েছে ১০টির বেশি উড়ান পদ্ধতি
HOVERAir এর তথ্য অনুযায়ী VERSA তে ১০টির বেশি বুদ্ধিমান উড়ান পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে Zoom Out, Auto Follow এবং Orbit এর মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করে আলাদা ধরনের দৃশ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারণ করা যায়।
একজন একক কনটেন্ট নির্মাতার জন্য এটি বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। কারণ পাশে আলাদা ক্যামেরাম্যান না থাকলেও ডিভাইসটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে ভিডিও ধারণ করতে পারে।
হাতের তালু থেকে উড্ডয়ন
HOVERAir এর অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় উড়ন্ত ক্যামেরার মতো VERSA কেও হাতের তালু থেকে চালু করা যায়। একটি উপযুক্ত উড়ান পদ্ধতি নির্বাচন করার পর এটি ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ভিডিও ধারণ করতে পারে।
শুটিং শেষ হলে আবার ব্যবহারকারীর কাছে ফিরে এসে হাতের তালুতেই নামতে পারে। ফলে সাধারণ ড্রোনের মতো প্রতিবার বড় জায়গা খুঁজে মাটি থেকে উড্ডয়ন বা অবতরণ করানোর প্রয়োজন কমে।
একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে
HOVERAir এর আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, হাতে ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করলে VERSA সর্বোচ্চ প্রায় ১৮০ মিনিট 4K 30fps ভিডিও ধারণ করতে পারে। তবে বাস্তব ব্যবহারে সেটিংস ও পরিবেশ অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
ডানা যুক্ত করে উড়ন্ত অবস্থায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৪ মিনিট উড়ান সময়ের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই দীর্ঘ ভ্রমণ বা দিনের বড় অংশজুড়ে ভিডিও করলে অতিরিক্ত চার্জের পরিকল্পনা রাখা প্রয়োজন হবে।
ওজন কম, কিন্তু আইন উপেক্ষা করা যাবে না
VERSA উড়ন্ত ক্যামেরা অবস্থায় প্রায় ২৩০ গ্রামের কাছাকাছি ওজনের। এটি অনেক প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় হালকা হলেও শুধু ওজন কম হওয়াকে দেখে কোনো দেশে অনুমতি বা নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে ড্রোন চালানোর আগে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ড্রোন সংক্রান্ত নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। কোথায়, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে উড়ানো হচ্ছে তার ওপর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
ড্রোনের ব্যবহার শুধু ভিডিও তৈরিতেই সীমিত নেই। TechnicalBD এর ভারতের Airbound এর ড্রোনে পণ্য পরিবহন প্রকল্প দেখলে বোঝা যায়, একই প্রযুক্তি এখন পরিবহন ব্যবস্থাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
3D Worlds কী
VERSA এর আকর্ষণীয় নতুন সুবিধাগুলোর একটি হলো 3D Worlds। নির্দিষ্টভাবে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি ধারণ করার পর ডিভাইসটি সেই দৃশ্যকে তিন মাত্রার রূপে পুনর্গঠন করতে পারে।
ফলে সাধারণ স্থির ছবির বদলে ব্যবহারকারী বিভিন্ন দিক থেকে সেই দৃশ্য দেখতে পারেন। ভ্রমণের জায়গা, স্থাপনা বা স্মরণীয় কোনো পরিবেশকে ভিন্নভাবে সংরক্ষণ করার জন্য এই সুবিধাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
কণ্ঠ ও হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ
VERSA তে কণ্ঠ এবং হাতের ইশারা ব্যবহার করে কিছু কাজ নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাও রয়েছে। ফলে একা ভিডিও করার সময় প্রতিবার ক্যামেরা স্পর্শ করা বা ফোন হাতে নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
ভ্লগার, পর্যটক এবং একা ভিডিও নির্মাতাদের জন্য এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা কোনো কর্মকাণ্ডের সময় হাত ব্যস্ত থাকলে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হতে পারে।
কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কতটা কাজে আসবে
VERSA মূলত এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি, যারা একই দিনে কখনো হাতে ভ্লগ করবেন আবার কখনো আকাশ থেকে নিজেদের অনুসরণ করা ভিডিও তুলতে চান। একটি ডিভাইসেই দুই ধরনের কাজ পাওয়া এর বড় সুবিধা।
অনলাইনে ভিডিও প্রকাশ করে আয় করার পরিকল্পনা থাকলে TechnicalBD এর YouTube ভিডিওতে Amazon পণ্যের লিংক থেকে আয় করার নতুন সুযোগ বিষয়ক প্রতিবেদনটিও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কাজে লাগতে পারে।
VERSA কি সাধারণ ড্রোনের বিকল্প
সব ক্ষেত্রে নয়। প্রচলিত ড্রোনে দূরপাল্লার নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘ উড়ান সময় এবং আরও উন্নত আকাশচিত্র ধারণের সুবিধা থাকতে পারে। VERSA বরং সহজে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত ভিডিও ক্যামেরা হিসেবে আলাদা জায়গা তৈরি করতে চায়।
যারা নিজের ভ্রমণ, দৌড়, সাইক্লিং বা দৈনন্দিন মুহূর্ত একা ধারণ করেন, তাদের জন্য এই ধারণাটি বেশি আকর্ষণীয়। কারণ এতে ক্যামেরা পরিচালনার চেয়ে দৃশ্য ধারণকে সহজ করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে পাওয়া যাবে কি
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে HOVERAir VERSA এর নিশ্চিত আনুষ্ঠানিক মূল্য বা স্থানীয় বিক্রির তথ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাই আমদানিকারকের দেওয়া কোনো মূল্যকে অফিসিয়াল বাংলাদেশি মূল্য হিসেবে উল্লেখ করার আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিদেশ থেকে কিনতে চাইলে ড্রোন আমদানি, বহন এবং ব্যবহারসংক্রান্ত স্থানীয় নিয়মও আগে যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে বিমানবন্দর, সামরিক এলাকা বা সংবেদনশীল স্থানের আশপাশে ড্রোন ব্যবহারে আলাদা বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন
HOVERAir VERSA কি শুধু একটি ড্রোন?
না। এটি মূলত হাতে ব্যবহারযোগ্য 4K গিম্বল ক্যামেরা। Flight Kit যুক্ত করলে একই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারে এবং ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করে আকাশ থেকে ভিডিও ধারণ করতে পারে।
এটি কি আলাদা নিয়ন্ত্রক ছাড়া উড়তে পারে?
হ্যাঁ। HOVERAir এর স্বয়ংক্রিয় অনুসরণ ও নির্ধারিত উড়ান পদ্ধতিতে আলাদা নিয়ন্ত্রক ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসটি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে নির্ধারিত পথ অনুযায়ী ভিডিও ধারণ করতে পারে।
উড়ন্ত অবস্থায় ব্যাটারি কতক্ষণ চলে?
HOVERAir এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী VERSA সর্বোচ্চ প্রায় ১৪ মিনিট উড়তে পারে। তবে বাতাস, তাপমাত্রা, উড়ানের গতি এবং ব্যবহৃত পদ্ধতির কারণে বাস্তব সময় কম বেশি হতে পারে।
হাতে ক্যামেরা হিসেবে কতক্ষণ ব্যবহার করা যায়?
প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী হাতে ব্যবহার করার সময় 4K 30fps এ সর্বোচ্চ প্রায় ১৮০ মিনিট ধারণ করা সম্ভব। বাস্তব ব্যাটারি সময় বিভিন্ন সেটিংস ও ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশে উড়াতে কি অনুমতি লাগবে?
শুধু ড্রোনটির ওজন দেখে উত্তর দেওয়া নিরাপদ নয়। বাংলাদেশে ব্যবহারের আগে CAAB এর বর্তমান ড্রোন নির্দেশনা এবং নির্দিষ্ট এলাকায় উড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি প্রয়োজন কি না যাচাই করা উচিত।
শেষ কথা
HOVERAir VERSA এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু এটি একটি ছোট ড্রোন নয়। একই ক্যামেরাকে হাতে স্থির ভিডিও ধারণ এবং আকাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণকারী ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করার ধারণাটিই একে আলাদা করেছে।
4K ধারণ, তিন অক্ষের গিম্বল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনুসরণ, ১০টির বেশি উড়ান পদ্ধতি এবং হাত থেকে সহজে উড্ডয়নের কারণে একক কনটেন্ট নির্মাতা ও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে কেনার আগে বাংলাদেশে মূল্য, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং ড্রোন ব্যবহারের স্থানীয় নিয়ম যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন ধরনের পণ্য হলেও বাস্তবে এটি কতটা সুবিধাজনক, তা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারেই পরিষ্কার হবে।
পোস্টটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

