স্মার্টফোন প্রেমীদের কাছে গুগলের পিক্সেল সিরিজ নিয়ে সবসময়ই আলাদা একটি আগ্রহ কাজ করে। গুগলের স্টক অ্যানড্রয়েড অভিজ্ঞতা, চোখধাঁধানো ক্যামেরা পারফরম্যান্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর আধুনিক ফিচারগুলো পিক্সেলকে প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশ আলাদা করে রাখে। তবে আসন্ন Google Pixel 11 সিরিজ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে এখন পর্যন্ত যে তথ্য ও লিক (Leaks) বের হয়ে এসেছে, তাতে অনেক টেক-লাভারই কিছুটা হতাশ।
সম্প্রতি গ্যাজেট সংবাদমাধ্যম 9to5Google-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন গুগলের পিক্সেল ১১ সিরিজটি হতে যাচ্ছে গুগলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম “বোরিং” বা একঘেয়ে একটি লঞ্চ। কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বা বৈপ্লবিক ফিচার না থাকা, আগের মতো ডিজাইনে আটকে থাকা এবং দাম বৃদ্ধির গুঞ্জন—সব মিলিয়ে এটি আগের মতো পিক্সেল ভক্তদের রোমাঞ্চিত করতে পারছে না।
১. একই ডিজাইন ও কম চমক
গুগল গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, তারা তাদের ফ্ল্যাগশিপ পিক্সেল ড্যাশবোর্ড বা ডিজাইনে পরিবর্তন আনবে প্রতি ২ থেকে ৩ বছর পরপর। ফলে পিক্সেল ১১ সিরিজের চেহারায় বড় কোনো রিমডেলিং বা নতুনত্ব দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
- ডিজাইন ও ওজন: যদিও গুজব রয়েছে যে গুগল হয়তো পিক্সেল ১১ প্রোর পেছনের প্যানেলে পুরো ‘ম্যাট’ ফিনিশ আনবে এবং ফোল্ডেবল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডকে কিছুটা পাতলা (Thinner) করবে, তবে মূল বডি শেপে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। এছাড়া পিক্সেল ড্রাইভ ব্যবহারকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো ফোনের ওজন; সেই ওজন কমানোর শক্ত কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি।
- ‘HiLight’ নোটিফিকেশন ফিচার: গুগলের এই বছরের অন্যতম প্রধান নতুন হার্ডওয়্যার সংযোজন হতে যাচ্ছে ‘HiLight’ নামের একটি ফিচার। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি মাত্র ২টি মূল কাজে ব্যবহার করা যাবে, যা টেক উৎসাহীদের মন ভরাতে একেবারেই ব্যর্থ।
২. নতুন বড় কোনো ফিচার না থাকা ও দাম বৃদ্ধি
সাধারণত প্রতি বছরই পিক্সেল ফ্ল্যাগশিপে কোনো না কোনো চমকপ্রদ হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার ফিচার থাকে। কিন্তু পিক্সেল ১১-তে বড় ধরনের কোনো পারফরম্যান্স বা ক্যামেরা লিপ (Leap) দেখা যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাজারে উপাদানের খরচ বৃদ্ধি বা অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কারণে পিক্সেল ১১ সিরিজের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য প্রাইস হাইকের (Price Hike) ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একই রকম বা সামান্য আপগ্রেডেড ফোন কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত অর্থ, যা এই ফোনটির আকর্ষণ আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
৩. কাদের জন্য উপযোগি হতে পারে এই পিক্সেল ১১?
এত কিছুর পরও যারা পিক্সেল ৬ বা পিক্সেল ৭ সিরিজ কিংবা তারচেয়ে পুরোনো কোনো অ্যানড্রয়েড হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য পিক্সেল ১১ নিঃসন্দেহে একটি দারুণ আপগ্রেড হবে। তবে যারা গত এক বা দুই বছরের মধ্যে পিক্সেল ৯ বা ১০ সিরিজ কিনেছেন, তাদের নতুন এই জেনারেশনে শিফট করার বা টাকা খরচ করার মতো বাস্তবসম্মত কোনো কারণ নেই।
৪. ভবিষ্যৎ পিক্সেল ১২ (Pixel 12) থেকে ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা
পিক্সেল ১১-এর এই কিছুটা একঘেয়ে অবস্থার কারণে গ্যাজেটপ্রেমীরা এখন থেকেই নজর দিচ্ছেন পরবর্তী জেনারেশন অর্থাৎ Pixel 12-এর দিকে। একজন টেক-লাভার হিসেবে পিক্সেল ১২-তে গুগলের যেসব বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত:
১. উন্নত ক্যামেরা সেন্সর: প্রতিযোগী চাইনিজ ব্র্যাণ্ডগুলো (যেমন Oppo, Xiaomi) যেখানে বিশাল ১-ইঞ্চির বড় ক্যামেরা সেন্সর ও পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্সে বিপ্লব আনছে, সেখানে গুগলেরও আগামী বছর ১-ইঞ্চির বিশাল ফ্ল্যাগশিপ সেন্সর ব্যবহার করা উচিত।
২. সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি (Silicon-Carbon Battery): ফোনের বডি পাতলা রেখেই ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ mAh এর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি পেতে সিলিকন-কার্বন টেকনোলজির দিকে গুগলের যাওয়া উচিত।
৩. সব মডেলেই ফুল ম্যাট ডিজাইন: আঙুলের ছাপ মুক্ত ও প্রিমিয়াম ফিল পেতে প্রোর পাশাপাশি বেস মডেলেও ফুল ম্যাট ফিনিশ দেওয়া প্রয়োজন।
৪. ফাস্ট চার্জিং ও উন্নত চিপসেট: প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং বা ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যাণ্ডগুলোর সমকক্ষ হতে চার্জিং স্পিড ও প্রসেসরের পাওয়ার এফিসিয়েন্সি আরও বাড়াতে হবে।
শেষ কথা
আগামী ১২ আগস্ট গুগলের অফিসিয়াল পিক্সেল ১১ লঞ্চ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে (যেখানে জনপ্রিয় কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়াহ হোস্ট হিসেবে থাকবেন)। হয়তো গুগল ইভেন্টের দিন এমন কিছু ঘোষণা করবে যা সবাই আশা করেনি, কিন্তু লিক ও বর্তমান ট্রেন্ড বলছে এই বছরের পিক্সেল হতে যাচ্ছে অত্যন্ত সাধারণ ও প্রেডিক্টেবল একটি রিলিজ।
আপনার কি মনে হয়? আপনি কি এই বছরের পিক্সেল ১১ কেনার কথা ভাবছেন, নাকি আপনার নজরও পরবর্তী সেরা আপগ্রেডের দিকে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!
মেটা ডেসক্রিপশন (SEO): Google Pixel 11 সিরিজ হতে যাচ্ছে বেশ বোরিং ও প্রেডিক্টেবল একটি রিলিজ। কেন পিক্সেল ১১ নিয়ে আগ্রহ কমছে এবং পিক্সেল ১২ থেকে আমাদের কী প্রত্যাশা থাকা উচিত—জানুন বিস্তারিত।
Source link


