এক সময় স্মার্টফোনের দুনিয়ায় ফিজিক্যাল কিবোর্ড বা কিপ্যাডের রাজত্ব ছিল, আর ব্ল্যাকবেরি (BlackBerry) ফোন মানেই ছিল টাইপিংয়ের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
টাচস্ক্রিন আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েডের যুগেও সেই পুরনো ফিজিক্যাল কিবোর্ডের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে বাজারে এসেছে ‘ক্লিক্স পাওয়ার কিবোর্ড’ (Clicks Power Keyboard)।
জনপ্রিয় টেক পোর্টাল Tom’s Guide-এর সাম্প্রতিক এক রিভিউতে এই আকর্ষক আইফোন কেসটি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে যে, আধুনিক আইফোনে ফিজিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা আসলেই কেমন।
ব্ল্যাকবেরির সেই সোনালী দিনগুলোর সাথে বর্তমান এই গ্যাজেটের তুলনামূলক অভিজ্ঞতা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ডিজাইন এবং ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা
-
আইফোনের সাথে ফিজিক্যাল কিবোর্ড: কেসটি আইফোনের সাথে সংযুক্ত করার পর ফোনটি আকারে বেশ লম্বা হয়ে যায়, যা পকেটে বহন করা বা এক হাতে ব্যবহার করা কিছুটা কঠিন করে তোলে।
-
টাইপিং স্পিড ও ফিডব্যাক: যদিও বোতামগুলোর ক্লিকি ফিডব্যাক বেশ চমৎকার, তবুও বর্তমানের আধুনিক অন-স্ক্রিন সোয়াইপ টাইপিং কিংবা অটো-কারেক্টের গতির সাথে ফিজিক্যাল কিবোর্ডটি সবসময় পেরে ওঠে না। এ সম্পর্কিত আরও আপডেট জানতে আমাদের মেইন সাইট হোমপেজ ভিজিট করতে পারেন।
২. ব্ল্যাকবেরি নস্টালজিয়া বনাম আধুনিক বাস্তবতা
-
স্মৃতির সাথে বাস্তবের তফাত: আমরা অতীতে ব্ল্যাকবেরি কিবোর্ডের প্রেমে যতটা অন্ধ ছিলাম, বর্তমানের বিশাল টাচস্ক্রিন ডিসপ্লেতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই ছোট কিবোর্ডে টাইপ করা বেশ ঝামেলার বলে মনে হয়।
-
স্ক্রিন স্পেস কমে যাওয়া: কিবোর্ডটি ফোনের নিচের অংশ জুড়ে থাকায় ডিসপ্লের আসল কাজের জায়গা বা ভিউইং এরিয়া অনেকটাই ছোট হয়ে যায়, যা ভিডিও দেখা বা ব্রাউজ করার সময় বিরক্তির কারণ হতে পারে। এই ধরনের টেক ব্লগ ও রিভিউ পড়তে আমাদের টেক ব্লগ ক্যাটাগরি ঘুরে দেখতে পারেন।
| ক্লিক্স পাওয়ার কিবোর্ডের দিকসমূহ | রিভিউ অনুযায়ী বিবরণ ও মূল্যায়ন |
| ডিজাইন ও ফিট | আইফোনের সাথে সহজে যুক্ত হয়, তবে ফোন বেশ লম্বা হয়ে যায়। |
| টাইপিং অভিজ্ঞতা | ক্লিকি বাটন থাকলেও মডার্ন টাচস্ক্রিন গতির চেয়ে ধীরগতির। |
| নস্টালজিয়া বনাম ইউটিলিটি | ব্ল্যাকবেরি ফিল দিলেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কিছুটা অসুবিধাজনক। |
৩. উপসংহার
টম্স গাইডের পর্যালোচকদের মতে, ক্লিক্স পাওয়ার কিবোর্ডটি প্রথম দেখায় আপনার পুরনো ব্ল্যাকবেরির স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে ঠিকই, তবে দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করতে গেলে আধুনিক টাচস্ক্রিন সুবিধার অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হবে।
নস্টালজিয়া প্রিয়দের জন্য এটি আকর্ষণীয় হলেও সবার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি খুব বেশি উপযোগী নয়। এ সম্পর্কিত হার্ডওয়্যার ও টেক গাইড পড়তে আমাদের পিসি হার্ডওয়্যার গাইড পড়তে পারেন।



