২০১৫ সালে বাজারে আসার পর থেকেই অ্যাপল ওয়াচ (Apple Watch) তার আইকনিক ‘চারকোনা’ বা স্কোয়ারিচ (Squircle) ডিজাইনের জন্য সুপরিচিত। স্যামসাং (Galaxy Watch) বা গুগলের (Pixel Watch) মতো প্রতিযোগীরা গোল স্ক্রিনের ট্র্যাডিশনাল ঘড়ির ডিজাইন বেছে নিলেও অ্যাপল এতদিন তাদের আয়তক্ষেত্রাকার ডিসপ্লেতেই অনড় ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বিশ্বস্ত টেক লিক এবং ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের ভবিষ্যৎ ওয়াচ লাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে—যার মধ্যে অন্যতম একটি সম্ভাবনা হলো গোলাকার বা রাউন্ড ডিসপ্লে (Round Display)!
গোল স্ক্রিনের অ্যাপল ওয়াচ দেখতে যেমনই আকর্ষণীয় লাগুক না কেন, এর পেছনে রয়েছে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ। অ্যাপল যদি সত্যিই গোল স্ক্রিনের ওয়াচ বাজারে আনে, তবে এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কেমন হতে পারে? চলুন ডিজিটাল ট্রেন্ডসের রিপোর্ট থেকে জেনে নেওয়া যাক।
১. গোল ডিসপ্লের সুবিধা (The Pros)
ক) প্রথাগত ঘড়ির ক্লাসিক ফ্যাশন লুক
চারকোনা অ্যাপল ওয়াচ দেখতে যতোটাই চমৎকার হোক না কেন, এটি হাতে পরা থাকলে সবসময় একটি “ক্ষুদ্র কম্পিউটার” বা গ্যাজেট বলে মনে হয়। একটি গোল অ্যাপল ওয়াচ ফরমাল পোশাক, স্যুট বা ট্রেডিশনাল ড্রেসের সাথে অনেক বেশি প্রিমিয়াম এবং মার্জিত দেখাবে।
খ) নতুন গ্রাহক আকর্ষণ
যারা এতদিন স্রেফ চারকোনা ডিজিটাল লুক পছন্দ না করার কারণে অ্যাপল ওয়াচ কেনা থেকে বিরত ছিলেন, গোল ডিজাইন তাদের অ্যাপল ইকোসিস্টেমে টেনে আনবে।
গ) স্যামসাং ও গুগলের সাথে সরাসরি টেক্কা
স্যামসাংয়ের গ্যালক্সি ওয়াচ এবং গুগলের পিক্সেল ওয়াচ অ্যানালগ ঘড়ির লুক দিয়ে যে বিশাল বাজার ধরে রেখেছে, অ্যাপল গোল ওয়াচ আনলে সেই বাজারে বড় ধরনের আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।
২. গোল ডিসপ্লের অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ (The Cons)
ক) সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস (UI) জটিলতা
উইন্ডোজ বা অ্যান্ড্রয়েডের মতো অ্যাপল ওয়াচের অপারেটিং সিস্টেম (watchOS)-এর সমস্ত অ্যাপস, টেক্সট নোটিফিকেশন, কিবোর্ড এবং অন-স্ক্রিন বাটনগুলো চারকোনা স্ক্রিনের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা। গোলাকার স্ক্রিনে কোণগুলো কাটা পড়ার কারণে টেক্সট পড়া বা কিবোর্ডে টাইপ করা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। অ্যাপলকে পুরো watchOS নতুন করে ডিজাইন করতে হবে।
খ) ব্যাটারি ও অভ্যন্তরীণ পার্টসের জায়গা অপচয়
স্মার্টওয়াচের মাদারবোর্ড, চিপসেট এবং ব্যাটারি সাধারণত আয়তক্ষেত্রাকার হয়ে থাকে। গোলাকার কেসিংয়ের ভেতরে চারকোনা ব্যাটারি বা পার্টস বসাতে গেলে ভেতরের অনেক খালি জায়গা (Dead Space) নষ্ট হয়। এর ফলে ওয়াচের ব্যাটারি সাইজ ছোট হয়ে যেতে পারে অথবা ঘড়িটি অতিরিক্ত মোটা (Thick) হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গ) অ্যাপলের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি পরিবর্তন
দূরের কারও হাতে চারকোনা একটি স্মার্টওয়াচ দেখলেই যে কেউ বলে দিতে পারে সেটি একটি ‘অ্যাপল ওয়াচ’। গোল ডিজাইন আনলে এটি বাজারের অন্য দশটি সাধারণ ট্র্যাডিশনাল ঘড়ি বা স্যামসাং/গুগলের স্মার্টওয়াচের ভিড়ে নিজস্ব আইডেন্টিটি কিছুটা হারাতে পারে।
৩. অ্যাপল কি সত্যিই গোল ওয়াচ আনবে?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল তাদের মূল স্কয়ার ওয়াচ লাইনআপকে পুরোপুরি বন্ধ করে গোল ওয়াচ দিয়ে রিপ্লেস করবে না। বরং তারা “Apple Watch Fashion” বা নতুন একটি সাব-সিরিজ চালু করতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারীরা লুক ও ফ্যাশনকে প্রাধান্য দিতে পারবেন এবং মূল সিরিজে চারকোনা স্ক্রিনেই সর্বোচ্চ ডেটা ইনফরমেশন উপভোগ করা যাবে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন ১: গোল স্ক্রিনের অ্যাপল ওয়াচ কবে নাগাদ বাজারে আসতে পারে?
উত্তর: অ্যাপল বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ গবেষণা করলেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মেইনলাইন ওয়াচ সিরিজে এটি আসার সম্ভাবনা কম। এটি বাজারজাত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
প্রশ্ন ২: স্কয়ার নাকি রাউন্ড—কোন ডিসপ্লে স্মার্টওয়াচের জন্য বেশি কার্যকরী?
উত্তর: টেক্সট নোটিফিকেশন পড়া, অ্যাপস ব্যবহার করা এবং বেশি তথ্য দেখার জন্য চারকোনা (Square) ডিসপ্লে সবচেয়ে উপযোগী। তবে ফ্যাশন এবং এনালগ ঘড়ির অনুভূতির জন্য গোল (Round) ডিসপ্লে সেরা।
শেষ কথা
স্মার্টওয়াচের জগতে অ্যাপলের এই নতুন চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়। গোল স্ক্রিন আনলে যেমন ফ্যাশন স্টেটমেন্টে নতুন মাত্রা যোগ হবে, তেমনই সফটওয়্যার ও ব্যাটারি অপটিমাইজেশনের চ্যালেঞ্জও অ্যাপলকে মোকাবিলা করতে হবে।
আপনি কি চারকোনা অ্যাপল ওয়াচই পছন্দ করেন, নাকি অ্যাপলের গোল ওয়াচ দেখার অপেক্ষায় আছেন? কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান এবং পোস্টটি টেকপ্রেমী বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!


