হোমমোবাইলঅ্যাপলআগে থেকেই সেটআপ করা আইফোন পাঠানোর পরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন করেনি অ্যাপেল
ক্যাটেগরি:

আগে থেকেই সেটআপ করা আইফোন পাঠানোর পরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন করেনি অ্যাপেল

নতুন আইফোন কেনার পর পুরোনো ফোনের তথ্য, অ্যাপ ও সেটিং নতুন ডিভাইসে নিতে কিছুটা সময় লাগে। অ্যাপেল একসময় এমন একটি ধারণা ভেবে দেখেছিল, যেখানে নতুন ডিভাইস গ্রাহকের তথ্যসহ আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় হাতে পৌঁছাতে পারত।

তবে এটি অনলাইনে আইফোন কেনা সবার জন্য ঘোষণা করা কোনো সুবিধা ছিল না। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপেলের নতুন Upgrade কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতের বদলি ডিভাইস আগে থেকেই প্রস্তুত করে পাঠানোর ধারণাটি বিবেচনা করা হয়েছিল।

MacRumors এর প্রতিবেদনে Bloomberg-এর Mark Gurman-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ধারণাটি পরিকল্পনার পর্যায়ের বাইরে এগোয়নি। অ্যাপেল নিজেও এই সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

পরিকল্পনাটি কীভাবে কাজ করার কথা ছিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণাটি ছিল গ্রাহকের কাছে বদলি ডিভাইস পাঠানোর আগে সেটিকে তাঁর আইক্লাউড ব্যাকআপ থেকে পুনরুদ্ধার করে রাখা। ফলে নতুন ডিভাইস হাতে পাওয়ার পর সেটআপের কিছু ধাপ কমে যেতে পারত।

এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। গ্রাহকের জন্য কারখানা থেকেই স্থায়ীভাবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বসিয়ে আইফোন বানানোর কথা বলা হয়নি। আলোচনা হয়েছিল পাঠানোর আগে নির্দিষ্ট বদলি ডিভাইস প্রস্তুত করার একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে।

ধারণাটি অ্যাপেলের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Upgrade কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিল। তাই একে বিশ্বজুড়ে অ্যাপেল অনলাইন স্টোর থেকে কেনা সব নতুন আইফোনের পরিকল্পিত সুবিধা বলা ঠিক হবে না।

অ্যাপেল কেন ধারণাটি বাস্তবায়ন করেনি

অ্যাপেল এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট কারণকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা যাবে না। প্রতিবেদনে মূলত ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে সম্ভাব্য গোপনীয়তার উদ্বেগের কথা তোলা হয়েছে।

নতুন ডিভাইস গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর আগেই যদি ব্যক্তিগত তথ্য সেখানে পুনরুদ্ধার করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তথ্য কখন স্থানান্তর হলো এবং সেই সময়ে কারা তা ব্যবহার করতে পারল।

তবে নিরাপত্তা দুর্বলতা, কুরিয়ার চুরি বা সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতাকে অ্যাপেল পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার নিশ্চিত কারণ হিসেবে জানায়নি। তাই এসবকে প্রতিষ্ঠিত কারণ হিসেবে লেখা ঠিক হবে না।

প্রযুক্তিগতভাবে কাজটি অসম্ভব ছিল না

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা থেমে যাওয়ার প্রধান কারণ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং ধারণাটি গ্রাহকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কী ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে, সেটিই বড় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।

বর্তমান আইফোনেও পুরোনো ডিভাইস থেকে তথ্য নেওয়ার একাধিক ব্যবস্থা আছে। তাই নতুন আইফোন পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় না এলেও আগের তথ্য ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখনই অনেকটা স্বয়ংক্রিয়।

এখন নতুন আইফোন সেটআপের সবচেয়ে সহজ উপায় কী

অ্যাপেলের অফিসিয়াল কুইক স্টার্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো আইফোন নতুন আইফোনের কাছে রেখে কুইক স্টার্টের মাধ্যমে ডিভাইস সেটআপ ও তথ্য স্থানান্তর করা যায়।

ব্যবহারকারী চাইলে পুরোনো ডিভাইস থেকে সরাসরি তথ্য নিতে পারেন, অথবা আইক্লাউড থেকে নামাতে পারেন। আইক্লাউড ব্যবহার করলে অ্যাপ ও অন্যান্য তথ্য পেছনে নামতে থাকে, ফলে নতুন ডিভাইস তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহার শুরু করা যায়।

অ্যাপেল ১০ বা ১৫ মিনিটের মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। স্থানান্তরে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে ডেটার পরিমাণ, নেটওয়ার্কের অবস্থা এবং কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।

নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে ব্যাকআপ রাখা কেন জরুরি, তা TechnicalBD-র iOS 27 আপডেট করার গাইডে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তারের মাধ্যমেও তথ্য নেওয়া যায়

শুধু বেতার সংযোগ নয়, অ্যাপেল নতুন আইফোনে তারের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য স্থানান্তরের ব্যবস্থাও দেয়। অনেক বেশি তথ্য থাকলে বা স্থিতিশীল সংযোগ দরকার হলে এই পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে।

আইফোন ১৫ বা পরবর্তী দুটি মডেলের মধ্যে তথ্য স্থানান্তরে USB C কেবল সরাসরি ব্যবহার করা যায়। পুরোনো Lightning ভিত্তিক আইফোন থেকে নতুন মডেলে তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত কেবল ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাপেল।

আইক্লাউড ব্যাকআপও বিকল্প

পুরোনো আইফোন হাতে না থাকলেও আগে তৈরি করা আইক্লাউড ব্যাকআপ থেকে নতুন ডিভাইস পুনরুদ্ধার করা যায়। অ্যাপেলের বর্তমান ব্যবস্থায় কুইক স্টার্ট, আইক্লাউড ও কম্পিউটার ব্যাকআপ, তিনটিই তথ্য স্থানান্তরের স্বীকৃত পদ্ধতি।

অ্যাপেলের তথ্য স্থানান্তর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন আইফোন কেনার সময় কিছু ব্যবহারকারী প্রয়োজনে অস্থায়ী আইক্লাউড স্টোরেজ সুবিধাও পেতে পারেন, যাতে পুরোনো ডিভাইসের ব্যাকআপ রাখা সহজ হয়।

আগে থেকেই সেটআপ করা আইফোন কি ভবিষ্যতে আসতে পারে

এ বিষয়ে এখন নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। অ্যাপেল ধারণাটি আবার ভেবে দেখবে কি না, ভবিষ্যতের কোনো কর্মসূচিতে ভিন্নভাবে ব্যবহার করবে কি না, নাকি পুরোপুরি বাদ দিয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।

তাই ভবিষ্যতে এটি নিশ্চিতভাবে ফিরবে, অথবা আর কখনো আসবে না, দুটির কোনোটিই এখন বলা ঠিক হবে না। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী শুধু এটুকুই নিশ্চিত যে প্রতিবেদনে বলা ধারণাটি বাস্তব সেবায় পরিণত হয়নি।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য এর মানে কী

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের ওপর এই পরিকল্পনার সরাসরি প্রভাব নেই। কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের Upgrade কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত ধারণা ছিল, আর অ্যাপেল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগে থেকে সেটআপ করা কোনো ডেলিভারি সেবা ঘোষণা করেনি।

নতুন আইফোন কেনার ক্ষেত্রে তাই এখনো কুইক স্টার্ট, আইক্লাউড ব্যাকআপ অথবা সরাসরি তারের সংযোগই বাস্তব পদ্ধতি। নতুন ডিভাইস নেওয়ার আগে পুরোনো আইফোনের ব্যাকআপ হালনাগাদ করে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ প্রস্তুতি।

সাধারণ প্রশ্ন

অ্যাপেল কি আগে থেকেই ব্যক্তিগত তথ্য বসানো আইফোন বিক্রি করেছিল

না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী অ্যাপেল এমন একটি ধারণা ভেবে দেখেছিল, কিন্তু সেটি পরিকল্পনার পর্যায়ের বাইরে যায়নি এবং সাধারণ গ্রাহকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক সেবা হিসেবে চালু হয়নি।

কুইক স্টার্টে কত সময় লাগে

অ্যাপেল নির্দিষ্ট সময় দেয় না। তথ্যের পরিমাণ, নেটওয়ার্ক ও স্থানান্তরের পদ্ধতির ওপর সময় নির্ভর করে। সরাসরি স্থানান্তর শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুটি ডিভাইস কাছাকাছি এবং বিদ্যুৎ সংযোগে রাখা উচিত।

নতুন আইফোনে পুরোনো সব তথ্য নেওয়া যাবে

কুইক স্টার্ট, আইক্লাউড বা কম্পিউটার ব্যাকআপ ব্যবহার করে অনেক তথ্য, অ্যাপ ও সেটিং নতুন আইফোনে নেওয়া যায়। তবে কিছু অ্যাপ বা সেবায় আবার সাইন ইন করতে বা নিরাপত্তা যাচাই করতে হতে পারে।

শেষ কথা

আগে থেকেই ব্যক্তিগত তথ্যসহ প্রস্তুত আইফোন পাঠানোর ধারণাটি ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারত। তবে এটি অ্যাপেলের ঘোষিত কোনো সুবিধা ছিল না এবং পরিকল্পনার পর্যায়ের বাইরে এগোয়নি।

মূল কথা হলো, পরিকল্পনাটি কেন থেমেছে, সে বিষয়ে অ্যাপেল আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি। তাই গোপনীয়তার উদ্বেগকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা বা নিরাপত্তা ব্যর্থতাকে নিশ্চিত কারণ বলা ঠিক নয়।

বর্তমানে নতুন আইফোনে তথ্য নেওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো অ্যাপেলের কুইক স্টার্ট, আইক্লাউড ব্যাকআপ অথবা তারের মাধ্যমে সরাসরি স্থানান্তর। প্রয়োজন অনুযায়ী এর যেকোনোটি বেছে নেওয়া যায়।

সর্বশেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট