হোমস্মার্ট ওয়াচOura Ring-এ নতুন Cardio Effort ও VO₂ Max, ব্যায়ামের প্রভাব বুঝবেন যেভাবে
ক্যাটেগরি:

Oura Ring-এ নতুন Cardio Effort ও VO₂ Max, ব্যায়ামের প্রভাব বুঝবেন যেভাবে

স্মার্ট রিং এখন শুধু ঘুম, হৃদ্‌স্পন্দন কিংবা দৈনিক পদক্ষেপ গণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আপনি কতটা ব্যায়াম করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদে আপনার অ্যারোবিক ফিটনেসে কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা বোঝাতেও নতুন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে। এমনই দুটি ফিচার এনেছে Oura।

২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত Oura-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন ফিচার দুটি হলো Cardio Effort এবং Automatic VO₂ Max। এগুলো ব্যায়ামের চাপ ও ফিটনেসের পরিবর্তন সম্পর্কে আপনাকে আরও ব্যক্তিগত ধারণা দিতে তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের আগ্রহ বাড়ছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে Google Fitbit Edge-এর ফিটনেস ও স্বাস্থ্য ফিচার নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন।

Cardio Effort কী এবং কীভাবে কাজ করে?

Cardio Effort এমন একটি পরিমাপ, যা ব্যায়ামের সময় হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর কতটা চাপ পড়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করে। এটি শুধু কত দূর হাঁটলেন বা কত ক্যালরি খরচ হলো, সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। বরং হৃদ্‌স্পন্দনের প্রতিক্রিয়া এবং ব্যায়ামের সময়কাল বিবেচনা করে।

Oura-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ফিচার Training Impulse বা TRIMP পদ্ধতির ধারণা ব্যবহার করে। এতে ব্যায়ামের তীব্রতা ও সময়কাল মিলিয়ে শারীরিক পরিশ্রমের একটি হিসাব তৈরি হয়। ফলে অল্প সময়ের তীব্র ব্যায়াম আর দীর্ঘ সময়ের হালকা ব্যায়ামের প্রভাব আলাদাভাবে বোঝা যায়।

প্রতিটি ব্যায়ামের তথ্যের পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে জমা হওয়া Cardio Effort-ও দেখা যায়। Oura আপনার আগের কার্যকলাপ এবং হৃদ্‌স্পন্দনের তথ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যক্তিগত পরিসর তৈরি করে। ফলে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের স্বাভাবিক কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবর্তন বোঝা সহজ হয়।

Cardio Effort-এর পাঁচটি স্তর

Oura-এর ঘোষণায় সাপ্তাহিক Cardio Effort-কে পাঁচটি স্তরে দেখানো হয়েছে। এগুলো হলো Light, Fair, Maintaining, Building এবং Reaching। সাম্প্রতিক কার্যকলাপের তুলনায় আপনার ব্যায়ামের চাপ কতটা কম বা বেশি, প্রতিটি স্তর তার ধারণা দেয়।

স্তর সাধারণ অর্থ
Light স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম হৃদ্‌যন্ত্রের চাপ
Fair স্বাভাবিক মাত্রার নিচে ব্যায়ামের চাপ
Maintaining সাম্প্রতিক অভ্যাসের কাছাকাছি কার্যকলাপ
Building স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কার্যকলাপ
Reaching স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি চাপ

এই স্তরগুলোকে সবার জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়ামের লক্ষ্য ভাবা ঠিক নয়। Oura আপনার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তুলনা করে। Reaching স্তরে পৌঁছানো মানেই অতিরিক্ত ব্যায়াম বা আঘাত নিশ্চিত, তা নয়। তবে আপনার আরও বিশ্রাম দরকার কি না, সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে।

ফিচারটির ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে Oura-এর Cardio Effort সহায়তা নির্দেশিকা থেকে।

Automatic VO₂ Max কী পরিবর্তন আনছে?

VO₂ Max হলো ব্যায়ামের সময় শরীর সর্বোচ্চ কতটা অক্সিজেন ব্যবহার করতে পারে, তার একটি পরিমাপ। অ্যারোবিক ফিটনেস বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি। দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কার্যকলাপে আপনার শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তা মূল্যায়নে এই মান কাজে লাগে।

আগে Oura-এর Cardio Capacity ফিচারে VO₂ Max-এর অনুমান পেতে ছয় মিনিটের হাঁটার পরীক্ষা দিতে হতো। নতুন Automatic VO₂ Max পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা GPS-সহ হাঁটা, দৌড়ানো বা পাহাড়ি পথে হাঁটার কার্যকলাপ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমান তৈরি হয়।

তবে ফিচারটি এখনো Oura Labs-এর পরীক্ষামূলক সুবিধা। Oura জানিয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এটি ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে এবং Oura Ring Gen3 ও পরবর্তী মডেলের জন্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাই সমর্থিত রিং থাকলেই সবার অ্যাপে একই সময়ে ফিচারটি দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

প্রথম VO₂ Max স্কোর পেতে কী লাগবে?

Oura-এর Oura Labs সংক্রান্ত অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম স্বয়ংক্রিয় VO₂ Max স্কোর পেতে কমপক্ষে ৩০ দিনের Oura ডেটা এবং অন্তত পাঁচটি উপযুক্ত কার্যকলাপের তথ্য লাগবে।

এই কার্যকলাপগুলো হতে হবে GPS অবস্থান চালু রেখে করা বাইরের হাঁটা, দৌড়ানো অথবা হাইকিং। প্রয়োজনীয় তথ্য জমা হলে অ্যাপের My Health বিভাগের Heart Health অংশে VO₂ Max-এর অনুমান দেখতে পাবেন। পরবর্তী উপযুক্ত কার্যকলাপের তথ্যের ভিত্তিতে মানটি সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ হতে পারে।

Oura-এর মতে, VO₂ Max সাধারণত প্রতিদিন বড় পরিবর্তন দেখায় না। তাই এক দিনের স্কোরের চেয়ে কয়েক মাস ধরে এর প্রবণতা দেখা বেশি অর্থবহ। চাইলে ল্যাব পরীক্ষার ফল বা অন্য ডিভাইসের পরিমাপও অ্যাপে সংরক্ষণ করতে পারবেন। তবে সেগুলো Oura-এর স্বয়ংক্রিয় অনুমানের জায়গা নেবে না।

দুটি ফিচারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

Cardio Effort মূলত ব্যায়ামের সময় হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর পড়া চাপ সম্পর্কে ধারণা দেয়। অন্যদিকে, VO₂ Max শরীরের অ্যারোবিক সক্ষমতার একটি আনুমানিক চিত্র তুলে ধরে। অর্থাৎ একটি ব্যায়ামের চাপ বুঝতে সাহায্য করে, অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে কাজে লাগে।

দুটির তথ্য একসঙ্গে দেখলে নিজের ব্যায়ামের অভ্যাস সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে পারেন। তবে এগুলোকে সরাসরি চিকিৎসাগত পরীক্ষা কিংবা হৃদ্‌রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা ভাবা যাবে না।

পরিধানযোগ্য ডিভাইসের স্বাস্থ্য পরিমাপ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা বুঝতে Apple Watch-এর হৃদ্‌স্পন্দন পরিমাপের নির্ভুলতা নিয়ে গবেষণা সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিও কাজে লাগবে। বিভিন্ন ডিভাইসের পরিমাপ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এক নয়, তাই একটি ডিভাইসের ফল অন্যটির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সব সময় ঠিক হয় না।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের কী জানা দরকার?

বাংলাদেশে Oura Ring ব্যবহার করতে চাইলে আগে নির্দিষ্ট মডেল, সদস্যতা এবং অ্যাপের ফিচার প্রাপ্যতা যাচাই করে নিন। Oura-এর সহায়তা নথি অনুযায়ী, Cardio Effort-এর জন্য Gen3 বা পরবর্তী রিং এবং সক্রিয় সদস্যতা লাগবে। Automatic VO₂ Max-ও Oura Labs-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হচ্ছে।

Oura Labs-এর সুবিধা অঞ্চল, ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপের ভাষার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই ফিচারটি এখনই সবার জন্য খোলা ধরে নিয়ে শুধু এই সুবিধার কারণে রিং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

স্বাস্থ্য ও ফিটনেস পর্যবেক্ষণে স্মার্ট রিং বা স্মার্টওয়াচ সহায়ক হতে পারে। কিন্তু অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু ডিভাইসের স্কোরের ওপর ভরসা করবেন না। দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

শেষ কথা

Oura-এর নতুন Cardio Effort এবং Automatic VO₂ Max ফিচার স্মার্ট রিংয়ের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকে আরও তথ্যভিত্তিক করার চেষ্টা করছে। প্রথমটি সাপ্তাহিক ব্যায়ামের চাপ বুঝতে এবং দ্বিতীয়টি দীর্ঘমেয়াদি অ্যারোবিক ফিটনেসের পরিবর্তন দেখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে Automatic VO₂ Max এখনো পরীক্ষামূলক, আর দুই ফিচারের প্রাপ্যতাও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই এগুলোকে দৈনন্দিন ফিটনেস পর্যবেক্ষণের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত, চিকিৎসাগত মূল্যায়নের বিকল্প হিসেবে নয়।

সর্বশেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট