হোমএআই নিউজMeta Muse থেকে Facebook ও Instagram-এর চেয়ে বেশি আয় করতে চান জাকারবার্গ
ক্যাটেগরি:

Meta Muse থেকে Facebook ও Instagram-এর চেয়ে বেশি আয় করতে চান জাকারবার্গ

মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী Muse এখন শুধু মানুষের নানা কাজ সহজ করার প্রযুক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ আয়েরও বড় একটি অংশ হয়ে উঠছে। মার্ক জাকারবার্গ চান, সময়ের সঙ্গে এই এআই এজেন্ট থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের তুলনায় ব্যবহারকারীপ্রতি বেশি আয় করতে।

২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মেটার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল নিয়ে আলোচনায় জাকারবার্গ Muse-এর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেবাটি থেকে আয় বাড়ানো, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং পরিচালন ব্যয় কমানো এখন মেটার প্রধান লক্ষ্য।

Meta Muse কী এবং কীভাবে কাজ করে?

সাধারণ এআই সহকারী মূলত প্রশ্নের উত্তর দেয়, লেখা তৈরি করে কিংবা তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কিন্তু মেটার অফিশিয়াল Muse পরিচিতি অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। এটি ব্যবহারকারীর নির্দেশ বুঝে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, Muse-কে ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে, ইমেইল সামলাতে কিংবা অনলাইনে পণ্য খুঁজে কেনাকাটায় সাহায্য করতে বলা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ব্রাউজার ব্যবহার করতে এবং কাজের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। তবে জরুরি কাজের আগে ব্যবহারকারীর অনুমতি লাগতে পারে।

এই ধরনের প্রযুক্তিকে এআই এজেন্ট বলা হয়। এআই এজেন্ট কীভাবে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করে এবং সাধারণ এআই সহকারীর সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়, তা জানতে TechnicalBD-র Meta Muse নিয়ে আগের প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

১ কোটির বেশি ব্যবহারকারী, কেনাকাটায় আগ্রহ

মেটার সাম্প্রতিক আর্থিক আলোচনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় Muse ব্যবহার শুরু করেছেন ১ কোটির বেশি মানুষ। জাকারবার্গের বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা সেবাটি চালু করেছেন, তাঁদের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রতিদিন এটি ব্যবহার করছেন। কেনাকাটা এর জনপ্রিয় ব্যবহারগুলোর একটি।

Moneycontrol-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন কেনাকাটার গড় মূল্য ২০০ ডলারের বেশি বলে জাকারবার্গ উল্লেখ করেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানকে সব ব্যবহারকারীর কেনাকাটার অভ্যাস বা ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

মেটার জন্য এই তথ্য তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যবহারকারী যদি এআইয়ের সাহায্যে পণ্য খোঁজা থেকে শুরু করে কেনাকাটা পর্যন্ত সবই সারেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিজ্ঞাপনের বাইরে ব্যবসার সঙ্গে লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

Muse থেকে কীভাবে অর্থ আয় করবে Meta?

প্রথম পরিকল্পনা হলো, Muse-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া কেনাকাটা বা অন্যান্য বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফি নেওয়া। অর্থাৎ, এআই এজেন্ট কোনো ক্রেতাকে পণ্য খুঁজে পেতে ও কেনাকাটা শেষ করতে সাহায্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কাছ থেকে মেটা আয় করতে পারে।

দ্বিতীয় পথ সাবস্ক্রিপশন। সাধারণ ব্যবহারকারীরা মৌলিক সুবিধা বিনা মূল্যে পেলেও উন্নত এআই মডেল বা বেশি ব্যবহারের সুবিধার জন্য অর্থ দিতে পারেন। একইভাবে ব্যবসার মালিক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সুবিধা চালু করে সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে মেটা।

তৃতীয় সম্ভাবনা কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার বাড়ানো। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি কর্মীদের কাজ সহজ করতে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে, তাহলে বিশেষ সুবিধা বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য অর্থ দিতে পারে। এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে Meta-র তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত আলোচনার প্রকাশিত প্রতিলিপিতে।

Facebook ও Instagram-এর চেয়ে বেশি আয়ের লক্ষ্য কেন?

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে মেটা বিজ্ঞাপনসহ নানা উপায়ে আয় করে। ব্যবহারকারীরা এসব অ্যাপে যত বেশি সময় কাটান, তাঁদের আগ্রহ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানোর এবং ব্যবসার কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তত বাড়তে পারে। Muse সেই ব্যবসায়িক মডেলের পাশাপাশি সরাসরি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

জাকারবার্গের বক্তব্য অনুযায়ী, মেটার বিদ্যমান অ্যাপগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ব্যবহারকারীর জন্য বছরে গড়ে কয়েকশ ডলার আয় হয়। তাঁর প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন ও সাবস্ক্রিপশনের মতো উৎসের কারণে এই এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীপ্রতি এর চেয়েও বেশি আয় করতে পারবে।

তবে এটি ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, বর্তমান অর্জন নয়। Muse এখনই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের চেয়ে বেশি আয় করছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। লক্ষ্যটি বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সেবাটি নিয়মিত ব্যবহারের প্রবণতা, লেনদেনের পরিমাণ এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর।

বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবসায় কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাংলাদেশে ইকমার্স, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিক্রি এবং অনলাইন ব্যবসার জন্য Muse-এর মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ক্রেতারা যদি এআইয়ের সাহায্যে পণ্য তুলনা, তথ্য যাচাই ও কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন, তাহলে ব্যবসাগুলোকেও পণ্যের বিবরণ, মূল্য, সরবরাহ এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হতে পারে।

অন্যদিকে, এআই এজেন্টের সুপারিশে কোন পণ্য বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিও ব্যবসার জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক কেনাকাটা বাংলাদেশে সহজলভ্য হলে পণ্যের তথ্য সঠিক রাখা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং অনলাইন লেনদেনের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর চাপও বাড়বে।

তবে বাংলাদেশে সেবাটি পুরোপুরি কবে পাওয়া যাবে, কিংবা স্থানীয় ব্যবসার জন্য এর বাণিজ্যিক সুবিধা কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত নয়। তাই এখনই এটিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য চালু কোনো নতুন আয়ের ব্যবস্থা ধরে নেওয়া উচিত হবে না।

গোপনীয়তা ও পরিচালন ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ

এআই এজেন্টকে ইমেইল, ব্রাউজার বা কেনাকাটার মতো কাজে যুক্ত করলে ব্যক্তিগত তথ্য ও অনুমতির বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। মেটা তার Muse-এর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেছে, ব্যবহারকারীরা কোন সেবায় কতটুকু প্রবেশাধিকার দেবেন, তা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তবে বাস্তবে এই সুরক্ষা কতটা কার্যকর, তা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে বিচার করা দরকার।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ পরিচালন ব্যয়। জটিল এআই মডেল চালাতে বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা লাগে, ব্যবহারকারী বাড়লে যা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। মেটা আগামী এক বছরে কম্পিউটিং ব্যয়ের দক্ষতা দশ গুণের বেশি উন্নত করার লক্ষ্য জানিয়েছে। সেই উন্নতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে Muse-এর দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা।

শেষ কথা

Muse-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখাচ্ছে, এআই প্রতিযোগিতা এখন শুধু ভালো উত্তর দেওয়া বা নতুন সুবিধা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এআই এজেন্ট বানাতে চাইছে, যা মানুষের হয়ে বাস্তব কাজ সারবে এবং সেই কাজের মাধ্যমেই ব্যবসায়িক আয় তৈরি করবে।

তবে ১ কোটির বেশি ব্যবহারকারী পাওয়া বা বেশি আয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করাই সাফল্যের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এই এআই এজেন্ট কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে, মানুষ কতটা নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন এবং আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় কতটা কমানো যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে মেটার এই পরিকল্পনা কতটা সফল হবে।

সর্বশেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট