HomeGadgetsDronsড্রোন ও এয়ারক্রাফট পার্টসে ১০০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প!

ড্রোন ও এয়ারক্রাফট পার্টসে ১০০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিমান শিল্প নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশী ড্রোন (Drones) এবং বিমান তৈরির যন্ত্রাংশের (Aircraft parts) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বা ট্যারিফ (100% Tariff) আরোপের এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

প্রযুক্তি ও পলিসি বিষয়ক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম The Verge-এর এক প্রতিবেদনে এই নজিরবিহীন শুল্ক আরোপের বিস্তারিত তথ্য ও আন্তর্জাতিক ড্রোন বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

১. কেন এই বিশাল শুল্ক আরোপ?

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বিমান শিল্প, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশীয় ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে চাঙ্গা করতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই আদেশের প্রধান মূল লক্ষ্যগুলো:

  • চীনা ড্রোনের আধিপত্য হ্রাস: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করা বাণিজ্যিক ও কনজিউমার ড্রোনের একটা বড় অংশই চীন থেকে আমদানি করা হয় (বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড DJI এবং Autel)। এই বিপুল শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশী ড্রোনের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

  • স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা: ইউএস-ভিত্তিক ড্রোন নির্মাতা ও এভিয়েশন কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করে সম্পূর্ণ তৈরি ড্রোন ও এর খুচরা যন্ত্রাংশ আমেরিকার মাটিতেই উৎপাদনের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

২. ড্রোন ও এয়ারক্রাফট শিল্পে কী প্রভাব পড়বে?

এই ১০০% ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার ঘোষণা মার্কিন এভিয়েশন সেক্টর এবং ড্রোনপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে এর প্রভাবগুলো হতে পারে:

  1. ভোক্তা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি: সাধারণ ফটোগ্রাফার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ডেলিভারি সেবায় ব্যবহৃত ড্রোনের দাম একলাফে আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে।

  2. খুচরা যন্ত্রাংশের সংকট: বিমান, প্রপেলার, ব্যাটারি ও মোটরসহ এয়ারক্রাফটের যাবতীয় যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক বসায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন মেইনটেন্যান্স খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

  3. ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষতি: যেসব ছোট ব্যবসা ও স্টার্টআপ বাণিজ্যিক ড্রোন সার্ভিস (যেমন: কৃষিকাজ, ভিডিওগ্রাফি, সার্ভেয়িং) দিয়ে থাকে, তাদের পরিচালনা ব্যয় এক ধাক্কায় দ্বিগুণ বা তার বেশি বেড়ে যেতে পারে।

বিষয় / ক্যাটাগরি পূর্বের অবস্থা নতুন ঘোষিত পলিসি
ড্রোন আমদানিতে শুল্ক স্ট্যান্ডার্ড কাস্টমস ট্যারিফ ১০০% অতিরিক্ত শুল্ক (100% Tariff)
এয়ারক্রাফট পার্টস রেগুলার ইমপোর্ট ডিউটি ১০০% আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ট্যারিফ
মূল উদ্দেশ্য মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা জাতীয় নিরাপত্তা ও লোকাল ম্যানুফ্যাকচারিং বৃদ্ধি
সরাসরি ভুক্তভোগী আমদানিকারক ও ভোক্তা খুচরা ক্রেতা, ড্রোন সার্ভিস ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া

অনেক অর্থনীতিবিদ ও টেক-বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বাণিজ্যিক ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা চীনা বা বিদেশী সাপ্লাই চেইনের তুলনায় বেশ পিছিয়ে।

একদম রাতারাতি ১০০% শুল্ক বসানোর ফলে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ঘাটতি দেখা দেবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব টেক্সটাইল ও এভিয়েশন শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

উৎসThe Verge
একই রকমের লেখা সমূহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় পোস্ট

মন্তব্য সমূহবাংলা
মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ