হোমমোবাইলঅ্যাপলসেপ্টেম্বরের আগেই নতুন ম্যাক কেন আনল অ্যাপেল, জন টার্নাসের সময়ে কী বদলাচ্ছে
ক্যাটেগরি:

সেপ্টেম্বরের আগেই নতুন ম্যাক কেন আনল অ্যাপেল, জন টার্নাসের সময়ে কী বদলাচ্ছে

২০২৬ সালে অ্যাপেলের পণ্য প্রকাশের সময়সূচি আগের তুলনায় কিছুটা আলাদা ছিল। সেপ্টেম্বরের বড় আইফোন আয়োজনের আগেই কোম্পানিটি নতুন Mac mini, Mac Studio এবং M6 প্রসেসর ঘোষণা করে দেয়।

তখন বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। এখন সেপ্টেম্বর পেরিয়ে যাওয়ায় ছবিটা অনেক পরিষ্কার। নতুন ম্যাক, iPhone Duo আর নেতৃত্বের পরিবর্তন মিলিয়ে অ্যাপেলের সময়টা বেশ ব্যস্ত কেটেছে।

২৫ আগস্ট অ্যাপেল নতুন M6 Mac mini, M5 Max ও M5 Ultra চালিত Mac Studio এবং নতুন অ্যাপেল সিলিকন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। অর্থাৎ এগুলো কোনো গুজব নয়, অ্যাপেলেরই নিশ্চিত করা তথ্য।

নতুন ম্যাকগুলো সম্পর্কে আরও জানতে ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিওর মধ্যে কোনটি কার জন্য ভালো তুলনাটিও পড়তে পারেন। সেখানে দুই মডেলের দাম, ক্ষমতা আর কোন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি উপযোগী, তা আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আগস্টেই নতুন ম্যাক আনার কারণ কী ছিল

অ্যাপেল আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে সেপ্টেম্বরের আয়োজনের জন্য জায়গা তৈরি করতেই আগস্টে নতুন ম্যাক আনা হয়েছিল। তাই এই ধারণাকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।

তবে অ্যাপেলের ২৫ আগস্টের ম্যাক মিনি ঘোষণায় বোঝা গিয়েছিল, কোম্পানিটি এবার M6 সংস্করণকে শুধু সাধারণ ডেস্কটপ হিসেবে দেখছে না।

নতুন M6 সংস্করণে স্থানীয়ভাবে এআই চালানো, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বয়ংক্রিয় কাজ চালানোর ক্ষমতাকে অ্যাপেল বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে Wi-Fi 7, Bluetooth 6 এবং উন্নত নেটওয়ার্ক সুবিধা।

এই পরিবর্তনের বাস্তব দিক নিয়ে TechnicalBD-র M6 ম্যাক মিনিতে তিনটি ডিসপ্লে এবং 4K 165Hz সমর্থন বিষয়ক লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Mac Studio-তেও একই সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে

২৫ আগস্ট অ্যাপেল নতুন ম্যাক স্টুডিও ঘোষণা করে। এতে M5 Max এবং আরও শক্তিশালী M5 Ultra প্রসেসরের বিকল্প রাখা হয়েছে।

M5 Ultra সংস্করণে সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি ইউনিফাইড মেমোরি ব্যবহার করা যায়। একাধিক ম্যাক স্টুডিও একসঙ্গে জুড়ে বড় এআই মডেল বা জটিল হিসাব চালানোর সুবিধাও এবার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এই প্রবণতার আরেকটি দিক আমরা এআই কাজের কারণে ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিওর চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিবেদনে দেখেছি। ছোট ম্যাক এখন শুধু বাসা বা অফিসের কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

এরপর ১ সেপ্টেম্বর বদলে যায় অ্যাপেলের নেতৃত্ব

পণ্য ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বড় পরিবর্তন আসে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে জন টার্নাস আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপেলের CEO হিসেবে দায়িত্ব নেন, আর টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যানের ভূমিকায় চলে যান।

এটি কোনো গুজব বা সম্ভাব্য পরিবর্তন নয়। অ্যাপেল ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিল এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেটি কার্যকর হয়েছে।

টিম কুক অ্যাপেল ছেড়ে যাননি। নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বোর্ডে থাকছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে, ভূমিকা রাখবেন।

টিম কুকের দীর্ঘ সময়ের নেতৃত্ব এবং অ্যাপেলের পরিবর্তন নিয়ে আরও জানতে TechnicalBD-র টিম কুকের CEO অধ্যায় ও তার রেখে যাওয়া প্রভাব বিষয়ক প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন।

জন টার্নাস এখন আনুষ্ঠানিকভাবেই অ্যাপেলের CEO

জন টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপেলের পণ্য নকশা দলে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি হার্ডওয়্যার প্রকৌশলের নেতৃত্বে আসেন এবং আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপেল ওয়াচের বিভিন্ন প্রজন্মে বড় ভূমিকা রাখেন।

বর্তমানে অ্যাপেলের নেতৃত্ব পাতাতেও তাকে সরাসরি CEO হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ আগের পোস্টের “CEO হতে যাচ্ছেন” ধরনের বাক্য এখন পুরোপুরি পুরোনো।

একই সঙ্গে অ্যাপেল জনি স্রুজিকে Chief Hardware Officer পদে নিয়োগ দিয়েছে। ফলে জন টার্নাস CEO হওয়ার পর হার্ডওয়্যার বিভাগের দৈনন্দিন নেতৃত্বও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

জন টার্নাসের প্রথম বড় আইফোন ঘোষণা ছিল iPhone Duo

নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাত্র আট দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, অ্যাপেল প্রথম ভাঁজ করা আইফোন হিসেবে iPhone Duo ঘোষণা করে। জন টার্নাস CEO হওয়ার পর এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পণ্য ঘোষণাগুলোর একটি।

অ্যাপেলের আইফোন Duo সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় টার্নাস নিজেই নতুন ডিভাইসটিকে আইফোনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ফোনটি খুললে ৭.৬ ইঞ্চির বড় পর্দা পাওয়া যায়, আর বন্ধ অবস্থায় ব্যবহার করা যায় ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের পর্দা। এতে আছে অ্যাপেলের নতুন A20 Pro প্রসেসর।

এই ফোন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অ্যাপেলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন নিয়ে TechnicalBD এর পূর্ণ প্রতিবেদন পড়তে পারেন।

M6 আর A20 Pro একই বছরে কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন ম্যাকের M6 আর আইফোনের A20 Pro, দুটোই অ্যাপেলের নিজস্ব প্রসেসর তৈরির বড় ধাপ। কম্পিউটার ও মোবাইল, দুই জায়গাতেই অ্যাপেল এখন স্থানীয়ভাবে এআই চালানোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

A20 Pro নিয়ে TechnicalBD-র অ্যাপেলের প্রথম ২ ন্যানোমিটার আইফোন প্রসেসর বিশ্লেষণে এআই ক্ষমতা, গ্রাফিকস, মেমোরি এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তনগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে M6 Mac mini এখন স্থানীয় এআই মডেল আর স্বয়ংক্রিয় কাজ চালানোর জন্য আরও শক্তিশালী। ফলে অ্যাপেলের ভবিষ্যৎ কৌশলে নিজস্ব প্রসেসরের গুরুত্ব আরও বাড়ছে বলে বোঝা যায়।

সেপ্টেম্বরের আয়োজনের জন্য কি ম্যাক আগে আনা হয়েছিল

এর সরাসরি উত্তর এখনও নেই। অ্যাপেল কখনো বলেনি যে iPhone Duo বা iPhone 18 পরিবারের জন্য বেশি সময় রাখতেই আগস্টে নতুন ম্যাক ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে ফলাফল দেখে বলা যায়, আগস্টে ম্যাক ঘোষণা করায় সেপ্টেম্বরের মূল আলোচনায় ভাঁজ করা আইফোন, আইফোন ১৮ প্রো, অ্যাপেল ওয়াচ ও অন্যান্য নতুন পণ্যকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অর্থাৎ সময়সূচির পরিবর্তন বাস্তব, কিন্তু এর পেছনের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বাড়তি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অ্যাপেলের নিশ্চিত তথ্য আর আমাদের বিশ্লেষণ আলাদা রাখা এখানে জরুরি।

নতুন ম্যাক এখন বাজারেও চলে এসেছে

আগের পোস্টে নতুন ম্যাকগুলোকে শুধু ঘোষণা পর্যায়ের পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এখন সেই তথ্যও পুরোনো। অ্যাপেল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন Mac mini আর Mac Studio বিক্রি শুরু করেছে।

অ্যাপেলের ২২ সেপ্টেম্বরের আনুষ্ঠানিক আপডেট অনুযায়ী, M6 Mac mini-র যুক্তরাষ্ট্রের প্রারম্ভিক দাম ৮৯৯ ডলার, আর M5 Max Mac Studio শুরু হচ্ছে ২,৪৯৯ ডলার থেকে।

যারা নতুন ম্যাক কেনার কথা ভাবছেন, তাদের শুধু নতুন মডেল এসেছে কি না দেখলেই চলবে না। নিজের কাজের জন্য ম্যাক মিনি নাকি ম্যাক স্টুডিও বেশি দরকার, সেটাই আগে ঠিক করা উচিত।

সিরি এআইও এই পরিবর্তনের আরেকটি অংশ

নতুন নেতৃত্ব আর হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি অ্যাপেল সফটওয়্যার ও এআইয়ের দিকেও বড় পরিবর্তন আনছে। সেপ্টেম্বরে নতুন সিরি এআই চালু হয়েছে, যা ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট এবং স্ক্রিনের তথ্য বুঝে কাজ করতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অ্যাপেলের নতুন সিরি এআই কীভাবে কাজ করে প্রতিবেদনটিও পড়তে পারেন। নতুন ম্যাক ও আইফোন, দুটোতেই এআই এখন বিক্রির বড় সুবিধা হয়ে উঠছে।

তাহলে কি জন টার্নাস আসার পরই সব বদলে গেছে

এভাবে বলা ঠিক হবে না। M6, iPhone Duo, A20 Pro কিংবা নতুন Mac Studio-র মতো পণ্য কয়েক সপ্তাহে তৈরি হয়নি। জন টার্নাস CEO হওয়ার বহু আগেই এগুলোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

তাই সেপ্টেম্বরের পণ্যগুলোকে পুরোপুরি নতুন CEO-র কৌশল বলে দেখানো বিভ্রান্তিকর হবে। তার নিজের সিদ্ধান্ত ও প্রভাব বোঝার জন্য আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।

তবে হার্ডওয়্যার প্রকৌশল থেকে উঠে আসা একজন CEO দায়িত্বে আসায় ভবিষ্যতে অ্যাপেলের পণ্য নকশা, স্থায়িত্ব আর নিজস্ব প্রসেসর প্রযুক্তি কতটা গুরুত্ব পায়, সেটি অবশ্যই নজরে রাখার বিষয়।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ কী

বাংলাদেশে অ্যাপেলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব এখনই চোখে পড়বে না। তবে নতুন ম্যাক বা আইফোন কেনার ক্ষেত্রে পণ্য প্রকাশের সময়সূচি বদলালে কেনার সময় ঠিক করা আরও জরুরি হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে নতুন ম্যাক কিনতে চাইলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের জন্য চোখ বুজে অপেক্ষা করার পুরোনো ধারণা এখন আর সব সময় কাজ নাও করতে পারে। অ্যাপেল বছরের অন্য সময়েও বড় হার্ডওয়্যার ঘোষণা দিতে পারে।

বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে নতুন মডেল পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সময়ের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই দাম, ওয়ারেন্টি, বিক্রেতা আর নতুন প্রজন্ম আসার সময় যাচাই করে তবেই ম্যাক কেনা ভালো।

শেষ কথা

২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর অ্যাপেলের জন্য সত্যিই ব্যস্ত সময় ছিল। আগস্টে এসেছে M6 Mac mini ও নতুন Mac Studio, সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন CEO, আর কয়েক দিন পর iPhone Duo।

আগের পোস্টের মতো এখন আর প্রশ্ন করতে হচ্ছে না, “বড় কিছু কি সামনে আসছে?” কারণ সেই বড় পরিবর্তনের অনেকটাই ইতিমধ্যে ঘটে গেছে এবং অ্যাপেলের নিজস্ব ঘোষণায় নিশ্চিত হয়েছে।

এখন আসল প্রশ্ন হলো, জন টার্নাসের নেতৃত্বে আগামী কয়েক বছরে অ্যাপেলের পণ্য কৌশল কতটা বদলাবে। এর উত্তর একটি সেপ্টেম্বর আয়োজনে নয়, বরং কয়েকটি পণ্য প্রজন্ম মিলিয়েই পরিষ্কার হবে।

সর্বশেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল আকন্দ
রাসেল আকন্দhttps://technicalbd.com
রাসেল আকন্দ TechnicalBD-এর লেখক ও সম্পাদক। তিনি স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গ্যাজেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি নিয়ে সহজ ও তথ্যভিত্তিক বাংলায় লেখেন। নতুন প্রযুক্তির খবর যাচাই করে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ব্যবহারযোগ্যভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লেখার মূল লক্ষ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় পোস্ট